মুসলিম বিশ্বে ইসলামী আন্দোলনই সবচেয়ে সম্ভাবনাময়:রশিদ আল ঘানুশী

by News Room

 

যখনই ইসলামপন্থীরা কোনো বিপর্যয়ের স্বীকার হয় অথবা ভোটের রাজনীতিতে সামান্য ব্যবধানে হেরে যায়, তখনই ইসলামী আন্দোলনের ইতিহাস ও কার্যপদ্ধতি নিয়ে যে সকল পশ্চিমা বিশেষজ্ঞরা কাজ করে তারা দাবি করে বসে যে, পলিটিক্যাল ইসলাম কার্যত ব্যর্থ ও ধ্বংস হয়েছে। তারা তাদের সকল ফোরাম ও মিডিয়ায় এই একই কথার পুনরাবৃত্তি করতে থাকে। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে এ সকল পশ্চিমা বিশেষজ্ঞদের অনুসারি মিডিয়া ও পর্যবেকরা তখন তর্কাতীত ও বাস্তব তথ্য হিসেবে এই কথাটির প্রতিধ্বনি করতে শুরু করে। মিসরের বর্তমান ঘটনা প্রবাহ এ সকল ব্যক্তিদের সভা সেমিনার ও দাবির জন্য যথেষ্ঠ উপাদান সরবরাহ করেছে এবং জনসম্মুখে তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা কিছুটা বৃদ্ধি করতে আপাতভাবে সমর্থ্য পেয়েছে। কিন্তু এসব দাবি কতটা যৌত্তিক ও বাস্তবসম্মত?

পলিটিক্যাল ইসলাম হিসেবে যা পরিচিত তা কি প্রকৃতপে ক্রমাগত ীয়মাণ এবং চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ কিংবা পরাজিত হতে যাচ্ছে? নাকি নব উদ্যোগে যাত্রার জন্য কৌশলগতভাবে কয়েক ধাপ পিছনে যাচ্ছে যা প্রকৃতপে তাদের গতিকে ঊর্ধ্বমুখী করবে?

ইসলামপন্থীরা নিজেদের জন্য পলিটিক্যাল ইসলামের পরিবর্তে ‘ইসলামীক মুভমেন্ট’ পরিভাষাটি ব্যবহার করে। ইসলামীক মুভমেন্ট বলতে আল্লাহর সকল আইন প্রতিপালন, জীবনের সকল েেত্র সে আইনের অনুসরণ, মানব জাতির নিকট আল-কুরআনের যে বার্তা তার বাস্তবায়ন এসব কিছুকেই বুঝায়। পরিসংখ্যানিক তথ্য অনুযায়ী ইসলাম হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে ক্রমবর্ধমান ধর্ম এবং তার অনুসারীরা ধর্মের কারণে তাদের মূল্যবান ধন-সম্পদ উৎসর্গ করতে প্রস্তুত। কাজেই পলিটিক্যাল ইসলাম বা ইসলামীক মুভমেন্ট যাই বলিনা কেন এটাই হচ্ছে মুসলিম সম্প্রদায়ের মাঝে সবচেয়ে বড় আন্দোলন যার রয়েছে ধর্মীয় ভিত্তি । আধুনিক যোগাযোগ-প্রযুক্তির কারণে ইসলামীক মুভমেন্ট সম্প্রসারিত হচ্ছে অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে দ্রুত গতিতে। বিশেষ করে পরিবার ও গোত্র প্রথার েেত্র আধুনিক সভ্যতার দুর্বলতা, অস্তিত্ব-রার উদ্বেগ ও আদর্শিক শূন্যতার কারণে ইসলামীক আন্দোলন তথা পলিটিক্যাল ইসলামের গতি খুব কম বাধার সম্মুখীন হচ্ছে।

ইসলামীক মুভমেন্টের গতি বৃদ্ধির এই ঘটনা এমন সময় ঘটছে  যখন বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানরা জনগণের প্রতি তাদের যে দায়িত্ব-কর্তব্য তা পরিত্যাগ করছে। এর ফলে সাধারণ জনগণের মাঝে উদ্বেগ ও বিচ্ছিন্নতা প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর এটি হচ্ছে সেকিঊলারাইজেশনের ক্রমাগত বৃদ্ধির একটি ফলাফল। ফলে মানুষ সেকিঊলারাইজেশনের পরিবর্তে সংস্থা-সংগঠনের এমন একটি কেন্দ্রের সন্ধান করেছে যেখানে দেহ ও আত্মার চাহিদা, ব্যক্তি ও সমষ্টির চাহিদা, ধর্মীয় ও পার্থিব চাহিদা এবং জাতীয় ও আর্ন্তজাতিক সকল কিছুরই সন্নিবেশ আছে। ইসলামের যে সর্বব্যাপী ও আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি তাতে বর্তমান সমাজের প্রার্থিত এসব বৈশিষ্ট্যের সব কিছুই বিদ্যমান। আর এসব কারণেই ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন ও ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের বিরুদ্দে ঘৃণা, অপপ্রচার এবং দানবীয় নানা দোষ যুক্ত করার পরও বিভিন্ন পেশা ও সংস্কৃতির মানুষ ইসলামের দিকে আকৃষ্ট হচ্ছে।

সকল ধর্মের মাঝেই রয়েছে চরমপন্থী সংখ্যালঘু গোত্র । ইসলামী আন্দোলন খুব সচেতন ভাবে এ চরম্পন্থা ও উগ্রবাদমুক্ত। মূলধারার ইসলামীক আন্দোলন ইসলামকে উপস্থাপন করেছে বিভিন্ন সভ্যতার যে অর্জন ও অবদান তার পরিপূরক ও সম্পূর্ণতা দানকারী হিসেবে। বর্তমান আধুনিক সভ্যতার গুরুত্বপূর্ণ  এ অর্জনগুলো হলো নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবার জন্য শিা, সুবিচার, ন্যায়নীতি, আইনের সমতা, ধর্ম বিশ্বাস-লিঙ্গভেদ-গোত্রভেদ নির্বিশেষে সবার জন্য সম-স্বাধীনতা, সকল নাগরিকের নাগরিক অধিকার, মানবতার মূল্যায়ন এবং রাজনৈতিক ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। ইসলামী আন্দোলন কখনোই এসবের বিরোধিতা করেনি। বরং আল-কুরআনে এসব অধিকার ও স্বাধীনতাকে স্বর্গীয় মানবীয় অধিকার বলে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে কুরআনের ঘোষণা ‘আমরা নিঃসন্দেহে আদমের সকল সন্তানকে সম্মানিত করেছি’।

ইসলামীক আন্দোলন সব সময় বিশ্বাস করে- ইসলাম মানুষের সহজাত ধর্ম। তাই ইসলামী আন্দোলন মানব সমাজের সমস্যা সমাধান করতে চাই এবং মানব সমস্যার যে কোনো সমাধানে অবদান রাখতে চায়। আর একাজ করতে গিয়ে ইসলামী আন্দোলন ইসলামের চিন্তা-দর্শনের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ যে কোনো সভ্যতার অর্জিত অভিজ্ঞতা-যা মানব সমাজের সামষ্টিক স্বার্থ অুণœ রাখে তার সাহায্য গ্রহণ করে।

ইসলামী আন্দোলন মানব জাতির নীতি চেতনা ও বিবেকের সবচেয়ে নিকটবর্তী। ইসলামী আন্দোলন যদি মানব সমাজের সমস্যাবলী অনুধাবন করতে পারে এবং তা সমাধানের জন্য মানব জাতির সর্বজনীন নীতি ও বুদ্ধিবৃত্তিক ভিত্তির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ উপায়ে তা সমাধানের চেষ্টা অব্যাহত রাখতে পারে তবে তার (ইসলামী আন্দোলনের ) সহজাত আবেদন নিঃসন্দেহে সকল বিতর্ক ও অপপ্রচারকে ছাড়িয়ে যাবে। বিগত অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময়ব্যাপী ইসলামী আন্দোলনগুলো বিশ্বব্যাপী ক্রমাগত নির্যাতনের স্বীকার হচ্ছে এবং বিরামহীনভাবে এ নির্যাতনের মাত্রা দিন দিন বেড়েই চলেছে।

ইসলামী আন্দোলনের উপর ক্রমাগত নির্যাতনের অনেক ইতিবাচক ফলাফল রয়েছে। যেমন- আন্দোলনের একটি উত্তরাধিকার প্রজন্ম তৈরি হয়েছে। ইসলামপন্থী আন্দোলনের মধ্যে বিদ্যমান দল বা গোষ্ঠীগুলো নিজেদের মধ্যে পরস্পর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে যুক্ত হচ্ছে এবং বিগত তিনটি জেনারেশনের ভেতর ইসলামী আন্দোলনের অংশীদারিত্বমূলক অভিজ্ঞতা অর্জিত হয়েছে। ইসলামী আন্দোলনের উপর চালানো অকথ্য নির্যাতনের ফলে তারা অতিরিক্ত সুবিধা হিসেবে অন্য যে কোনো রাজনৈতিক দলের তুলনায় জনগণের সহানুভূতি অর্জন করেছে। কারণ অন্যায়-অবিচারের বিপে ইসলামী আন্দোলনের এই ত্যাগ তিতিাকে সাধারণ মানুষ স্মরণ রাখছে এবং মূল্যায়ন করছে ।

বর্তমানে ইসলামী আন্দোলন অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে অপোকৃত ভালো অবস্থানে রয়েছে। কারণ ইসলামী আন্দোলন শুধুমাত্র জনগণের আর্দশগত ও সংস্কৃতিগত চিন্তাকেই সম্মান করছে না- বরং জনগণের মৌলিক মানবাধিকার ও ভোটের যে অধিকার রয়েছে তা সংরণ করার জন্য লড়াইও করছে (বিশেষ করে মিসরের েেত্র), তাছাড়া সেখানে মুসলিম ব্রাদারহুড আরব বিপ্লবের যে চেতনা ও প্রত্যাশা ছিল- যেমন মিডিয়ার স্বাধীনতা, বহুত্ববাদি রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং রাষ্ট্রের সকল কাজে গণতান্ত্রিক পদ্ধতি ফিরিয়ে আনা- ইত্যাদির জন্য শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছে ।

অন্যদিকে ওয়াফদা পার্টিসহ অন্যান্য তথাকথিত উদারপন্থী দলগুলো আরব বিপ্লবের চেতনার বিপরীতে দাঁড়িয়েছে। তারা সামরিক প্রশাসনের সহযোগিতা নিচ্ছে। আবার জনগণের বিপরীতে সামরিক ক্যু-কে সহযোগিতা ও সমর্থন দিচ্ছে । জনগণের ভোটাধিকার যখন সামরিক শাসক ও তার বন্ধুকের গুলির সামনে ছিনতাইয়ের স্বীকার হচ্ছে, জনগণের ইচ্ছা যখন পদদলিত হচ্ছে, মানুষ যখন তার বাক-স্বাধীনতা হারাচ্ছে, জেলখানাগুলো যখন রাজনৈতিক দলের কর্মীদের দ্বারা নির্বিচারে ভর্তি হচ্ছে, যখন বেসামরিক জনগণ অকারণে গুলির স্বীকার হচ্ছে তখন তথাকথিত উদারতাবাদী দলগুলো এ সবের পেছনে প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্যভাবে সহযোগিতা করছে।

ইসলামী আন্দোলন বর্তমানে জাতীয়তার সীমা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও মানুষের অধিকারের পে সমর্থন দিচ্ছে। বিশেষ করে ফিলিস্তিনে। সেখানে জনগণের নির্বাচিত প্রেসিডেন্টকে হামাসের সাথে সহযোগিতার অজুহাত তুলে অভিযুক্ত করা হচ্ছে। আধুনিকতার দাবিদার তথাকথিত এলিট মিসরীয় ও তার দোসর আরবরা যে সামরিক ক্যু-কে সহযোগিতা দান করল এটা কি আত্মঘাতি নয়?

তাদের এ অবস্থান ইসলামী আন্দোলনের বিপরীত। ঐতিহাসিক, কৌশলগত এবং জাতীয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকে কোনো ভাবেই কি আমরা নৃশংস সামরিক ক্যু ও তার সমর্থনকে উদারতাবাদ, প্রগতিশীল, জাতীয়তাবাদী অথবা সেকিউলারের বিজয় বলতে পারি? এবং সামরিক শাসনের নির্যাতন-নিষ্পেষণ ও একগুঁয়েমির কারণে যা হয়েছে তাকে কি পলিটিক্যাল ইসলাম তথা ইসলামী আন্দোলনের পরাজয় বা মৃত্যু বলে বিবেচনা করতে পারি?

প্রকৃতপে মিসরে যা ঘটেছে তা কোনো ভাবেই ইসলামী আন্দোলনের পতন নয়। এটি বরং আরব জাতীয়তাবাদ ও সেকিউলারদের পরাজয় । যদি তারা তাদের অবস্থার পরির্বতন করে জনগণের সারিতে না আসে তাহলে তাদের অতীত ভূমিকার পতন ঘটবে।

ইতোমধ্যে মিসরের সামরিক এই ক্যু ইসলামী আন্দোলনের জন্য অনেক বাড়তি সূযোগ নিয়ে আসবে । ইসলামী আন্দোলন রাষ্ট্র পরিচালনায় তাদের গৃহীত নীতির পুনর্মূল্যায়ন করতে পারবে এবং তাদের ভুলগুলো সংশোধন করতে পারবে। মিসরসহ যে কোনো দেশের েেত্রই ইসলামী আন্দোলন বিরোধী দলগুলোর সাথে আরও যোগাযোগ বাড়াতে শিখবে। বিশেষ করে অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে সরকার পরিচালনা যে এক দল দ্বারা হওয়া উচিত নয় অথবা রাষ্ট্রীয় সংবিধান প্রণয়নের বিষয়টি যে একটি দল বা একই ধারার দলসমূহের দ্বারা প্রণীত হওয়া সমুচিত নয় এসব বিষয়ে ইসলামী আন্দোলনঅধিকতর অভিজ্ঞতা লাভের সুযোগ পাবে।

মিসরসহ সকল দেশের ইসলামিক আন্দোলন এই বাস্তবতা উপলব্ধি করবে যে, জাতীয় পর্যায়ের অন্যান্য দলের সাথে সহযোগিতা এবং তাদের জোটে অন্তর্ভুক্তিই যথেষ্ঠ নয় বরং ইসলামী দল সমূহের নেতৃত্ব পর্যায়েও তাদেরকে স্থান দিতে হবে- কারণ ইসলাম হচ্ছে গোটা জাতির সম্পদ ।

যদিও মুসলিম ব্রাদারহুড মিসরের সামরিক স্বৈর শাসকদের হাতে ধারাবাহিকভাবে নির্যাতনের স্বীকার হয়েছে- বিশেষ করে জামাল আব্দেল নাছেরের হাতে। তবুও তাদের উপর জেনারেল আল সিসির বর্তমান নির্যাতন সংখ্যাগত ও মাত্রাগতভাবে অনেক বেশি। বিগত ষাট বছরে মিসরে মোট শাহাদাতের সংখ্যা ষাট (৬০) এর বেশি নয়। কিন্তু জেনারেল সিসির হাতে শুধুমাত্র মিসরের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের সামনেই এর চাইতে বেশি লোক শহীদ হয়। এর পরেই আমরা শুনতে পেলাম হাজার হাজার লোকের শাহাদাতের সংবাদ, আহত হবার এবং জেলে যাবার ঘটনা। সিসির এই নির্যাতনই তার সামরিক বৈধতাকে খাটো করেছে। আর একটি নির্যাতনের ফলাফল দমন করতে গিয়ে জেনারেল সিসি জনগণের শান্তিপূর্ণ ও বীরত্বপূর্ণ প্রতিরোধ কে দমন করার জন্য  নির্যাতনের  মাত্রা ক্রমাগত বাড়িয়েই চলছে ।

জামাল আব্দেল নাসের এবং জেনারেল সিসির মধ্যে পার্থক্য এই যে, জামাল আব্দেল নাসের বিরোধী দলের উপর একদিকে যেমন নির্যাতন করেছে অন্যদিকে তেমনি জনগণের জন্য পপুলার অনেক মেগা প্রকল্প গ্রহণ করেছে। রাজনৈতিক বিরোধীদের উপর চালানো দমন-নিপীড়ন ঢাকবার জন্য গৃহীত এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে অসংখ্য আকর্ষণীয়, চিত্তাকর্ষক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক প্রকল্প। যেমন- কৃষি সংস্কার প্রকল্প, শিা-সংস্কার প্রকল্প, আল-আযহার সম্প্রসারণ প্রকল্প, ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা, আরব জাতীয়তাবাদের জন্ম, সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধিতা, জোট-নিরপে আন্দোলন গঠনে ভূমিকা পালন ইত্যাদি। বিপরীত প,ে আল সিসি জনগণের জন্য  দৃশ্যমান কোনো প্রকল্প গ্রহণ করতে পারেনি। আল সিসি তার দমন-পীড়ন ঢাকবার জন্য বুদ্ধিবৃত্তিক শঠতা অবলম্বন করেছে এবং একজন নির্বাচিত বৈধ প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে হামাসের সাথে সহযোগিতার অভিযোগ এনেছে।

আধুনিক যুগে স্বৈরশাসকদের নির্যাতন সংঘটিত হচ্ছে হাজারো শক্তিশালী স্যাটেলাইটের আলোক রশ্মির সামনেÑ যা লুকানো অসম্ভব। অতীতে ফারাও সম্রাটদের সময় এ জাতীয় নির্যাতন সংঘটিত হতো অনেকটা সংগোপনে এবং পর্দার অন্তরালে। ফলে তথ্য গোপনের মাধ্যমে ফারাও রাজা জনগণের উপর তার নিয়ন্ত্রণ রাখতে সম হয়েছিল যা সিসির পে সম্ভব নয়।

ফলাফল

উপরোক্ত ঘটনার প্রেিত আমি পূর্ণ আত্মবিশ্বাসের সাথে বলতে পারি যে, মিসরসহ কোনো দেশেই পলিটিক্যাল ইসলাম বা ইসলামী আন্দোলন পরাজিত ও ব্যর্থ হয়নি। অতীতের  যে কোনো সময়ের চাইতে দর্শন ও চিন্তার জগতে ইসলাম আজ আরো শক্তিশালীভাবে দৃশ্যমান। যদিও আধুনিকতা তার সর্ব শক্তি দিয়ে উন্নয়নমূলক বিভিন্ন মেগা প্রকল্প হাতে নিয়ে ইসলাম কে কোণঠাসা করার চেষ্টা করছে। কিন্তু ব্যক্তি স্বাধীনতা, উন্নয়ন, সুবিচার, ঐক্য অথবা ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাÑ সবেেত্রই তাদের গৃহীত পদপে কার্যত ব্যর্থ হয়েছে। এই ব্যর্থতার কারণে ‘ইসলাম’ প্রসঙ্গটি বার বার সামনে আসছে এবং আধুনিকতার ইতিবাচক দিকগুলোকে অস্বীকার না করে এসব মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে ইসলামের ভূমিকা কী হবে সে বিষয়টি আলোচিত হচ্ছে।

পলিটিক্যাল ইসলাম বা ইসলামী আন্দোলন বলতে যা বুঝানো হচ্ছে তা কোনো ভাবেই ীয়মাণ নয়। বরং ইসলামী আন্দোলন তার নীতি ও কৌশলের ভুল-ত্রুটিসমূহ সংশোধনের পর্যায় অতিক্রম করেছে এবং নতুন বিপ্লবের প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর এর নিকটতম ফলাফল হবে জননন্দিত কার্যকর সরকার ব্যবস্থা উপহার দেয়া। তথ্য-প্রবাহের এই যুগে কোনো নৈতিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অঙ্গীকারবিহীন সামরিক ক্যু এবং ক্যু-প্রচেষ্টার কারণে ইসলামী আন্দোলন কে এখন আর যুগের পর যুগ অপো করতে হবে না। ইসলামী আন্দোলনের শিকড় স্ব-স্ব সমাজের গভীরে প্রোথিত। ইসলামী আন্দোলন শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক বিপ্লবের চেতনা ধারণ করে। ইসলামী আন্দোলন স্বৈরতন্ত্রের বিপরীতে অংশীদারিত্বমূলক গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে। তারা ইসলাম ও আধুনিকতার সুসামঞ্জস্যতার সঠিক বিকাশে তৎপর।

“এবং নিঃসন্দেহে সকল মতার মালিক আল্লাহ এবং সব কিছুরই উপর তার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ। যদিও অধিকাংশ মানুষই তা অবগত নয়” (সূরা ইউসুফ-২১)।

 

You may also like

Leave a Comment


cheap mlb jerseyscheap nhl jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseys