রাজার রাজত্বে ধুমকেতুর বিদায়!

এ.এইচ.আরিফ: ধূমকেতুর মত আবির্ভাব। আর রাজ্য জয় করে রাজার মত বিদায়। বলছি মাশরাফি বিন মর্তুজা কৌশিক এর কথা। বাংলাদেশের ক্রিকেট অগ্রযাত্রার প্রধান সেনাপতি। রোল মডেল। মহাতারকা। ভয়ডরহীন ক্রিকেট জাগরণের নায়ক। আমাদের ক্রিকেট বীর।

মনে আছে সময়টা ১৯৯৯ সাল হবে একটি জাতীয় দৈনিকে নিউজ দেখলাম এক কিশোরকে নিয়ে। নাম কৌশিক। জাতীয়লীগে গতির ঝড় তুলছে নড়াইলের কৌশিক নামের কিশোরটি। ঢাকায় খালার বাসায় বেড়াতে গিয়েছিলাম। সে সময় জাতীয় লীগের ম্যাচ ছিলো বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে। একটু আধটু ক্রিকেট খেলতাম তাই ক্রিকেটের ভক্ত ছিলাম। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে ম্যাচ দেখতে গেলাম। এক কিশোর ছেলে লম্বা রানআপে বল করছে। একের পর এক বাউন্সার আর গতিতে নাস্তানুবাদ হতে দেখলাম সে সময়ের বাঘা বাঘা ব্যাট্সমেনদের। সেদিনই বুজেছিলাম বাংলাদেশ ক্রিকেটের অমূল্য সম্পদ হতে যাচ্ছে এই কিশোর।

কিশোর কৌশিক এখন মাশরাফি। বাংলাদেশ ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন। শুরুর দিকের সেই গতি আর আগুনঝরা বোলিং অবশ্য আর পরবর্তীতে ধরে রাখতে পারেননি। বারবার ইনজুরিতে পড়ে ক্ষতি হয়েছে ক্যারিয়ারের। বোলিং একশনও পরিবর্তন হয়েছে। এতকিছুর পরও কামবেক করেছেন রাজার মত। ইনজুরি থেকে ফিরে যে বোলিং করতেন কখনো মনে হতোনা ছুরিকাঁচির নিচে ছিলো মাসখানেক আগে। একজন মাশরাফি এমনই। সাহস মনোবল আর আল্লাহ প্রদত্ত শাররীক সক্ষমতা এই তিনের সমন্বয়ে মাশরাফি অন্যান্য।আর বারবার ছুরিকাঁচির নিচে না গেলে অন্য এক মাশরাফিকে পেত ক্রিকেট বিশ্ব।

সিলেটে মাশরাফির অধিনায়ক অধ্যায় শেষ হলো। হাজার হাজার দর্শক মাঠে উপস্থিত থেকে বিদায় জানালো এই ক্রিকেটবীরের অধিনায়কত্ব। বিদায় জানালো ক্রিকেটার থেকে শুরু করে বিসিবি কর্মকর্তা। মাশরাফির মত একজন কিংবদন্তিকে বিদায় জানাতে পেরে সিলেটবাসীও গর্বিত। বাংলাদেশ ক্রিকেটের এই রত্ন দেশের ক্রিকেট এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখবে সেটাই সবার প্রত্যাশা।

এদিকে বাংলাদেশ ক্রিকেটের পেছনের ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে সবার প্রথমেই ক্রিকেট দলের চেঞ্জমেকারের নাম মাশরাফি বিন মতুর্জা যে চলে আসবে সেটা নি:সন্দেহে । বাংলাদেশ দলকে এক সুঁতোয় গেথে রাখার কাজটা ভালোভাবেই করতে পারেন তিনি। তার নেতৃত্বে যে বাংলাদেশ ক্রিকেটের উন্নতি হয়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। বাংলাদেশের সফল একজন অধিনায়ক তিনি। প্রায় দেড় যুগের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে দুই অ্যাংকেল মিলিয়ে ১০ বার ডাক্তারের ছুরির নিচে নিজেকে সপে দিয়েছেন মাশরাফি। কিন্তু তারপরেও তাকে কেউ ধরে রাখতে পারেনি। দলকে ভালোবেসে, দেশকে ভালোবেসে দেশের জন্য লড়ে যাচ্ছেন তিনি। তাইতো তিনি অন্যদের তুলনায় আলাদা। গোটা দুনিয়া জুড়েই রয়েছে তার খ্যাতি।

অতিতে তাকে নিয়ে বলা কিংবদন্তি তারকাদের কিছু উক্তি-বলেছিলেন বিদায়ের বেলায় আরেকবার পাটকদের মনে করে দিতে চাই।

  • আমার দুর্ভাগ্য, আমি মাশরাফির সাথে একই টিমে খেলতে পারিনি- ব্রায়ান লারা( সাবেক অধিনায়ক, উইন্ডিজ)।
  • পৃথিবীতে দুই ধরণের বোলার আছে। এক ম্যাশ আর অন্যটি বাকি সব- গ্লেন ম্যাকগ্রা( কিংবদন্তী বোলার, অস্ট্রেলিয়া)।
  • আমাদের সৌভাগ্য আমরা মাশরাফির যুগে জন্মেছিলাম- আমিনুল ইসলাম বুলবুল( সাবেক অধিনায়ক, বাংলাদেশ)।
  • আমার সৌভাগ্য কোনোদিন মাশরাফির বল মোকাবেলা করতে হয়নি- স্যার ভিভ রিচার্সড(কিংবদন্তী, উইন্ডিজ)।
  • অধিনায়ক তো অনেকেই আছেন, মা আছে কয়জন?( ম্যাশকে ইঙ্গিত করে)- অ্যাডাম গিলক্রিস্ট(উইকেট কিপার, অস্ট্রেলিয়া)।
  • আপনি যদি মাশরাফির পুরো এক ওভার খেলতে পারেন তার মানে একদিন আপনি লিজেন্ড হবেন- ভিভিএস লাক্সমান(অধিনায়ক, ভারত)।
  • নেতা, মানুষ আর খেলোয়াড় এই ৩টি শব্দ যোগ করলে মাশরাফির মতো কোনো ক্রিকেটার এর আগে ক্রিকেটবিশ্ব কেউ দেখেনি- নাসের হোসাইন(সাবেক অধিনায়ক, ইংল্যান্ড)।
  • তুমি আমাকে একজন মাশরাফি দাও, আমি তোমাকে এগারোটা ‘সোনার টুকরা'(খেলোয়াড়) উপহার দিব- শন পলক(সাবেক অধিনায়ক, দক্ষিন আফ্রিকা)

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*