করোনা মহামারী : বিশ্ব সভ্যতার অত্যাসন্ন পরিবর্তন কোন দিকে?

সিরাজুল ইসলাম শাহীন : করোনা মহামারী সর্বগ্রাসী রূপ ধারণ করছে। অতি দ্রুত সারা দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়ছে। ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা সর্বত্র। অনেকটা অসহায় আত্মসমর্পণ।পরাশক্তি ও বিজ্ঞান সহ মানবীয় ক্ষমতার কেন্দ্র সমূহের হাহাকার ভাবিয়ে তুলছে চিন্তাশীল মহলকে । আন্তর্জাতিক জার্নাল গুলোতে জমা হচ্ছে হাজারো গবেষণা পত্র। কি ঘটতে যাচ্ছে পৃথিবীর ললাটে ? তাহলে কি বিশ্ব – ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন অত্যাসন্ন ? নতুন সভ্যতার ড্রাইভিং হুইল যাচ্ছে কোন দিকে ?

পৃথিবীর ইতিহাসের এটি বাস্তবতা। সভ্যতার ধারকদের সীমালঙ্গন নিজেদের পতন তরান্বিত করে। অভ্যুদ্বয় হয় নতুন সভ্যতার। চলমান আধুনিক সভ্যতায় সকল রেড লাইন অতিক্রম করা হয়েছে অবলীলায়। বিশেষত অশ্লীলতা ও জুলুমের সয়লাবে সীমালংগনেরও কোন সীমা পরিসীমা রক্ষা করা হয়নি। আর এখানেই অনিবার্য করে তোলা হয়েছে বর্তমান ওয়ার্ল্ড – অর্ডারের পরিবর্তন। এসেছে নভেল করোনা – কবিড ১৯। অপ্রতিরূদ্ব ঘাতক অণুবীক্ষণিক ভাইরাস। নূহের প্লাবন , আদ -সামুদ জাতির ধ্বংসের মত এখানেও মানুষ নীরব দর্শক – নিয়তির শিকার । যেন সকল শক্তি – ক্ষমতা সিজ করা হয়েছে। সময়ের ব্যবধানে হয়তো মানুষের হাতে এরও নিয়ন্ত্রণ এসে যাবে কিন্তু ইতিমধ্যে যা ঘটার তা সম্পন্ন হয়ে যাবে।

সময়ের চরম এ ক্রান্তিলগ্নে পরিস্থিতির বিশ্লেষণ করলে যা স্পষ্ট হয়ে উঠে :—-

১. মহামারীতে লাশের সংখ্যা বাড়লেও আসল ধাক্ষা আসবে অর্থনীতির উপর। চলমান সংকট আরো কিছু দীর্ঘ হলে বর্তমান সভ্যতার ভোগবাদী অর্থনীতির স্থুল কাঠামো চূর্ন-বিচূর্ণ হয়ে যেতে পারে। দুর্ভিক্ষ অবধারিত হয়ে উঠতে পারে। পতনোন্মুখ পাশ্চাত্য সভ্যতা তখন অস্তিত্বের লড়াইয়ে অবতীর্ন হবে।

২. শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে নতুন শক্তির আবির্ভাব হবে। চায়না ও রাশিয়ার সাথে মুসলিম শক্তির উখ্যানেরও সুযোগ রয়েছে। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ,মানবিক মূল্যবোধ আর সঙ্কট মোকাবেলায় যোগ্যতার প্রমান দিয়েই এগিয়ে যেতে হবে। আর এ রেসে বিজয়ী শক্তিই হবে নতুন সভ্যতার কান্ডারী।

৩.মারণাস্ত্রের প্রতিযোগিতা আধুনিক সভ্যতাকে করেছে অমানবিক। বিজ্ঞানের সকল অর্জনকে করেছে অনর্থ। এই আত্বঘাতী সর্বনাশা পথ পরিহার করা ছাড়া পরিত্রানের রাস্তা নেই। সকল জ্ঞান -গবেষণা শুধুমাত্র মানবতার কল্যাণ – উৎকর্ষে নিবেদিত করতে হবে।

এই বিপর্যয়ে বিশ্ববাসীর মধ্যে সর্বশক্তিমান স্রষ্টার অস্তিত্ব -ক্ষমতা নিয়ে নতুন করে চিন্তার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। মুসলিম সমাজ এটি কাজে লাগাতে পারে । কিন্তু এর জন্য দরকার নির্মূহ আত্বপর্যালোচনা , দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা , লক্ষ্যবেদী উদ্দোম ও নিরবিচ্ছন্ন তৎপরতা। মনে রাখতে হবে সভ্যতার এ লড়াইয়ে অবস্থান কিন্তু অনেক পিছনে।

প্রতিটি মুহূর্ত কাজে লাগাতে হবে আর অন্তত ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এ লড়াইয়ের উপযুক্ত করে তৈরী করতে হবে।দায়িত্ববান রাষ্ট্রপ্রধান , রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও দায়ী ইলাল্লাহর ঝাণ্ডাবাহীদের উদার ও তড়িৎকর্ম হয়ে দায়িত্ব নিতে হবে। জ্ঞান – বিজ্ঞান – গবেষণায় অগ্রাধিকার দিতে হবে। প্রতিভার বিকাশ ও লালনে যত্নবান হতে হবে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা , ন্যায়বিচার ও সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে।

আজকের দিনটি জীবনের শেষ দিন হতে পারে এ অনুভূতি নিয়ে সর্বাত্বক সক্রিয় হতে হবে। মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের ক্ষমা করুন , দুনিয়ার সকল বালা -মুসিবত – সমস্যা থেকে রেহাই দিন এবং বিনা হিসাবে জান্নাত নিশ্চিত করুন । আমিন।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*