করোনাভাইরাস, বিপন্ন মানবতা ও আগামীর পৃথিবী

গোলজার আহমদ হেলাল : প্রাণঘাতি নোভেল করোনাভাইরাস জনিত কারনে সৃষ্ট মরন ব্যাধি covid-19 কে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা মহামারী হিসেবে ঘোষণা করেছে।এ পর্যন্ত বিশ্বের ১৯৯ টি দেশে এর প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে ৩১ হাজারেরও বেশী সংখ্যক মানুষ নিহত হয়েছেন এবং আরো বেশী সংখ্যক মানুষ এই ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয়েছেন।গোটা পৃথিবী আজ করোনাভাইরাসের থাবায় পর্যুদস্ত ।থমকে গেছে গোটা পৃথিবী। সমস্ত রকমের রাজনৈতিক সামাজিক ততপরতা ব্যাহত হচ্ছে।পৃথিবীব্যাপী এক নজিরবিহীন সংকট তৈরী হয়েছে।ইহা মানবতার বড় একটি বিপর্যয় ।মানবিক বিপর্যয় । মহা বিশব বিপর্যয় ।
করোনাভাইরাস আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষিত এক বৈশ্বিক মহামারী। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের স্কুল,কলেজ,বিশ্
ববিদ্যালয়, দোকানপাট, অফিস আদালত, গাড়ী ঘোড়া,যানবাহন সব কিছু বন্ধ হয়ে গিয়েছে।সারা দুনিয়ার মানুষ কার্যত আজ ঘরবন্দী।এ যেন বিনা মেঘে বজ্রপাত।
covid-19 মোকাবেলায় মেডিকেল ইকুইপমেন্ট এর স্বল্পতা, হাসপাতাল সংকট, স্বাস্থ্য কর্মীকে ঝুঁকি নিতে অনীহা প্রকাশ সহ বিভিন্ন কারণে আক্রান্ত ও সুস্থ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা কেউ দিতে পারছে না।মানবতা আজ বিপন্ন। মৃত্যুর দুয়ারে দাঁড়িয়ে।
ইতিহাস বলে যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, রাজনৈতিক কিংবা অর্থনীতিক সংকটের আঘাত ও আঘাত পরবর্তী সংকট হয়ে উঠে ভয়াবহ। নিশ্চিত করোনা পুর্ববর্তী ও করোনা উত্তর পৃথিবী এক থাকবে না।খুব ভালো কিংবা আরো খারাপ দুইটাই আছে। করোনাভাইরাসের এ আঘাত বিগত চার দশকেরও বেশী সময় থেকে পৃথিবীবাসী আচ করতে পেরেছিল।
থিওলজিকাল দ্ ষ্টি ভংগিতে দেখুন আর পলিটিকাল, ইকোনিকাল, কালচারালী পাওয়ার অধিগ্রহণের বিশব রাজনীতির দৃষ্টি ভংগীতে দেখুন পৃথিবী কিন্তু আজ মহা সংকটে।বিশব পরিস্থিতি এক ভয়াবহ সংকটকাল অতিক্রম করছে।অনেক আগেই বলা হয়েছে পৃথিবী হচ্ছে গ্লোবাল ভিলেজ বা বিশবগ্রাম।চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এ যুগে নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডারের ধ্বজা ধারী ইহুদী খ্রিস্টানদের পাশ্চাত্য সভ্যতা কালচারালী আকাশচুম্বী,উন্নতির সবর্নশিখরে।ইংগ মার্কিন,ভারত ইসরাইল রাহুগোষ্টী সারা দুনিয়ায় তাদের সংস্কৃতির গণজোয়ার সৃষ্টি করেছে।পৃথিবীর শিক্ষাংগন গুলোতে তাদের সুবিধামত বই রচনা করে পৃথিবীবাসীর জন্য পাঠ্যপুস্তক বলে নির্ধারণ করে দিয়েছে।জ্ঞান-বিজ্ঞান সভ্যতাকে তাদের ক্রীড়ানকে পরিণত করেছে।সুতরাং আজকের পৃথিবীর দ্বন্দ্ব কালচার নয়,রাজনৈতিক এবং অর্থনীতিক। এবং পরবর্তী বিশ্বের সংঘাত হবে আদর্শিক এবং সাংস্কৃতিক।
সত্তরের দশকে বিশব মোড়লরা মুক্তবাজার অর্থনীতির মাধ্যমে গোটা বিশবকে নিয়ন্ত্রণ করে আসছিল।পরবর্তীতে আজকের সংকট মোকাবেলার জন্য তারা নয়া উদারবাদী অর্থনীতিক পুঁজিবাদ কে গ্রহণ করে সারা দুনিয়ায় বিস্তার ঘটায়।কিন্তু দুনিয়ার অপরাপর শক্তিগুলোর এখানে বাধ সাধে।তারা তা প্রতিঘাত করতে চেপে বসে।এটাই বড় সংকটের সৃষ্টি করে।সেজন্য আজ থেকে চারদশক পুর্বে বিশবের ক্ষমতাধর শক্তিগুলো একে অপরকে জীবাণু অস্ত্রের হুমকী প্রদান করে।কেউ বা কাউকে পারমাণবিক মারণাস্ত্রের হুমকী দেয়।
আজকের বিশবের প্রতিটি জনপদ মুখ থুবড়ে পড়ে আছে।
কিন্তু কেন?
এর কি কোন জবাব আছে বিশব নেতাদের কাছে?
আজ নয়া পৃথিবীর সন্ধানে মানুষ।খুজছে নতুন এক পৃথিবী। যে পৃথিবীতে শান্তিময় বাতাস পাবে,তেজোদৃপ্ত আলো পাবে,পাবে শীতের কুয়াশা ও স্নিগ্ধতা, কিংবা গ্রীষ্মের রোদ্রকিরণ পাবে,পাবে নিরাপদ পানি কিংবা বাসস্থান।
এ পথিবীতে মানবতা বিধ্বংসী অনেক কাজ সংঘটিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এখানে বায়ুদূষণ, পানিদুষণ,খাবারে ভেজাল,পাহাড় ও বন ধবংস,নদী ও সাগরে হামলা,জলাশয় ভরাট, জীব হত্যাসহ শিল্প কারখানার দরুণ ইকোলজিকাল পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে।প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা আজ সারা দুনিয়া।মানব দানবের বসবাসের অনুপযোগী আজকের চরম বাস্তবতা।প্রকৃতির সীমাহীন ক্ষোভ। এছাড়া পারমাণবিক বোমার আঘাতে ক্ষতবিক্ষত লাশ, জল ও স্থলভূমি বিরান হচ্ছে হরদম।পৃথিবী হারিয়ে ফেলেছে স্বাভাবিক ভারসাম্য। এখানে মানুষের জান,মাল,ইজ্জতের কোন নিরাপত্তা নাই।যার ফল হল আজকের পথিবীর চলমান সংকট।
নয়া উদারবাদী অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখতে বিশবের ক্ষমতাশালী রাষ্ট্র গুলো কোন কোন সময় রাজনৈতিক,অর্থনীতিক কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগ কাল কে মোক্ষম অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করে।কোন কোন সময় কৃত্রিম দুর্যোগ সৃষ্টি করে সংকট তৈরীর মাধ্যমে তারা তাদের প্রতিক্রিয়াশীল নীতি গ্রহণ করে বিশবের জনপদ গুলোকে বাধ্য করে দেয়।তখন রাজনীতি, অর্থনীতি সহ গোটা জীবন যাপন ব্যবস্থা মুখ থুবড়ে পড়ে।নিজস্ব কালচার সহ স্থানিক রাজনীতি ও আর্থ সামাজিক অবস্থা স্তব্ধ করে দেয়াই এর মুল লক্ষ্য।আর এভাবেই বৈশ্বিক রাজনীতি ও অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ করাই শক্তিধর রাষ্ট্র গুলোর একটি কোশল বৈ কি?
বিশবের উন্নত – অনুন্নত দেশ নির্বিশেষে সকলেই একটি এলিট আন্তর্জাতিক কর্পোরেট মহলের কাছে জিম্মি হয়ে পড়ে।ধারণা করা হচ্ছে এ মহাসংকট ও সংকট পরবর্তী সময় কে পৃথিবীর রাজনীতিকরা কিভাবে তাদের ফায়দা লুটাতে পারে।যে কাজগুলো স্বাভাবিক ভাবে হয়ত তারা করতে পারত না।মহামারীর মত জরুরী পরিস্থিতিতে রাষ্ট্র’র ক্ষমতাকে কেন্দ্রীভূত করা খুব সহজ। এখানে গন আন্দোলনের কোন সুযোগ থাকবে না।
কোভিড ১৯ বড় আকারের সংকট কে পুজি করে পদ্ধতিগত ভাবে বৈষম্য কে গভীরতর করার রাজনীতি কি না তা আজ ভাবিয়ে তুলছে বিশবের জনগণ কে।যা অভিজাত শ্রেণী কে বিত্তশালী করবে।
করোনাভাইরাস covid-19 ই এখনকার বিশব সংকট। ইহা বিভ্রান্তি বাড়িয়ে সুরক্ষা হ্রাস পেয়েছে।এটা কোন ষড়যন্ত্র না পরিকল্পিত। ডোনাল্ড ট্রাম্প এটাকে জনস্বাস্থ্য সংকট হিসাবে দেখছেন না।তিনি বলছেন চাইনিজ ভাইরাস।জাতিসংঘ বলছে ২০০৮ সালে পুঁজিবাদী দখলদাররা new deal এর মাধ্যমে অনেক দেশকে তাদের প্রতিষ্ঠানগুলো ব্লাংক চেকে অর্থলগ্নি দিয়েছে।এগুলো পরিশোধ করতে গরীব দেশগুলো হিমশিম খাবে।
কানাডিয়ান লেখক ও গবেষক নিওক্লেইমী ২০০৭ সালে তার The Rise of Disaster Capitalism গ্রন্থে বৈশ্বিক রাজনীতিক এলিট রা যে গণবিরোধী প্রতিক্রিয়াশীল নয়া উদারনীতি গ্রহণ করতে পারে বলে ধারণা করেছিলেন তাকে সম্প্রতি তিনি এ সময়ের করোনা পুঁজিবাদ বলে অভিহিত করাটাই প্রাসঙ্গিক ও যুক্তিসংগত মনে হচ্ছে।
তাহলে আমরা কি চীন কিংবা আমেরিকার বলি হতে চলেছি?
আমরা কি আরেকটি প্রজন্মের অপেক্ষায় আছি যে প্রজন্ম নয়া পৃথিবী গড়বে?
আমরা কি একটি ত্বরিত বিশ্বযুদ্ধ’র কবলে পড়ে গেছি?
চীনের উহান প্রদেশ থেকে ছড়িয়ে পড়া সেই ভাইরাসটি প্রাকৃতিক ভাইরাস না কোন গবেষনাগারে প্রস্তুত হয়েছে জৈব অস্ত্র হিসাবে?
এ প্রশ্নগুলো অবান্তর নয়।এ বিষয়গুলো পর্যালোচনা ও গবেষণার দাবী রাখছে।
করোনাভাইরাস নিয়ে মার্কিনযুক্তরাষ্ট্র বরাবরই চীনকে দোষারোপ করছে।বলেছে এটি চাইনিজ ভাইরাস। আর চীন এটিকে আমেরিকার সেনা সদস্য কতৃক উহানের ছড়ানোর বিষয়টিও বার বার আলোচনায় নিয়ে আসছে।
প্রকৃত পক্ষে এটা কি চীন এবং আমেরিকার রাজনৈতিক খেলা না কি অর্থনৈতিক খেলা?
অথচ এর কারণে আজ গোটা বিশবব্যবস্থা ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।বিশব লন্ডভন্ড মৃতপ্রায়।
একটি বিষয় খেয়াল করুন, চীন খুব রাতারাতি উহানের ভাইরাসঘটিত প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণ করেছে।অথচ উহান ছাড়া চীনের অন্য কোন রাজ্যে এর বিস্তার হয়েছে বলে জানা যায় নি।এটি একটি প্রশ্ন থেকেই যায়।অপর দিকে চীনারা আজ সারা বিশ্বে মেডিকেল ইকুইপমেন্ট পাঠাচ্ছে।এটিও প্রশ্নের মধ্যে নিয়ে আসা অমুলক মনে করি না।
জানা যায়,১৯৮১ সালে The Eyes of Darkness বইয়ে যে ভাইরাসটির কথা বিবরণ দেয়া আছে অনেকেই বলছেন চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া ভাইরাস সম্পর্কিত বিস্তারিত বর্ননা মুলত সেখানে করা হয়েছে।বর্নিত ভাইরাসের কোন প্রতিষেধক থাকবে না।এটি চাষ করা হচ্ছে আগামীতে গরীব মেরে ধনী লোকদের পৃথিবী গড়তে।যাহা ২০২০ সালে ব্যবহার করবে বলে উল্লেখ করা হয়।২০০৮ সালে The End of Eyes গ্রন্থে পৃথিবীতে এরকম একটি রোগের প্রাদুর্ভাব হবে যা নিউমোনিয়ার মত।এবং যে ভাইরাস টির কারনে এ রোগ হবে তা ফুসফুস ধবংস করে দিবে মানুষের।এবং এটিও ২০২০ সালে আসবে বলে ধারণা ব্যক্ত করা হয় বইটিতে।প্রায় এক দশক আগে ভারত একটি সিনেমা বানায় যেখানে করোনাভাইরাস আকৃতির মত একটি ভাইরাস এর উল্লেখ মিলে।২০১৫ সালে বিল গেটস তার ভাষণে এর উল্লেখ করেন এবং ১৯৯০ সালে সাদ্দাম হোসেন কে করোনাভাইরাস দিয়ে মেরে ফেলে দেয়ার হুমকি দেয় আমেরিকা এ সংক্রান্ত খবর মিডিয়ায় আসছে।১৯৮৯ সালে মার্কিনমুলুকে জৈব অস্ত্রবিরোধী আইন পাস হয়।সেই আইন প্রস্তুতকারী বিজ্ঞানী করোনাভাইরাস কে চীনারা গবেষনাগারে চাষ করছে বলে অভিমত দেন।এবং অসাবধানতা বশত উহান ল্যাব থেকে তা লিক হয়ে যায় উল্লেখ করেন।
এ সকল তথ্য উপাত্ত কতটুকু সঠিক তা প্রমাণ করবে আগামীর বিশব।তবে বিশব রাজনীতির নীতি নির্ধারকদের আচরণে এগুলোর পাল্টাপাল্টি সমর্থন পাওয়া যায়।
চীন বরাবরই আমেরিকার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করলেও এটি প্রাকৃতিক না পৌরাণিক না গবেষণাগারে প্রস্তুত তার জন্য এখনো কিছু বলে নি।অপরদিকে ইসরাইল এবং ভারত মার্কিনীদের বক্তব্য কে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে।ইসরাইলি গোয়েন্দা দাবি করছে এ ধরনের ভাইরাস চীন উহানে চাষ করে।একাধিক ল্যাবরেটরিও তাদের আছে।আবার ইরান এর কট্রর বিরোধিতা করে বলছে,এ ভাইরাসটি মার্কিনযুক্তরাষ্ট্র’র জৈব মারণাস্ত্র। সারা দুনিয়া চিরকাল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইরান,চীন সহ সমগ্র বিশবে ছড়িয়েছে তারা।মরণযজ্ঞ করতে।
সে যাই হোক,এটি একটি মারাত্মক দুর্যোগ বিশ্ববাসীর জন্য।বিশ্বসভ্যতার পরিবর্তন ঘটবে, হবে, এটাই প্রকৃতির অমোঘ বিধান।আগামীর পৃথিবীর কে নেতৃত্ব দিবে এটিও বিবেচনায় আনতে হবে এখন।
মানবসভ্যতা কে তৃতীয় আরেকটি বিশ্বযুদ্ধের দিকে ধাবিত করছে বলে অনেকের ধারণা। মার্কিনযুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক বস্তুবাদী সভ্যতা পতনের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়েছে।চীন-ভারত যুদ্ধ হবে,মধ্যপ্রাচ্য আরো টালমাটাল হবে।দুনিয়ার সম্পদ নিয়ে (তেল,গ্যাস,সোনা) পরাশক্তি গুলো একে অপরকে মারবে,দমানোর চেষ্টা করবে।জেনোসাইড চালাবে।
অপরদিকে বিশব অর্থনীতি হবে বিপর্যস্ত। বিপর্যস্ত অর্থনীতিতে কোন দেশেই স্থিতিশীল রাজনৈতিক ব্যবস্থা থাকবে না।শিল্পায়ন ধ্বসে পড়তে পারে।বিত্তশালী আর শ্রমিকদের মাঝে তুমুল সংঘর্ষ হবে।শ্রমিকরা কাজ পাবে না।মানুষের জীবিকা নির্বাহের উপায় থাকবে না।জনগণ সরকারবিরোধী হয়ে পড়বে।রাষ্ট্র গুলো লাঠির জোরে ক্ষমতায় ঠিকে থাকার চেষ্টা করবে।তখন রাষ্ট্র আভ্যন্তরীণ গোলযোগে পড়বে।যার ফল হবে গৃহযুদ্ধ।
লক্ষ্য করে দেখুন চলমান এই সংকটের সময়ও যেখানে মানুষ খাবার পাচ্ছে না, স্বাস্থ্য সেবা অপ্রতুল সেখানে মুসলিম অমুসলিম রাষ্ট্র গুলোর রয়েছে বিশাল অস্ত্রের ভান্ডার।এর মানে মানবতা হিংস্র হয়ে উঠছে।এর প্রথম পদক্ষেপ করোনাভাইরাস নামক জৈব অস্ত্র অনেকের ধারণা। সংকটাপন্ন এই বিশব পরিস্থিতিতে ও চলমান এই যুদ্ধে বেনিফিসিয়ারী কারা।চীন বা যে কেউ বিশবরাজনীতিতে যেটাই ক্ষমতাশালী হয়ে উঠুক উপকারভোগী কিন্তু ইহুদীরা।আর মুসলমানরা আত্নিকভাবে হবে বেনিফিসিয়ারী যেটা নতুন পৃথিবীর লড়াইয়ে কাজে লাগবে।
যে সকল ব্যাক্তিরা বই লিখেছেন তথ্য দিয়েছেন অনেক আগেই, এরা কারা?
এদের পরিচয় কি?
এরা কি ফ্রিমেসন বা ইলুমিনাতির সদস্য?
হয়ত তারা আজকের জৈব অস্ত্রের পরিকল্পনার সাথে জড়িত,অথবা তারা জানতেন,অথবা পরীক্ষিত অথবা ইলহাম প্রাপ্ত হয়ে লিখছেন।তা আল্লাহ ভাল জানেন।
আজকের মানবতা ক্ষতবিক্ষত। একথা উপলব্ধি ও ভাবনার বিষয়, আঘাতের বিষয়গুলো পরিবর্তনশীল হয় গভীরভাবে। হয় আমরা জেগে উঠব যা অসম্ভব ছিল।অথবা হারিয়ে যাব।হয় প্রগতিশীল বিজয় নতুবা পতন।এখানে বিকল্প মানসচিত্র কে আকড়ে যারা এগিয়ে যাবে তারাই ভবিষ্যৎ গড়বে।অর্থাৎ ভিন্নভাবে সমাজ কে সংগঠিত করতে পারার মত একাগ্রতা ও রুপকল্প নিয়েই আগামী পৃথিবী গড়ে ঊঠবে।নির্মিত হবে নতুন সভ্যতা।ইসলাম ও মানবিকতার সাথে আজকের সভ্যতার সংঘাত যেমন চলছে ঠিক তেমনি আগামীর পৃথিবীর সভ্যতার সংঘাতের মধ্যে মানবীয় মতবাদ নির্ভর সভ্যতা গুলোর নিঃশেষ হবে।গড়ে উঠবে এক আলোকোজ্জ্বল উন্নত সভ্যতা।সবুজের পৃথিবী।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*