সিলেটে সিপিডি’র আঞ্চলিক সংলাপ: ‘বাজেট বাস্তবায়নে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার তাগিদ’

by News Room

ডেস্ক: সিলেটে আয়োজিত সিপিডি’র আঞ্চলিক সংলাপে বক্তারা বাজেট বাস্তবায়নে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সংলাপের ওপর জোর দিয়েছেন। তারা বলেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা না এলে বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন হবে। ব্যাহত হবে প্রবৃদ্ধি অর্জনের ধারাও। জবাবে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, আমরাও সংলাপে আগ্রহী। তবে, সংবিধান মেনে এ আলোচনা হতে হবে। অন্যথায়।
রোববার বিকালে নগরীর রোজভিউ হোটেলে ‘জাতীয় বাজেট ২০১৪-১৫ পর্যালোচনা’ শীর্ষক এ সংলাপের আয়োজন করে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ(সিপিডি)। সহযোগিতায় ছিল সচেতন নাগরিক কমিটি(সনাক)। সিপিডি’র নির্বাহী পরিচালক প্রফেসর মোস্তাফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় এতে প্রধান অতিথি ছিলেন-অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন-সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. আমিনুল হক ভূইয়া। সম্মানিত অতিথি ছিলেন সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. শহীদুল ইসলাম। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির অতিরিক্ত রিসার্চ ডাইরেক্টর ড. খোন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।
আলোচনায় অংশ নেন, শাবির সহযোগী অধ্যাপক প্রফেসর ড. সাদেকুন নবী চৌধুরী, ড. মো. গনি, প্রফেসর ড. আবুল ফতেহ ফাত্তাহ, সুজন সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী, অধ্যাপক ড. তাহমিনা ইসলাম, এডভোকেট আব্দুল হাই কাইয়ুম, কমরেড সিকন্দর আলী, নাসিম হোসাইন, এমএ সালাম চৌধুরী, আসাদুজ্জামান সায়েম, লায়েছ উদ্দীন, রজব আলী খান, অধ্যাপক শাহনাজ হক, প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ ও সাংবাদিক শাহ মুজিবুররহমান জকন।
অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, এই সরকার গণতান্ত্রিক সরকার। সরকারের শক্ত জনভিত্তি আছে। আমাদেরকে ধাক্কা দিয়ে কেউ ফেলতে পারবে না।  প্রতিযোগিতামূলক গণতন্ত্রে আমরা বিশ্বাসী। তিনি বলেন, আমরা ডায়ালগ চাই, এর প্রয়োজনও আছে। কিন্তু,সংবিধানের মধ্যে থেকে কথা বলতে হবে। রুল অব দি গেইম মেনে চলতে হবে। আর এসব মানলে ডায়ালগ, ট্রায়ালগ, মানিলগ হতে পারে। তিনি বলেন, এ বাজেট প্রয়োজনের তুলনায় বিশাল নয়, ইচ্ছে করেই উচ্চাভিলাষী বাজেট তৈরি করা হয়েছে। সামষ্টিক অর্থনীতির পিলার আছে। রেমিটেন্স প্রবাহ, রিজার্ভ ভালো। বিশ্বমন্দার মধ্যে আমরা অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে গেছি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাপের খেলা সাপুড়েই খেলতে পারে। জেনে-শুনে, মাপজোক করে কাজ করছি। গত পাঁচ বছর বিদ্যুৎসহ অন্যান্য খাতে ব্যাপক সাফল্য এসেছে। পাঁচ বছরে কৃষিতেও কোনো ক্রইসিস হয়নি। জনগণ তিনবেলা পেট ভরে ভাত খেতে পেরেছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা দেশকে সাংস্কৃতিক-অর্থনীতির মূলধারায় এগিয়ে নিতে চাই। ১২টি প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ শুরু করছি। আমরা পদ্মা সেতু বানাব। আপনারা ২০১৮ সালে সেতু দিয়ে গাড়ি নিয়ে পার হবেন। আগামী প্রজন্মকে আস্থা দিতে চাই। ৬০ বছর পর রূপপুর আণবিক শক্তি প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে বলেও মন্তব্য করেন তিন্ ি
তিনি বলেন, সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক চার লেন হওয়া খুব জরুরি। তবে একটু সময় লাগবে। এনবিআর এর সংস্কার কাজে হাত দিয়েছি। যার ফলে দুর্নীতি কমবে।
এম এ মান্নান বলেন, আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২১ মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। ভারত ছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার বাকি দেশগুলোর চেয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতির ভিত শক্ত। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা ‘টেইক অফ’ এর দ্বারপ্রান্তে আছি।
মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে হবে। ভ্যাট প্রবর্তনের জন্যে তিনি সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের কথা স্মরণ করেন। জেলা বাজেটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জেলা বাজেটের অর্থ কিভাবে ব্যয় হবে এর কোন ব্যাখা নেই। সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ চালু করা যাচ্ছে না শিক্ষক নিয়োগ না করার কারণে। নগরীর পানি সঙ্কটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিভিন্ন প্রকল্প সময়মত বাস্তবায়ন না হওয়ায় নগরীর ৭০ ভাগ মানুষ এর সুবিধা পাচ্ছেন না।
আরিফুল হক আরও বলেন, বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সিলেটের মানুষককে সরকারিভাবে উৎসাহিত করতে হবে। দেশকে এগিয়ে নিতে হলে সবার আগে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে হবে।
মূল প্রবন্ধে ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম ঘোষিত বাজেটের কয়েকটি ক্রিটিক্যাল ইস্যুর কথা তুলে ধরেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, জিডিপি গ্রোথ, ট্যাক্স প্রশাসন সংস্কারের মাধ্যমে রাজস্ব আহরণ, পাবলিক এক্সপেনডিচার, দীর্ঘ মেয়াদী উন্নয়ন পরিকল্পনা, বিনিয়োগ কমে যাওয়া এবং জেলা বাজেট।
সিলেট-ঢাকা হাইওয়েকে চার লেনে উন্নীত করা। সিলেট স্পেশাল ইকোনমিক জোন দ্রুত বাস্তবায়ন করণ, পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন এবং শিক্ষাখাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
মাজার জিয়ারতে এসে সিলেটে তরুণী শ্লীলতাহানির শিকার
সিলেট প্রতিনিধি: মাজার জিয়ারতে এসে সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় ঢাকার এক কিশোরী শ্লীলতাহানির শিকার হয়েছে। সে ঢাকা মীরপুর ৪ নং রোডের ৭ নং সেকশনের ২৪৪ নং বাসার আতাউর রহমানের মেয়ে। এ ঘটনায় পুলিশ আল-আমিন ভিডিও দোকানের মালিক আল আমিনকে(৩৫) আটক করে। দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মুরসালিন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ভিকটিমকে উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। তার ভাই ঢাকা থেকে আসার পর মামলা নেয়া হবে বলে জানান ওসি।
জানা যায়, সিলেট হযরত শাহজালাল (রঃ) এর মাজার জিয়ারত করার জন্য গত ২১ জুন শনিবার রাতে মেয়েটি ঢাকা থেকে সিলেট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে এসে নামে। গাড়ী থেকে নেমে শাহজালাল (রঃ) এর মাজারের উদ্দেশ্যে পায়ে হেঁটে রওয়ানা হয় সে। পুরাতন রেলস্টেশনের রাস্তার সম্মুখে যাওয়া মাত্র ২ বখাটে যুবক তার গতিরোধ করে এবং ফুসলিয়ে তাকে বাবনা রোডস্থ আল-আমিন ভিডিও এর দোকানে নিয়ে যায়। এরপর তারা মেয়েটির নগ্ন ছবি উঠাতে শুরু করে। মেয়েটি আপত্তি করলে তাকে বিভিন্ন ধরণের ভয়-ভীতি দেখায় দুই যুবক। তারপর সারারাত মেয়েটিকে বন্দী করে রাখে ঐ ভিডিও দোকানে। মেয়েটি কৌশলে তার ভাইকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিষয়টি জানায়। তার ভাই ঢাকা থেকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে দক্ষিণ সুরমা থানায় বিষয়টি জানায়। তারপর দক্ষিণ সুরমা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই শফিকুল ইসলাম খান ও এএসআই উৎপল সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে রোববার বেলা ১২ টার দিকে ঘটনাস্থলে যান। তারা ঐ ভিডিও দোকানের সাটার লাগানো পেয়ে সাটার তুলে দোকানের ভেতর থেকে মেয়েটিকে উদ্ধার করেন। তারা দোকানে থাকা দক্ষিণ সুরমা থানার গোপশহরের বাসিন্দা সিরাজ মিয়ার ছেলে ভিডিও দোকানের মালিক আল-আমিনকে (৩৫) আটক করে পুলিশ। আল আমিনের সহেযাগী জুয়েল এর আগেই পালিয়ে যায়। পালিয়ে যাওয়া জুয়েল বালাগঞ্জ থানার সুলতানপুর গ্রামের মৃত মজম্মিল আলীর ছেলে বর্তমানে খোজার খলার আতাউর রহমানের বাড়ীর ভাড়াটিয়া।

You may also like

Leave a Comment


cheap mlb jerseyscheap nhl jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseys