বড় তিন দলকেই চমকে দিয়েছে জামায়াত

by News Room
উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম দফার ফলাফলে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উপকৃত হয়েছে জামায়াতে ইসলাম। চমকে দিয়েছে তিন বড় দল আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টিকে।

স্বাধীনতা যুদ্ধে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামীর বিতর্কিত ভূমিকা এবং যুদ্ধাপরাধের সঙ্গে দলটির শীর্ষ নেতাদের জড়িত থাকার ফলে গত কয়েক বছরে জনগণের মধ্যে তীব্র জামায়াতবিরোধী মনোভাব দেখা গেছে। বর্তমানে যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত দলটির শীর্ষ নেতাদের বিচার চলছে। ইতিমধ্যে এক নেতার মৃত্যুদণ্ডও কার্যকর করা হয়েছে। তবে এতকিছু সত্ত্বেও দেশের প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ, বিএনপি এবং জাতীয় পার্টিতে বিভিন্ন সমস্যা থাকায় উপজেলা নির্বাচনে বেশ এগিয়ে গেছেন জামায়াত প্রার্থীরা।
গত বুধবার ৯৭টি উপজেলায় নির্বাচনে বিএনপি এবং জাতীয় পার্টি অধ্যুষিত দেশের বেশ কয়েকটি অঞ্চলসহ মোট ১৩টি উপজেলায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াতের প্রার্থীরা। এছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন ২৩ জন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ১০ জন।

সাম্প্রতিক সময়ে যে জামায়াতের অস্তিত্ব নিয়েই অনেকে সন্দিহান, সেখানে উপজেলা নির্বাচনের দৌড়ে সেই জামায়াতের এই অর্জন অনেককেই বেশ চমকে দিয়েছে। বিশেষ করে গত ৫ জানুয়ারির দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে-পরে দেশব্যাপী দলটির যে সহিংস ভূমিকা দেখা গেছে, তার পরে এতগুলো আসনে জামায়াতের এই বিজয়কে বেশ বড়ই বলতে হয়।

গত বুধবার অনুষ্ঠিত প্রথম দফার উপজেলা নির্বাচনের আগে দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি অধ্যুষিত অঞ্চল বগুড়ার স্থানীয় বিএনপি নেতারা নিজেদের জনপ্রিয়তার ক্ষেত্রে জামায়াতকে রীতিমতো হুমকি বলে মনে করেছিলেন। আর এর পেছনে আছে একগুচ্ছ শক্ত কারণও। নির্বাচনের পরে ওইসব অঞ্চলের বিএনপি নেতাদের ধারণাকে সত্যি প্রমাণ করে দিয়েছে ফলাফল। দেখা গেছে, জেলাটির অন্তত তিনটি উপজেলায় বিএনপি নেতাদের জয়লাভের একাধিক কারণ থাকা সত্ত্বেও জামায়াতের তিন প্রার্থী বিশাল ব্যবধানে বিএনপিকে হারিয়ে দিয়েছে।

বগুড়া ছাড়াও সারা দেশে অন্তত আরো সাত উপজেলাতেও দেখা গেছে একই চিত্র। শুধু বিএনপিকেই নয়, একইভাবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থীদেরকেও বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছেন জামায়াত প্রার্থীরা।

এদিকে, বগুড়া জেলা বিএনপি প্রাথমিকভাবে বগুড়ার ওই তিনটি আসন জামায়াতকে ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও তৃণমূল নেতা-কর্মীদের প্রচণ্ড বিক্ষোভের মুখে পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে বাধ্য হয় জেলা বিএনপি। বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৯ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে তিন আসনের মাত্র একটি আসন জামায়াতের প্রার্থীর জন্য বরাদ্দ করেছেন স্থানীয় জেলা বিএনপির নেতারা।

বিএনপির স্থানীয় নেতারা মনে করছেন, ওই তিন উপজেলায় বিএনপির একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী চেয়ারম্যান পদের জন্য দাঁড়ানোর কারণেই ভাগাভাগি হয়ে বিএনপির ভোট কমে গেছে, আর এই সুযোগেই জিতে গেছেন জামায়াতের প্রার্থীরা।

বগুড়া জেলা বিএনপির মহাসচিব জয়নাল আবেদীন জানান, বিএনপির অন্তর্দলীয় কোন্দল এবং বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৯ দলীয় জোটবদ্ধ অন্যতম সদস্য জামায়াত চুক্তিভঙ্গ করে বিশ্বাসঘাতকতা করার কারণেই বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা নির্বাচনে এত কম ভোট পেয়েছেন।

এর আগে দেশের উত্তরাঞ্চলের রংপুরে বিএনপি কখনোই খুব একটা শক্ত অবস্থান প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার শ্বশুরবাড়ি এবং জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের বাড়ি এই অঞ্চলে হওয়ায় বিএনপির অবস্থান এই অঞ্চলে খুবই দুর্বল।

অথচ আশ্চর্যজনকভাবে বুধবারের নির্বাচনের পর জাতীয় পার্টি সারা দেশ থেকে স্থানীয় সরকারপ্রধান হিসেবে পেয়েছে মাত্র একজন প্রতিনিধি, তাও আবার রংপুর থেকে নয় বরং গাইবান্ধা থেকে! আরো অদ্ভুত বিষয় হলো, রংপুরের যে দুটি উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে তার একটিতে জামায়াত এবং অন্যটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়লাভ করেছেন।

রংপুর জেলা জাতীয় পার্টির মহাসচিব আবুল মাসুদ চৌধুরী নান্টু জানিয়েছেন, ৫ জানুয়ারির দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং নির্বাচনপরবর্তী সময়ে বিভিন্ন দলের দলীয় কোন্দলকে কেন্দ্র করে সারা দেশে মানুষের মনে জন্ম নেয়া দ্বিধার চিত্রই ফুটে উঠেছে উপজেলা নির্বাচনের ফলাফলে।

নির্বাচনের ফলাফলে দেখা গেছে, দেশের বেশ কয়েকটি উপজেলায় বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা হয় বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন না হয় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ও বিশালসংখ্যক ভোট পেয়ে নির্বাচিত ব্যক্তির নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েছেন। এর মাধ্যমেই বোঝা যায়, দেশের বৃহত্তম দল হওয়ার পরেও আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থী নির্বাচনে বেশ কিছু ভুল করেছিল।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাড়ি এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মস্থান হিসেবে গোপালগঞ্জ বরাবরই আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।  তবে গত বুধবার গোপালগঞ্জের যে দুই উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, অদ্ভুতভাবে এর একটিতে হেরে গেছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী। জেলার মোকসেদপুর উপজেলায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী এবং একই দলের বিদ্রোহী প্রার্থীকে একসঙ্গে হারিয়ে দিয়ে জয়লাভ করেছেন একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী।

মোকসেদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী ওহিদ জানিয়েছেন, স্থানীয় এই সংগঠনটি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে একই কমিটি দিয়ে পরিচালিত হওয়ায় এখানে অভ্যন্তরীণ দলীয় কোন্দল অত্যন্ত বেড়ে গেছে।

স্থানীয় একজন যুবলীগ নেতা শেখ আতিয়ার রহমান জানিয়েছেন, এই অঞ্চলটির ৬৫ শতাংশ হিন্দু জনগণ যেকোনো নির্বাচনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। আর এবার স্থানীয় নেতারা ভুল প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়ায় অঞ্চলটির এই বিশালসংখ্য জনগোষ্ঠী বিভক্ত হয়ে যাওয়ায় এরই প্রতিফলন ঘটেছে উপজেলা নির্বাচনের ফলাফলে।
সূত্র: ঢাকা ট্রিবিউন। –

You may also like

Leave a Comment


cheap mlb jerseyscheap nhl jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseys