সিলেটে বছরের শুরুতে বাড়তি বাসা ভাড়ার চাপে দিশেহারা ভাড়াটিয়ারা :নেই মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা

by News Room
সাকিব আহমদ মিঠু, মঙ্গলবার, ১৪ জানুয়ারি ২০১৪ : সিলেটে নতুন বছরের শুরুতেই বাসা ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছেন মালিকরা। বাড়তি ভাড়ার চাপে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ভাড়াটিয়ারা। অনেক মালিক ৩০ থেকে ৬০ ভাগ বাসা বৃদ্ধি করেছেন। এতে সবচেয়ে বড় বিপাকে পড়েছেন মধ্যবিত্ত ও চাকুরিজীবীরা। ভাড়াটিয়াদের অভিযোগ মানুষের আয় বাড়েনি, উপরন্তু বেড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম। এর মধ্যে বাসা ভাড়া বৃদ্ধি ‘মরার উপর খাড়ার ঘা’র সমান। তারা একসাথে এত বেশি বাড়া বৃদ্ধি অমানবিক বলেও দাবি করছেন। ভাড়াটিয়ারা মনে করেন সরকারী উদ্যোগে মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা থাকলে মালিকরা তাদের একতরফা সিদ্ধান্তে এভাবে বাসা বাড়া বৃদ্ধি করতে পারতেন না।
বাড়ি ভাড়ার ব্যাপারে সরকারের নীতিমালা থাকলেও সিলেটে কোন বাসার মালিকই এই নীতিমালার ধার ধারেন না। বাসা ভাড়া নির্ধারণ ও বৃদ্ধি মালিকপক্ষ তাদের মর্জি মাফিক করে থাকেন। কোন ভাড়াটিয়া এর প্রতিবাদ করে থাকলে তাকে বাসা থেকে বের করে দেয়া হয়।

কয়েকজন ভাড়াটিয়ার সাথে আলাপ করে জানা যায়, বছরের শুরুতে মালিকরা দেড়গুনের চেয়েও বেশি বাসা ভাড়া বৃদ্ধি করেছেন। কাজিটুলার মাসুদুর রহমান জানান- তিনি একটি ঔষধ কোম্পানিতে চাকুরি করেন। দুই বেডরুমের একটি বাসায় তিনি ৭ হাজার টাকা ভাড়া দিয়ে থাকতেন। নতুন বছরের শুরুতে মালিক জানিয়েছেন এখন থেকে তাকে ১১ হাজার টাকা ভাড়া দিতে হবে।

নগরীর আগপাড়ার সরকারী চাকুরিজীবী সিফাত চৌধুরী জানান- তার বাসা ভাড়া ১২ হাজার টাকা থেকে মালিক বাড়িয়ে ১৬ হাজার টাকা করেছেন। একসাথে ৪ হাজার টাকা বাড়া বৃদ্ধির কারণ জানতে চাইলে মালিক তাকে উত্তর দিয়েছেন ‘ভাড়াটিয়াকে বাসা ভাড়া বৃদ্ধির কৈফিয়ত দিতে তিনি রাজি নন। বাড়তি ভাড়া না দিতে পারলে বাসা ছেড়ে দিতে হবে।’

এদিকে, বাসার মালিকরা ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে তাদের ইচ্ছামাফিক বাড়তি ভাড়া আদায় করলেও সে অনুযায়ী হোল্ডিং ট্যাক্স ও আয়কর দিচ্ছেন না। সরকারী শুল্ক ও কর দেয়ার সময় তারা বাসা ভাড়া থেকে প্রাপ্ত আয় নূন্যতম দেখাচ্ছেন। এতে সরকারও রাজস্ব আদায় থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

এ ব্যাপারে সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট এমাদ উল্লাহ শহীদুল ইসলাম বলেন বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি সুষ্ঠু নীতিমালা দরকার। যে আইন আছে তারও যদি প্রয়োগ হতো বাসা ভাড়া কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকতো। কিন্তু সিলেটের মত বিভাগীয় শহরে বাসা ভাড়া নিয়ন্ত্রণে রাখতে কোন মনিটরিং সেল নেই। তাই মালিকরা তাদের ইচ্ছেমাফিক বাড়া বৃদ্ধি করার সুযোগ পাচ্ছেন।

সিলেটে সিটি কর্পোরশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন- সিলেটের সুধীজনের সাথে আলোচনা করে শিগগিরই একটি বাসা ভাড়া মনিটরিং সেল গঠন করা হবে। এই সেলের মাধ্যমেই বাসা ভাড়া নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করা হবে।

You may also like

Leave a Comment


cheap mlb jerseyscheap nhl jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseys