মৃত্যুপুরী দেশ, মানুষ মুক্তি চায়: সংসদে এরশাদ

by News Room

নিউজ ডেস্ক: জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হুসেইন মুহম্মাদ এরশাদ বলেছেন, বাংলাদেশ এখন মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে। ক্ষমতা ও অর্থের লোভে মানুষ এখন মানুষ হত্যায় মেতে উঠেছে। দেশবাসী এসব থেকে মুক্তি চায়।

তিনি বলেন, কিন্তু মুক্তি কোথায় পাবে? মুক্তিতো অবরুদ্ধ। আজ অবরুদ্ধ মুক্তিকে মুক্তি দিতে হবে। চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, গডফাদার, অপরাজনীতি, সহিংস রাজনীতি, শিক্ষাঙ্গনের সন্ত্রাস, ভেজাল খাদ্য থেকে আজ আমরা মুক্তি চাই।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার দশম জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে ২০১৪-১৫ অর্থবছরের ঘোষিত বাজেটের উপর আলোচনা করতে গিয়ে এরশাদ এসব কথা বলেন।

এরশাদ বলেন, দেশবাসীকে মুক্তি কে এনে দিবে, কে দিবেন মুক্তি? একজন মহান মানুষ ছিলেন। তিনি বলেছিলেন, এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। তিনি স্বাধীনতা এনে দিয়েছিলেন, কিন্তু মুক্তি এনে দিতে পারেননি।

তিনি বলেন, ‘আমরা চেয়েছিলাম বাংলাদেশ হবে শান্তির দেশ, স্বস্তির দেশ। কিন্তু এ কেমন বাংলাদেশ? এ বাংলাদেশ আমরা চাইনি। এই বাংলাদেশের আমরা পরিবর্তন চাই। আগে জানতাম বাংলাদেশের মানুষের হৃদয় কোমল হয়। পলি মাটির মতো সে কোমল হৃদয় কেন এতো কঠিন হলো, এত পাষাণ হলো? কেন অন্যের কষ্ট আমাদের কাঁদায় না। জাতির কাছে আমার এই প্রশ্ন।’

পুঁজিবাজার কেলেঙ্কারির সমালোচনা করে এরশাদ বলেন, ‘পুঁজিবাজার কেলেঙ্কারির মাধ্যমে কিভাবে সাধারণ মানুষকে নিঃস্ব করা হয়েছে, তা সবাই দেখেছে। আমি গিয়েছিলাম তাদের কাছে। তাদের কান্না, তাদের আহাজারিতে আমাদের চোখে পানি চলে এসেছে। জানি না আমার সে কথা প্রধানমন্ত্রী হৃদয় ছুয়েছে কিনা। তার কানে পৌঁছেছে কিনা। যদি পৌঁছাতো তাহলে বাজেটে তার প্রতিফলন থাকতো। কিন্তু সেটা দেখছি না।’

ব্যাঙ্ক লুটের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘যারা ব্যাংক লুট করেছেন, তারা সমাজে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। অর্থমন্ত্রী বলেছেন- তাদের হাত নাকি অনেক বড়। আমার প্রশ্ন তাদের হাত কত বড়? তাদের হাত কি আইনের, প্রশাসনের চাইতে বড়? তাদের হাতে কি হাত কড়া পড়ানো সম্ভব নয়। আইন এখন সবার জন্য সমান নয়। কোটিপতিদের জন্য এক আইন, আর গরীবের জন্য অন্য আইন। এক দেশে দুই আইন চলছে। এভাবে দেশ চলতে পারে না।’

মানি লন্ডারিংয়ের সমালোচনা করে এরশাদ বলেন, ‘দেশ থেকে টাকা এখন বিদেশে পাচার হচ্ছে। অনেকেই বিদেশে বাড়ি করছেন। কারা করছেন, কিভাবে করছেন তার সন্ধান পাওয়া কঠিন কিছু না। ইচ্ছা করলে তার সন্ধান পাওয়া যায়। কিন্তু ইচ্ছা নাই বলে এগুলো সন্ধান করা হচ্ছে না।’

তিনি বলেন, ‘আমি শুনেছি একজন মন্ত্রী মাত্র ২০ একর সম্পত্তির মালিক হয়ে মন্ত্রী হয়েছিলেন। এখন তার সম্পত্তি ৩ হাজার একর। একে কি বলব, দুর্নীতি বলব নাকি অন্য কিছু। আগে গডফাদারের নাম শুনতাম। এই গডফাদার এখন আমাদের উপর ভর করেছে। গডফাদার তো ছিল আমেরিকা, ইতালিতে। এই গডফাদার মাফিয়া কিভাবে আমাদের দেশে আসলো? এগুলো থেকে আমরা মুক্তি চাই।’

সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, যেদিন রাজনীতি অরাজনৈতিকদের হাতে গেছে সেদিন থেকেই রাজনীতি কলুষিত হয়ে গেছে। রাজনীতিকদের হাতে রাজনীতি ফেরত আনতে হবে।

তিনি বলেন, ইতিহাসের মহামানব বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরই সমাজে অবক্ষয়ের শুরু। ওই সময় বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার করলে বাংলাদেশের অবস্থা আজ এমন হতো না। আমরাও চাই না নারায়ণগঞ্জ, ফেনী বা মিরপুরের মত আর কোনো ঘটনা ঘটুক।

সাবেক স্বৈরশাসক এরশাদের অভিযোগের জবাবে তোফয়েল বলেন, সবদিক থেকে দেশ আজ এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের উন্নয়ন দেখে বিশ্বের অনেক ক্ষমতাধর দেশের নেতারাও বলছেন- স্বল্প সময়ে বাংলাদেশের এমন উন্নয়ন সত্যিই মিরাকল (অলৌকিক)।

তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট আন্দোলনের নামে শ’ শ’ মানুষকে যে নৃশংস কায়দায় পুড়িয়ে হত্যা করলো, নারকীয় ধ্বংসযজ্ঞ চালাল- এর দায়-দায়িত্ব কী খালেদা জিয়া অস্বীকার করতে পারবেন?

আন্দোলনের হুমকির জবাবে আওয়ামী লীগের এই সিনিয়র নেতা বলেন, এরশাদ খালেদা জিয়ার সঙ্গে থাকেননি বলে তিনি জিয়া হত্যাকারী। প্রধানমন্ত্রী সংলাপ ও সর্বদলীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব দিলেও খালেদা জিয়া প্রত্যাখ্যান করেছেন।

তিনি বলেন, ৫ জানুয়ারি নির্বাচন করতে না পারলে দেশ থাইল্যান্ড হতো। খালেদা জিয়া বাংলাদেশকে পাকিস্তানের মতো অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করতে চেয়েছিলেন। উনি এখন সংলাপ চান, সংলাপে বসলেই বলবেন তত্ত্বাবধায়ক চাই। কিন্তু তত্ত্বাবধায়ক সরকার আর ফিরে আসবে না। ৫ বছর পর বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর অধীনেই নির্বাচন হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, আমরা সবাইকে নিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু খালেদা জিয়া নির্বাচন নয়, দেশে বিশেষ পরিস্থিতি সৃষ্টি করে পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতা দখল করতে চেয়েছিলেন। নির্বাচন না হলে দেশে সামরিক বা অবৈধ শাসন আসতো, লাভবান হতো অরাজনৈতিক শক্তি। খালেদা জিয়া নিষ্ঠুর কায়দায় হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে নির্বাচন বানচাল ও যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু ব্যর্থ হয়েছেন।

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ২০১৯ সালের আগে কোনো নির্বাচন হবে না। তবে এখন সংলাপ কেন হবে? এদেশে কোনো দিন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরে আসবে না। নির্বাচিত সরকারের অধীনেই আগামীতে নির্বাচন হবে।

বাজেট আলোচনায় আরও বক্তব্য রাখেন- বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী ইমাজউদ্দিন প্রামাণিক, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উ শৈ সিং, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক, আব্দুর রউফ, জেবুন্নেসা আফরোজ, তালুকদার মো. ইউনুস, আব্দুল মালেক, ছবি বিশ্বাস, নিজামউদ্দিন নদভী, এস এম জগলুল হায়দার, মমতাজ বেগম, গোলাম মোস্তফা, ইলিয়াস মোল্লা প্রমুখ।

You may also like

Leave a Comment


cheap mlb jerseyscheap nhl jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseys