বিভক্ত রায়ে কামারুজ্জামানের ফাঁসি বহাল

by News Room

সিলেটের খবর ডেস্ক: একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার চূড়ান্ত রায়ে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামানকে ট্রাইব্যুনালের দেওয়া ফাঁসি বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ।

এখন যেকোনো দিন তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে। তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী এডভোকেট তাজুল ইসলাম বলেছেন, রায়ের সার্টিফাইড কপি হাতে পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে তারা রিভিউ আবেদন করবেন।

সোমবার সকালে আপিল বিভাগের সিনিয়র বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে এই রায় বহাল রাখেন। সকাল নয়টা ১০ মিনিটে এ রায় ঘোষণা করা হয়।

রায়ে ১ নম্বর অভিযোগে কামারুজ্জামানকেকে সর্বসম্মতিক্রমে খালাস প্রদান করা হয়। ২ ও ৭ নম্বর অভিযোগে ট্রাইব্যুনালের দেয়া সাজা সংখ্যাগরিষ্ঠে বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ।

৩ নম্বর অভিযোগে কামারুজ্জামানকে দোষী সাব্যস্ত করা হলেও মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন সংখ্যাগরিষ্ঠের ভিত্তিতে।

এছাড়া ৪ নম্বর অভিযোগেও সংখ্যাগরিষ্ঠের রায়ে তাকে যাবজ্জীবন সাজা দিয়েছেন আপিল বিভাগ। আর ৫ ও ৬ নম্বর অভিযোগে ট্রাইব্যুনাল তাকে খালাস দিয়েছিলেন, তা বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ।

আজ চূড়ান্ত রায়ের সময় আদালতে কামারুজ্জামানের আইনজীবী এসএম শাহজাহান, এডভোকেট তাজুল ইসলাম ও শিশির মো. মুনির উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

গত ১৭ সেপ্টেম্বর শুনানি শেষে মামলাটি অপেক্ষমাণ রাখেন আপিল বিভাগ। এরও আগে গত ১৮ মে থেকে কামরুজ্জামানের মামলার আপিল শুনানি শুরু হয়।

গত বছরের ৬ জুন ট্রাইব্যুনাল-২ এর দেয়া ফাঁসির আদেশ থেকে খালাস চেয়ে আপিল করেন কামারুজ্জামান। আপিলে ২৫৬৪টি মূল ডকুমেন্ট, ১২৪টি গ্রাউন্ডসহ সর্বমোট ১০৫ পৃষ্ঠার ডকুমেন্ট জমা দেয়া হয়েছে।

গত ৯ মে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার রায় ঘোষণা করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

তার বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের আনা সাতটি অভিযোগের মধ্যে পাঁচটিই সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ হওয়ায় এ রায় ঘোষণা করেন ট্রাইব্যুনাল। এছাড়া বাকি দুটি অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি মর্মে তাকে খালাস দেয়া হয়।

স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে ময়মনসিংহের নাসিরাবাদ কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন মুহাম্মদ কামারুজ্জামান। এরপর ১৯৭৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে থেকে মাস্টার্স পাস করেন তিনি।

১৯৭৮-৭৯ সালে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতির দায়িত্ব পান তিনি। এরপর ১৯৭৯ সালের অক্টোবরে কামারুজ্জামান জামায়াতে ইসলামে যোগ দেন এবং ওই বছর ১৬ ডিসেম্বর রুকন হন।

১৯৮২-১৯৮৩ সালে কামারুজ্জামান জামায়াতে ইসলামের মুখপত্র দৈনিক সংগ্রামের নির্বাহী সম্পাদকের দায়িত্ব পান। ১৯৯২ সাল থেকে তিনি দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলের দায়িত্বে রয়েছেন।

You may also like

Leave a Comment


cheap mlb jerseyscheap nhl jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseys