বিশেষ নিবন্ধ – লাশের স্তূপের ওপর মুসলিম জাহানে ‘খুশির’ ঈদ

by News Room

ইলিয়াস হোসেন :

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় নিরাপরাধ মুসলমানদের লাশের স্তূপের ওপর আজ আরব জাহানে পালিত হচ্ছে মুসলমানদের বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর। সোমবার উপসাগরীয় দেশগুলোর শেখ শাসিত পেট্রডলারের মালিক জনগণ যখন সাড়ম্বরে ঈদ উদযাপন করবেন তখন তাদেরই প্রতিবেশি ফিলিস্তিনে চলছে স্বজন হারাদের গগণবিদারী কান্না। অনেক পরিবারে আবার কান্নার মত কোনো সদস্যও আর অবশিষ্ট নেই। ইসরাইলি হায়েনাদের অস্ত্রের আঘাতে ফিলিস্তিনের গাজা শুধু ধ্বংসস্তূপেই পরিণত হয়নি, পরিণত হয়েছে পৃথিবীর বৃহত্তম গণকবরে। পবিত্র রমজান মাসে ইসরাইলের বর্বর হামলায় অন্তত ১,০৬১ ফিলিস্তিনি নিরাপরাধ মানুষ নিহত হয়েছে। আহত হয়ে কাতরাচ্ছেন আরো ৬ হাজারের বেশি লোক। হতাহতদের বেশিরভাগই প্রবীণ, নারী ও শিশু। ফিলিস্তিনে ইহুদিবাদী ইসরাইল যখন নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে তখন ‘মুসলিম উম্মাহর’ অংশীদার আরব রাষ্ট্রগুলো নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে। ইসরাইলি গণহত্যা বন্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়া তো বহু দূরের ব্যাপার, একটি কাগুজে বিবৃতি দিয়েও দায়িত্ব শেষ করার প্রয়োজন বোধে করেনি কোনো আরব রাষ্ট্র। আর এটা যদি অপরাধ হয়, তবে এজন্য সবচেয়ে বেশি দায়ি মুসলিম বিশ্বের কথিত মুরব্বী সৌদি আরব। পবিত্র মক্কা ও মদীনার মালিক সৌদি স্বৈরতান্ত্রিক রাজপরিবার ফিলিস্তিনিদের হত্যাকে নীরবে সমর্থন দিয়ে গেছে। শুধু তাই নয়, ইতোমধ্যেই খবর বেরিয়েছে যে বর্বর ইসরাইলের সাথে তলে তলে সম্পর্ক মজবুত করে ফেলেছে রিয়াদ। শুধু সৌদি আরবকে দায়ী করলেই হবে না, উপগসাগরীয় অন্যান্য দেশেরও একই অবস্থা। কেউ পাশে দাঁড়ায়নি নিপীড়িত ফিলিস্তিনিদের, এমনকি মানবিক সাহায্য নিয়েও নয়। আরব জাহান যেমন নীরব থেকে ইসরাইলি বর্বরতাকে পরোক্ষভাবে সমর্থন দিয়েছে তেমনি একই দোষে দুষ্ট মুসলিম জাহানের অর্ধ শতাধিক রাষ্ট্র। তুরস্ক আর ইরান ছাড়া মুসলিম বিশ্বের কোনো রাষ্ট্রই ইসরাইলি বর্বরতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়নি। মুসলিম উম্মাহর অংশ হিসেবে না হোক, অন্তত নিপীড়িত মানবতার পাশে দাঁড়ানোর নৈতিক দায়বদ্ধতা থেকেও হলেও মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর সোচ্চার হওয়ার কথা ছিল। কিন্ত তা হয়নি। দুর্ভাগ্যজনক ব্যাপার হচ্ছে, ইউরোপ ও আমেরিকায়, এমকি ভারতেও ইসরাইলি বর্বরতার বিরুদ্ধে যত মানুষ রাজপথে নেমেছে মুসলিম বিশ্বের খুব কম দেশেই তেমন জমায়েত হয়েছে। তথাকথিত সেক্যুলার শাসনের অধীনে মুসলিম বিশ্বের জনগণও এখন ভেড়ায় পরিণত হয়েছে। তাদের ঈমানী শক্তি নিঃশেষিত। নৈতিক শক্তিও তলানিতে ঠেকেছে। আজ শুধু ফিলিস্তিনি মুসলমানরাই মার খাচ্ছে না, নিজ দেশের স্বৈরশাসকদের দ্বারা নিপীড়িত হচ্ছে মিশর, সিরিয়া ও ইরাকের মুসলিমরা । নাইজেরিয়া, সুদান, লিবিয়া, তিউনিশিয়া, পাকিস্তানে আগুন জ্বলছে। অধিকার বঞ্চিত সৌদি আরবসহ বেশিরভাগ উপসাগরীয় দেশের জনগণ। বাংলাদেশসহ আরো বহু মুসলিম রাষ্ট্রেই একই অবস্থা। এর অন্যতম কারণ, আরব জাহান থেকে শুরু করে মুসলিম বিশ্বের বেশিরভাগ রাষ্ট্রই পরিচালিত হচ্ছে অগণতান্ত্রিক ও স্বৈরতান্ত্রিক সরকার দ্বারা। মুসলিম বিশ্বে যতদিন সত্যিকারের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত না হবে, জনগণ তাদের অধিকার সম্পর্কে উদাসীন থাকবে ততদিন এ অবস্থা চলতেই থাকবে। এবার ঈদ পালিত হচ্ছে ফিলিস্তিনে লাশের স্তূপের ওপর, আগামী বছর হয়তো লাশের সাগরে ভাসবে অন্য কোনো মুসলিম দেশ।

You may also like

Leave a Comment


cheap mlb jerseyscheap nhl jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseys