মন্ত্রিসভা থেকে লতিফ সিদ্দিকীকে অব্যাহতির সিদ্ধান্ত

by News Room

সিলেটের খবর ডেস্ক:  ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে অাপত্তিকর বক্তব্য দেয়ায় ডাক ও টেলিযোগাযোগ এবং তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে মন্ত্রিসভা থেকে অব্যাহতির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

লন্ডনে অবস্থানরত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা লতিফ সিদ্দিকীকে মন্ত্রিসভা থেকে বাদ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

রবিবার বিকেলে নিউ ইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের একটি হোটেলে নিউ ইয়র্কস্থ টাঙ্গাইলবাসীদের সঙ্গে এক মতবিনিময়কালে আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী পবিত্র হজ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি কিন্তু হজ আর তাবলিগ জামাতের ঘোরতর বিরোধী। আমি জামায়াতে ইসলামীরও বিরোধী। তবে তার চেয়েও হজ ও তাবলিগ জামাতের বেশি বিরোধী।’

 

বিরোধিতার কারণ ব্যাখ্যায় মন্ত্রী বলেন, ‘এই হজে যে কত ম্যানপাওয়ার নষ্ট হয়। হজের জন্য ২০ লাখ লোক আজ সৌদি আরবে গিয়েছে। এদের কোনো কাম নাই। এদের কোনো প্রডাকশন নাই। শুধু রিডাকশন দিচ্ছে। শুধু খাচ্ছে আর দেশের টাকা দিয়ে আসছে।’

 

তিনি বলেন, ‘এভারেজে যদি বাংলাদেশ থেকে এক লাখ লোক হজে যায় প্রত্যেকের পাঁচ লাখ টাকা করে ৫০০ কোটি টাকা খরচ হয়।’

 

অনুষ্ঠানে হজের উৎপত্তি সংক্রান্ত বর্ণনায় আরো আপত্তিকর কথা বলেছেন আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী। তিনি বলেন, ‘আব্দুল্লাহর পুত্র মোহাম্মদ (নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাহু আলাইহিস সালাম) চিন্তা করল এ জাজিরাতুল আরবের লোকেরা কিভাবে চলবে। তারাতো ছিল ডাকাত। তখন একটা ব্যবস্থা করলো যে, আমার অনুসারিরা প্রতিবছর একবার একসঙ্গে মিলিত হবে। এর মধ্য দিয়ে একটা আয়-ইনকামের ব্যবস্থা হবে।’

 

মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম জামাত তাবলিগ জামাতের সমালোচনা করে আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী বলেন, ‘তাবলিগ জামাত প্রতি বছর ২০ লাখ লোকের জমায়েত করে। নিজেদের তো কোনো কাজ নেই। সারা দেশের গাড়িঘোড়া তারা বন্ধ করে দেয়।’

 

তিনি তার বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিষয়ে বিরূপ মন্তব্য করেন। প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, ‘কথায় কথায় আপনারা জয়কে টানেন কেন। জয় ভাই, সে কে? জয় বাংলাদেশ সরকারের কেউ নয়। তিনি কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ারও কেউ নন। শুধু পরামর্শ দিতে পারে, কোনো কিছু বাস্তবায়নের ক্ষমতা তার নেই।’

 

টক শোতে যারা অংশ নেন তাদের ‘চুতমারানি ভাই’ আখ্যা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘যারা টক শোতে যায়, তারা টক-ম্যান। নিজেদের কোনো কাজ না থাকায় ক্যামেরার সামনে যেয়ে তারা বিড়বিড় করে। চু… ভাইদের আর কোনো কাজ নেই।’

 

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে লতিফ সিদ্দিকী বারবার উত্তেজিত হয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। এক সাংবাদিককে ধমক দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি কি তোমার মতো কথা বলব। আমি আমার মতো কথা বলব। তুমি এখানে আসলা কেন, তোমাকে কে বলেছে আসতে?’

 

প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আপনারা বিদেশে এসেছেন কামলা দিতে এবং সব সময় কামলাই দিবেন।’

 

প্রবাস থেকে প্রকাশিত পত্রপত্রিকাগুলোকে লতিফ সিদ্দিকী টয়লেট পেপার আখ্যায়িত করে টিভির টকশোতে অংশগ্রহণকারীদের ‘টক মারানি’ বলে গাল দেন। তিনি বলেন, ‘টকমারানিদের সঙ্গে চুতমারানিদের কোনো পার্থক্য নেই।’

 

এ সময় মন্ত্রী জানান, ‘আমি যাদের কাছ থেকে ৪ লাখ টাকা চাঁদা চেয়ে ১ লাখ পেয়েছি তাদের কোনো তদবির এখন রক্ষা করি না।’

 

লতিফ সিদ্দিকী সম্ভবত বাংলাদেশের প্রথম কোনো মন্ত্রী যিনি পবিত্র ইসলাম সম্পর্কে এ ধরনের ধৃষ্টতাপূর্ণ মন্তব্য করার দুঃসাহস দেখালেন।

 

তার বক্তব্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া হয় দেশে এবং বিদেশে। ধর্মীয় সংগঠনগুলো তাকে কাফের এবং মুরতাদ বলে ঘোষণা করে। বিএনপিসহ রাজনৈতিক দলগুলোর ক্ষোভে ফেটে পড়ে। ইসলামের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হজ সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্যের পর স্থানীয় প্রবাসীদের মধ্যে কড়া প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। সংবাদটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুব্ধ প্রবাসীরা মন্ত্রীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

 

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতেই সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিরুদ্ধে মন্ত্রীর এ ধরনের বক্তব্যে বিস্মিত দলের কর্মী ও সমর্থকরা। সভাস্থলেই অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করলে এক পর্যায়ে মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে চলে যান।

 

প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে নিউ ইয়র্ক সফর করছেন ডাক, তার ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী।

You may also like

Leave a Comment


cheap mlb jerseyscheap nhl jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseys