বুদ্ধিজীবী হত্যার কায়দায় দেশে গুম-খুন হচ্ছে: ফখরুল

by News Room

নিউজ ডেস্ক: স্বাধীনতার ৪৩ বছর পর নতুন করে চক্রান্ত শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেছেন, স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী চেতনা ধ্বংস করতে বুদ্ধিজীবী হত্যার মতোই এখন দেশে গুম-খুন করা হচ্ছে।

রোববার বিকালে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে বিএনপি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধা ও বুদ্ধিজীবী হত্যার কথা স্মরণ করে ফখরুল বলেন, দেশের সংস্কৃতি ও মনন ধ্বংস করার জন্য পাকিস্তানিরা তাদের দোসরদের দিয়ে বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছিল।  একইভাবে যারা বাংলাদেশে থেকে মুক্তিযুদ্ধ করতে চেয়েছিল, আওয়ামী লীগের ভিন্নমতালম্বী মুক্তিযোদ্ধা, তাদের নিধনের জন্য গঠন করা হয়েছিল একটি আলাদা বাহিনী, মুজিব বাহিনী।”

ফখরুল অভিযোগ করেন, স্বাধীনতার ৪৩ বছর পর আবার নতুন চক্রান্ত শুরু হয়েছে। এখন গুম-খুনের মাধ্যমে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ও ভিন্নমতের লোকদের  নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা হচ্ছে।”

আওয়ামী লীগ নিজেকে ছাড়া আর কাউকে চেনে না, এমন মন্তব্য করে ফখরুল বলেন, “এটাই তাদের চরিত্র। যারাই তাদের বিপক্ষে কথা বলে বা ভিন্নমত পোষণ করে, তাদের পাকিস্তানের চর বা দোসর বলা হয়। জানি না শহীদ বুদ্ধিজীবীরা এখন বেঁচে থাকলে তাদের কী শুনতে হতো।”

আওয়ামী লীগ কত দিন মুক্তিযুদ্ধ করেছে তা হিসাব করে বলে দেয়া যাবে বলে দাবি করেন ফখরুল। তিনি বলেন, “এটা প্রমাণিত যে তাদের রাজনৈতিক নেতৃত্ব মুক্তিযুদ্ধ এবং বাংলাদেশ স্বাধীন হোক তা চাননি। এই হীনম্মন্যতা থেকে আওয়ামী লীগ তাদের ভিন্নমতাম্বলীদের দমন-পীড়ন, গুম-খুন করছে।”

৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে ইতিহাসের সবচেয়ে কলঙ্কজনক নির্বাচন দাবি করে ফখরুল বলেন, “আওয়ামী লীগ হলো লজ্জা, শরম ও হায়াহীন। তারা এখন চড়া গলায় গণতন্ত্রের কথা বলছে। জনগণকে বিভ্রান্ত করতে নানা কথা বলছে, বিভিন্ন রকমের কর্মকৌশল করছে। কিন্তু এতে কাজ হবে না।”

বিএনপির চলমান আন্দোলন প্রসঙ্গে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, “আমাদের আন্দোলন, আমরা একটি নির্বাচন চাই, যে নির্বাচনে সব দল অংশ নেবে, যে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটবে।” ৫ জানুয়ারির নির্বাচন প্রমাণ করেছে আওয়ামী লীগের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না্- এমন দাবি করে ফখরুল দেশের সব বুদ্ধিজীবীকে অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে শরিক হওয়ার আহ্বান জানান।

সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ার বলেন, “আওয়ামী লীগ নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তি দাবি করে। অথচ তারা কে কোথায় যুদ্ধ করেছে তা সবাই জানে। কেউ পাকিস্তানে আবার কেউ ভারতে পালিয়ে গিয়েছিল।”

জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন এমন দাবি করে এম কে আনোয়ার বলেন, “আওয়ামী লীগ এই বিষয়টি নিয়েও নানা অপপ্রচার চালাচ্ছে। কিন্তু ইতিহাসের সত্য একদিন ঠিকই মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে, যার সবশেষ প্রমাণ এ কে খন্দকারের লেখা বই।”

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এমাজউদ্দীন আহমদ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক খন্দকার মোস্তাহিদুর রহমান, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শওকত মাহমুদ প্রমুখ।

You may also like

Leave a Comment


cheap mlb jerseyscheap nhl jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseys