ক্রসফায়ার বনাম বিচার ব্যবস্থা

কাজী নুসরাত শরমীন : ক্রসফায়ারই যদি সমাধান হয়, তাহলে আইন প্রণেতারা সংসদে বসে কী করবেন? ক্রসফায়ার আসলে কী? সাধারণত আমরা আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্রিফিংয়ে ক্রসফায়ারের যে বর্ণনা শুনি, তা তো আসলে অনিচ্ছাকৃত কিন্তু অপারগ হয়ে গুলি করতে বাধ্য হওয়া। তাই নয় কি? কিন্তু বাস্তবতা হাঁটছে উল্টো পথে। ক্রসফায়ার আসলে যে ক্রসফায়ার নয়, এটা যে আমাদের দেশে বিচার বহির্ভূত পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, সে কথা দিনের আলোর মতোই স্পষ্ট। নইলে আমজনতা নাকডোবা দুর্নীতি, খুন, ধর্ষণের মতো দুরাচার এর হাত থেকে রেহাই পেতে ক্রসফায়ার এর দাবি জানায় কেনো ??

আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও কখনো কখনো অপরাধীকে ক্রসফায়ারের ভয় দেখায়, যা খবরের কাগজে হরহামেশাই দেখি। এখন দেখছি খোদ পার্লামেন্ট মেম্বাররাও মহান সংসদে বসে ক্রসফায়ার এর কথা বলছেন! ওই মহান সংসদ প্রতিটি নাগরিকের ন্যায়বিচার পাওয়ার নিশ্চয়তা দেয়। ওখানে বসে সময়োপযোগী ও কার্যকর আইন প্রণয়ন করা একজন আইন প্রণেতার কাজ। বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হচ্ছে বিচারব্যবস্থার দুর্বলতা। একটি দেশে যখন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়, তখন জনগনকে সাময়িক চোখের আরাম দিতে শাসকরা বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে স্বাগত জানায়। এটা রাষ্ট্র পরিচালনার ব্যর্থতা ঢাকতে মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।

এই যে ধর্ষণ মহামারী রূপ নিল, যা থেকে কোলের শিশুটিও নিরাপদ নয়, এই ধর্ষণ প্রতিরোধে একটি কার্যকরী আইন নেই আমাদের। আইনের ফাঁক গলে সহসাই জামিন পেয়ে যান আলোচিত ধর্ষণ মামলার দুর্ধর্ষ আসামিও, এমন নজির অহরহ। অথচ ধর্ষণের অপরাধ জামিনযোগ্য নয়! ধর্ষণের অপরাধ প্রমাণে শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান নেই! এই যে আইনের এতো এতো দুর্বলতা এসব সংস্কারের কোনো উদ্যোগ দেখি না। তাই ক্রমবর্ধমান ধর্ষণের অপরাধ ঠেকাতে আইন প্রণেতাদের অসহায় আত্মসমর্পণ ক্রসফায়ার অর্থাৎ বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের কাছে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে না পারার ভয়াবহতার চিত্র হচ্ছে এটা।

সুত্র- পূর্বপশ্চিমবিডি

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*