করোনা পরিস্থিতি: এমসি কলেজ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে শিক্ষকের আবেগঘন লেখা

মুহাম্মদ সাহাব উদ্দিন: সুপ্রিয় শিক্ষার্থীবৃন্দ, কেমন আছো? দীর্ঘদিন তোমরা তোমাদের প্রিয় ক্যাম্পাসে আসতে না পারায় ভালো থাকার কথা নয়। করোনাভাইরাস এর মতো একটি অদৃশ্য ক্ষুদ্র জীবাণুর কাছে আমরা পৃথিবীর মানুষ আজ কতো অসহায়! মানুষ ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের প্রাণী ও উদ্ভিদের বসবাসের উপযোগী করে সৃষ্টকর্তা পৃথিবী সৃষ্টি করলে আমরা মানুষরা প্রাণিকূল ও উদ্ভিদরাজির উপর কতো ই না অবিচার করে পৃথিবীকে বসবাসের অনুপযোগী করে তুলেছি। হয়তোবা এই অবিচারের জন্য পৃথিবীর সকল জীব মুক্ত বাতাসে শ্বাস-প্রশ্বাস নিলেও আমরা মানুষরা ঘরে বন্দী।

আমাদের এই প্রিয় দেশও করোনাভাইরাস এর কারণে বিপর্যস্ত। একদিকে করোনাভাইরাস এর আতংক অন্যদিকে লকডাউনের কারণে দিনমজুর, নির্মাণ শ্রমিক,রিক্সার ড্রাইভার, ভেন চালক,সবজি বিক্রেতা, ফেরিওয়ালাসহ নিম্ন আয়ের সকল মানুষ বেঁচে থাকার এক চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ছে। এই অনিশ্চিতার কবে যে অবসান হবে তা কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছে না।

অর্থনীতিবিদরা আশংকা করছেন যে করোনার এই মহামারির পর পৃথিবীতে খাদ্য সংকটের কারণে চরম অর্থনৈতিক ও মানবিক বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। এই বিপর্যয় থেকে আমাদের এই প্রিয় দেশকে বাঁচাতে অর্থনীতির শিক্ষার্থী হিসেবে আমাদেরকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। আমাদের দেশের জমি ও জলবায়ু ফসল উৎপাদন জন্য অত্যন্ত উপযোগী। অর্থনৈতিক বিপর্যয়কে মোকাবিলা করার জন্য আমাদের এই উর্বর জমিকে কাজে লাগাতে হবে। আমরা অধিকাংশই এখন গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করছি। গ্রামের সকল আবাদি জমিতে যাতে সঠিকভাবে ফসল উৎপাদন হয় সেজন্যে গ্রামের কৃষকদেরকে উৎসাহিত করতে হবে । খেয়াল রাখতে হবে যাতে কোনো জমি অব্যবহৃত না থাকে। # আমি জানি তোমরা অনেক সৃজনশীল। তোমাদের এই সৃজনশীলতাকে কাজে লাগাতে হবে পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতিতে নিজের কর্মসংস্থান নিজে সৃষ্টি করার কাজে। মনে রাখতে হবে আগামী দিনগুলো তোমাদের জন্য অনেক চ্যালেঞ্জিং। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করে দেশের মানুষের কল্যাণে ভূমিকা রাখতে হবে।

করোনাভাইরাস এর মতো মহামারি পৃথিবী পূর্বে কখনো দেখেনি। ফলে করোনাভাইরাস সম্পর্কে গ্রামের মানুষ অসচেতন ও অসতর্ক। করোনাভাইরাস এর ভয়াবহতা সম্পর্কে গ্রামের মানুষকে সচেতন করতে হবে। অবশ্যই আতংক ও গুজব ছড়ানো থেকে বিরত রাখতে হবে। গ্রামে যাতে কোনো লোক অভুক্ত না থাকে সেজন্য সকলে মিলে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে।

অবশ্যই লেখা পড়ার কথা ভুলে গেলে চলবে না। ইনশাআল্লাহ অচিরেই আমরা আমাদের পূর্বের পৃথিবী ফিরে পাবো।পূর্বের মতো মুখরিত হয়ে উঠবে আমাদের প্রিয় ক্যাম্পাস। সে পর্যন্ত করোনাভাইরাস সম্পর্কিত WHO ও বাংলাদেশ সরকারের নির্দেশাবলি মেনে চলো । পরিবারের সিনিয়র সদস্যদের প্রতি যত্নশীল হও, ভালো থাকো, নিরাপদে থাকো ।

লেখক: এসোসিয়েট প্রফেসর- অর্থনীতি বিভাগ, মুরারিচাঁদ কলেজ, সিলেট।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*