শিা সফরে একদিন

by News Room

॥ রুলি বেগম ॥

আমরা ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পাঠানচক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীদের বহু প্রতিতি ‘শিা সফর’ ২০১৪ গত ৯ মার্চ সম্পন্ন করা হয়েছে। এবার আমাদের শিা সফরের ল্যস্থল ছিল মাধবকুন্ড জলপ্রপাত। বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব সীমান্তে সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা থানার ১১ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের পাথারিয়া পাহাড়ের এক অংশে মাধবকুন্ড জলপ্রপাতটির অবস্থান। পাঠানচক সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথমবারের মতো শিা সফরে আমরা যাই গত বছর অর্থাৎ ২০১৩ সালের ১লা মে অর্থাৎ বিদ্যালয়টি ৮ম শ্রেণীতে উন্নীত হওয়ার পর ১ম ব্যাচের শিার্থী হিসেবে।  শুধুমাত্র ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রছাত্রীদের জন্য ছিল এ আয়োজন। গন্তব্যস্থল ছিল  আঞ্চলিক স্কাউট প্রশিণ কেন্দ্র, সরকারী এমসি কলেজ, সরকারী কলেজ, ওসমানী স্মৃতি উদ্যান ও ওসমানী স্মৃতি যাদুঘর। অত্যন্ত সফল ও ফলপ্রসূ হয়েছিল আমাদের ১ম শিা সফর। এর পর থেকে  ৫ম শ্রেণীর ছাত্রছাত্রীরা ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে এবং আমরা ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রছাত্রীরা ৭ম শ্রেণীতে উঠে শিা সফরে যাবে-এ আশায় বুক বেধে সারা বছর অধির আগ্রহে অপোয় ছিলাম। অপোর সেই দিনটি এসে গেল গত ৯ মার্চ রবিবার ২০১৪। স্কুল সংরতি ছুটি মঞ্জুর করে প্রধান শিক সহ শিক মন্ডলীর সাথে আমরা রওয়ানা দিলাম মাধবকুন্ডের উদ্দেশ্যে। প্রধান শিকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা সাথে নিলাম ৫ম শ্রেণীর মেধা তালিকায় ১ম, ২য় এবং ৩য় স্থান অধিকারী ৩ জন ছাত্রছাত্রীকে। মেধা তালিকায় স্থান পাওয়ায় এটা তাদের জন্য পুরস্কার স্বরূপ। কারণ আগামী বছর ৬ষ্ঠ, ৭ম এবং ৮ম শ্রেণীর ছাত্রছাত্রীদের সাথে শিা সফরে যাওয়ার জন্য এবং রেজাল্ট ভালো করার প্রতিযোগিতা বাড়ানোর জন্য  আমাদের হেড স্যারের এটা একটা কৌশল। বড় একটি বাস গাড়ি ভাড়া করা হলো। গ্রামের ছোট রাস্তা দিয়ে বড় বাস গাড়ী চলতে পারে না তাই আমরা আমাদের অত্যন্ত প্রিয় অনারারী শিকিা রাহেলা বেগম শাপলা’র নেতৃত্বে দেড় কি. মিটার পায়ে হেঁটে মূল সড়কে এসে বাসে উঠলাম। স্কুল ড্রেস পরা আমাদের প্রত্যেকের মাথায় ‘শিা সফর’ লিখা, রঙিন কাগজের টুপি অপরূপ সুন্দর লাগছিল। আমাদের প্রধান শিক সিলেট শহর থেকে মাইক নিয়ে, খাবার নিয়ে শহরে অবস্থানকারী শিক-শিকিাদের নিয়ে সকাল পৌণে ৯ টায় এসে পৌঁছেন আমাদের মাঝে। তখন আমাদের কি আনন্দই না লাগছিল। গুনে গুনে ছাত্রছাত্রীদের গাড়িতে তোলা হয় এবং আমরা সবাই মিলে দোয়া পাঠ করে যাত্রা শুরু করা হয়। সিলেট-ফেঞ্চুগঞ্জ-মৌলভীবাজার সড়ক দিয়ে রওয়ানা দিয়ে রাজনগর কলেজ পয়েন্টে এসে মৌলভীবাজারের রাস্তা ডানে রেখে বা দিকে আমরা কুলাউড়া রাস্তা দিয়ে রওয়ানা দেই। কুলাউড়া পৌঁছে ২০ কি. মিটার বড়লেখা এবং বড়লেখা থেকে ১২ কি. মিটার মাধবকুন্ড। পিচঢালা আঁকাবাঁকা পাহাড়ী পথ, চা বাগান, রাবার বাগান ইত্যাদি দেখতে দেখতে আমরা পৌঁছে যাই মাধবকুন্ড। ইকো পার্কে ঢুকার টিকেট ইত্যাদি আনুষ্ঠানিকতা শেষ করেন আমাদের সাথী অতিথি স্যার প্রাথমিক শিক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক তপন কুমার পাল। এক পর্যায়ে ইকো পার্কে ঢুকে পাহাড়ের গা বেয়ে সংকীর্ণ রাস্তা দিয়ে চা বাগান, পাহাড় আর বড় বড় পাথর, ঝর্ণাধারা দেখতে দেখতে আমরা সোজা জলপ্রপাতে পৌঁছে যাই। বিশাল কালো পাথরের পাহাড়। এ পাহাড়ের ২শত ফুট উঁচু থেকে অবিরাম জলধারা গড়িয়ে পড়ছে। কাছে পাথরের পাহাড়ি গুহা। নৈসর্গিক সৌন্দর্যমন্ডিত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি মাধবকুন্ড।
এখানে আমরা সংপ্তি সময়ে একটি বিদায়ী অনুষ্ঠান সেরে নিলাম। বলতে হবে ব্যতিক্রমধর্মী এ অনুষ্ঠানটি। বিদ্যালয়ের নিবেদিত প্রাণ অনারারী শিকিা যিনি বিগত ৮ বছর যাবৎ বিনা বেতনে নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে পাঠদান করে আসছেন সেই রাহেলা বেগম শাপলা’র বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। পাহাড়ের গা ঘেষে ব্যানার টাঙ্গিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক ও জেলা কাব লিডার মো: জিয়াউল ইসলাম চৌধুরীর সভাপতিত্বে এ বিদায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক সমিতির ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা শাখার যুগ্ম সম্পাদক তপন কুমার পাল। আমাদের পে এবং আমাদের অনুরোধে বিদায়ী শিকিার হাতে উপহার সামগ্রী তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি এবং শিক-শিকিাবৃন্দ। এ অনুষ্ঠানটি ছিল আমরা ৭ম শ্রেণীর ছাত্রছাত্রীদের একান্ত নিজস্ব আয়োজনে। আগামী ১৮ই মার্চ বিদ্যালয় পর্যায়ে উক্ত শিকিাকে বৃহৎ পরিসরে সংবর্ধনা দেয়া হবে। এর পর আমরা প্যাকেট লাঞ্চ সেরে রওয়ানা দিয়ে রাজনগর চা বাগানে এসে যাত্রা বিরতি করি চা বাগান দেখার উদ্দেশ্যে। এখানে ঘন্টা দেড়েক ঘুরে আমরা আল্লাহর নাম নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেই এবং সন্ধ্যার মধ্যেই আল্লাহর মেহেরবানীতে সম্পূর্ণ নিরাপদে নিজ নিজ গৃহে পৌঁছি।
আমার এ লেখা একটি পরীা। শিা সফরে যাওয়ার পূর্ব থেকেই হেড স্যার নির্ধারিত স্থান মাধবকুন্ডের বিভিন্ন দিক আমাদের কাছে তুলে ধরেন। শিা সফর থেকে ফিরে আসার পর এ শিা সফর সম্বন্ধে আমাদের শুধু ৭ম শ্রেণীর ছাত্রছাত্রীদের রচনা লেখতে বলেন এবং যার লেখা সবচেয়ে ভালো হবে তার লেখা সংবাদপত্রে ছাপানোর ব্যবস্থা করবেন বলে জানান-তাই আমার এ লেখা। আমার লেখাই নির্বাচিত হয়েছে বলে খুশী হলাম-সংবাদপত্রে ছাপা হলে  আরো খুশী এবং অনুপ্রাণিত হবো।

লেখক : ছাত্রী, ৭ম শ্রেণী, রোল নং-১
পাঠানচক সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ফেঞ্চুগঞ্জ, সিলেট।

You may also like

Leave a Comment


cheap mlb jerseyscheap nhl jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseys