মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে ব্যবসা করছে আওয়ামী লীগ: মান্না

by News Room

ডেস্ক রিপোর্ট : আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে ব্যবসা করছে বলে মন্তব্য করেছেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। আওয়ামী লীগের এই সাবেক নেতা বলেছেন, কোনো মুক্তিযোদ্ধা আওয়ামী লীগ ছাড়লেই তিনি তাদের (আওয়ামী লীগ) কাছে হয়ে যান রাজাকার।

মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট
(এনডিএফ) আয়োজিত ‘তিস্তাসহ ভারত-বাংলাদেশের আন্তসীমান্ত নদীসমূহের
পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের উপায়’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এ
মন্তব্য করেন।

মান্না বলেন, আওয়ামী লীগ থেকে যেভাবে মুক্তিযোদ্ধারা বিদায় নিচ্ছে, সে
হিসাবে দলটি মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তি হতে পারে না। কারণ যারাই লীগ ছেড়েছে, তাদেরই মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে ফেলেছে দলটি। এমনকি কিছুদিনের মধ্যে তাজউদ্দীন আহমদের মেয়েকেও রাজাকার হিসেবে আখ্যায়িত করা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

আওয়ামী লীগের গণতান্ত্রিক চেতনার প্রতি সংশয় প্রকাশ করে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক বলেন, “আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রের দল হলে আ স ম রব, আবু সাইয়ীদ কেন দলের বাইরে? কেন জেনারেল ওসমানী আলাদা দল গঠন করেন? কেন তিস্তার পক্ষে কথা বলে না আওয়ামী লীগ? তাদের হাতে কেন মার খাচ্ছে গণতন্ত্র?”

সরকারের মন্ত্রীদের সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের এই সাবেক নেতা বলেন, “পানিসহ বিভিন্ন ইস্যুতে সরকারের মন্ত্রীদের বক্তব্য শুনলে মনে হয়, এরা বাংলাদেশের নয়, ভারতীয় সরকারের মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলে ভালো করতেন।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেন, “অনেকেই বলেন, আন্তর্জাতিক নদী আইন বলতে কোনো আইন নেই। আমি বলব, যারা ভারতের দালালি করেন, তারাই এ কথা বলেতে পারেন।”

১৯৯৬ সালে ভারতের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সরকারের গঙ্গাচুক্তির কথা উল্লেখ করে আসিফ নজরুল বলেন, “চুক্তির ৯ নম্বর ধারায় বলা আছে, ন্যায়পরায়ণার সঙ্গে পানির ব্যবহার করতে হবে। কিন্তু ভারত একের পর এক নদীতে ব্যারেজ তৈরি করছে। গ্রীষ্মকালে তারা পানি বন্ধ রাখছে। বর্ষাকালে পানি ছাড়ছে, যখন এর কারণে বাংলাদেশে বন্যা হয়।”

আওয়ামী লীগের নেতাদের উদ্দেশে আসিফ নজরুল বলেন, “তার পরও কেন আপনারা বলতে পারছেন না, ভারত গঙ্গা চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করছে? আমি মনে করি, ভারতের প্রতি আপনাদের দুর্বলতা রয়েছে। আপনারা ভারতের সহযোগিতা ছাড়া ক্ষমতায় আসতে পারতেন না বলে আজ নায্য কথাটা বলতে ভয় পাচ্ছেন।”

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব, লেখক গবেষক ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাইয়ীদ, কৃষক শ্রমিক জনতা দলের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান তালুকদার বীর প্রতীক, ইকবাল সিদ্দিকী, সাবেক সংসদ সদস্য এম এ গোফরান প্রমুখ।

You may also like

Leave a Comment


cheap mlb jerseyscheap nhl jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseys