‘সরকারের প্রতি অনাস্থা জানিয়েছে জনগণ’

by News Room
নিউজ ডেস্ক : উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপে দেশের জনগণ সরকারের প্রতি অনাস্থা জানিয়েছে এবং আরেকটি জাতীয় নির্বাচনের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে বলে মনে করেন দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।  বুধবার অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপে, ৯৭টি উপজেলার মধ্যে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার ফল স্থগিত থাকায় ৯৬টির বেসরকারি ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, ৪৩ উপজেলায় বিএনপি-সমর্থিত ও ১৩ উপজেলায় জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। ফলে ৫৬ উপজেলায় বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থীরাই বিজয়ী হলেন। ৩৪টি উপজেলায় বিজয়ী হয়েছেন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থীরা। আওয়ামী লীগের মিত্র ও এবারের সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি-সমর্থিত প্রার্থী মাত্র একটি উপজেলায় বিজয়ী হয়েছেন। আর ১৪ দলের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টি বা জাসদের সমর্থন নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারীরা কেউ বিজয়ী হতে পারেননি।  এমন অবস্থায়, উপজেলা নির্বাচনের পরদিন (বৃহস্পতিবার) ফলাফল মূল্যায়ন করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দাবি, এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভরাডুবি ঘটেছে। সরকারের বিরুদ্ধে যে জনরোষ ফুঁটে উঠেছে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সরকারকে অবিলম্বে ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ানোর পাশাপাশি নির্দলীয় সরকারের অধীনে আর একটি জাতীয় নির্বাচনের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে, দেশের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমীন হাওলাদার বলেছেন, সবার অংশগ্রহণে আরেকটি জাতীয় নির্বাচন হওয়া দরকার। জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে আবারও জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে জাতীয় সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে। শুক্রবার জাতীয় পার্টির আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের আলোচনা সভায় তিনি

এ কথা বলেন।
এ প্রসঙ্গে বিশিষ্ট কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, “জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচন আলাদা হলেও স্থানীয় নির্বাচনে সাধারণ মানুষ সরকারের প্রতি তাদের মনোভাব প্রকাশ পায়। আগের নির্বাচনগুলোর মতো এ নির্বাচনেও সরকারের প্রতি আস্থার যে অভাব তা স্পষ্ট করে প্রকাশ করেছে। আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি তা ঠিকই টের পাচ্ছে। এ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের জনগণ আবারো জাতীয় নির্বাচন চায় এটাও প্রকাশ করেছে।”
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এম হাফিজউদ্দিন খান বলেন, “এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভরাডুবি ঘটেছে এবং বিএনপি বিজয়ী হয়েছে, এমনটা নয়। তবে, বিএনপির প্রতি মানুষের যে জনসমর্থন আছে সেটাকে প্রমাণ করেছে। সেই সঙ্গে জামায়াতের প্রতি সমর্থনও বেড়ে যাওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে এ নির্বাচন থেকে। বিএনপি-জামায়াত জোটের সমর্থকরা বেশি জয়লাভ করায় প্রমাণ করে আওয়ামী লীগের চেয়ে তাদের জনপ্রিয়তা বেশি। সেই সঙ্গে সরকারের প্রতি অনাস্থাও জানিয়েছে সাধারণ ভোটাররা।” সূত্র: আইআরআইবি

You may also like

Leave a Comment


cheap mlb jerseyscheap nhl jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseys