সিলেটে পৌঁছালো করোনা ভাইরাস শনাক্তকরণ মেশিন


সিলেটের খবর ডেস্ক : পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সরাসরি তত্ত্বাবধানে অবশেষে সিলেটে পৌঁছালো করোনা ভাইরাস শনাক্তকরণ পিসিআর মেশিন।

সোমবার (৩০ মার্চ) সকাল ৮টার দিকে মেশিনটি সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এসে পৌঁছায়। মেশিনটি পৌঁছার পর পরই মেডিক্যাল কলেজের একটি কক্ষে স্থাপনের কাজ শুরু হয়ে গেছে।

সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায় দৈনিকসিলেটডটকমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।


গত বুধবার সকালে আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা অনলাইনলাইভ ব্রিফিংয়ে জানিয়েছিলেন ঢাকার বাইরে ঢাকার বাইরের আরো ৭টি স্থানে করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হবে। এই তালিকায় প্রবাসী অধ্যুষিত ও করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল সিলেটের নাম ছিলো না।

বিষয়টি নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের দৃষ্টি আর্কষণ করলে তিনি জানিয়ে ছিলেন, করোনা পরীক্ষার স্থান বা কেন্দ্র সিলেটে হচ্ছে। এ নিয়ে কোন বিভ্রান্তির অবকাশ নেই। সাম্ভাব্য স্থান হিসেবে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে বেছে নেয়া হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, কী কারণে এই তালিকায় সিলেটের নাম আসে নাই সেটা আমার জানা নেই, মিসটেকও হতে পারে। তিনি বলেন বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগে যোগাযোগ করছি।

তার এই বক্তব্য নিয়ে ২৫ মার্চ ‘কোন বিভ্রান্তি নয়, করোনা পরীক্ষার স্থান সিলেটে হচ্ছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী’ শিরোনামে এক সংবাদ প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকে নানা মন্তব্য করেন ‘
সিলেটে করোনা পরীক্ষার কিট এখনো কেন এসে পৌঁছায় নি?
অথচ দেশের ৬টি স্টেশনে আজ দুপুরেই পৌছে গেছে।’ ‘কুমিল্লা, নোয়াখালিসহ বিভিন্ন স্থানে করোনা পরীক্ষা কেন্দ্র ইতোমধ্যে চালু হয়ে গেছে।’ ইত্যাদি লিখে পোষ্ট দেন।

কেউ কেউ এ নিয়ে আবার তীর্যক মন্তব্য করেন। কেউ স্যাম্পুল কালেকশন কিট এবং পরীক্ষাগারকে এক করে ফেলেন।
বিষয়টি নিয়ে আবারো পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আর্কষণ করলে  তিনি বলেন, ঢাকার বাইরে এখনও কোন স্থানে করোনা পরীক্ষাকেন্দ্র চালু হয় নাই কাজ চলছে। গতকাল মেশিন নিয়ে রাজশাহীতে তারা গিয়েছেন সেখান থেকে ফিরে সিলেট যাবেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন বলেন, এখন করোনার রির্পোট পেতে ৫ দিন সময় লাগলেও পরীক্ষাকেন্দ্র চালু হলে তা এক ঘন্টায় নেমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। করোনা পরীক্ষাকেন্দ্র স্থাপন করা একটু সময় সাপেক্ষ বিষয়, এটা স্থাপন করার পূর্বে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাসহ অনেক কিছু বিবেচনায় নিতে হয়।

আজ করোনা ভাইরাস শনাক্তকরণ মেশিনটি সিলেটে আসার পর সকল সমালোচনার অবসান ঘটলো।
এটি চালু হতে করতে কমপক্ষে আরো ৪/৫ দিন সময় লাগতে পারে।
এ মেশিনে প্রতিদিন ১০০ জনের বেশি পরীক্ষা করা যাবে। আর যদি ২৪ ঘণ্টা কাজ করা হয় তাহলে কমপক্ষে ২০০ শতাধিক রোগীর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা যাবে।

সিলেটে করোনা ভাইরাস শনাক্তকরণ মেশিন পৌঁছার খবরে জনমনে স্বস্তি এনে দিয়েছে।  সিলেটের সাধারণ মানুষ পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*