বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিবেদন- জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ৬.২%, মূল্যস্ফীতি ৭.৩%

by News Room

সিলেটের খবর ডেস্ক: বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাংক। মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক এ উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাটির ঢাকা কার্যালয়ে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।

বিশ্ব ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন ‘বাংলাদেশ ডেভলপমেন্ট আপডেট-২০১৪’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন।

তিনি বলেন, চলতি অর্থবছর শেষে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ৬.২%, মূল্যস্ফীতি দাঁড়াবে ৭.৩%। এবছর দেশের অতি দারিদ্র্যের হার ২৪.৪৭। তবে বাংলাদেশের জন্য বেশ কিছু ঝুঁকিও রয়েছে।

 

২০১৫ সালে মার্চ পর্যন্ত তেলের দাম একই রকম থাকবে এমন খবর দিয়ে তিনি বলেন, এতে করে বাংলাদেশের উৎপাদন খরচ কমবে, যা একটি ভালো দিক।

তিনি আরো বলেন, সাধারণত যেভাবে বিনিয়োগ বাড়ার দরকার সেভাবে বাড়েনি। ব্যক্তিখাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। চলতি অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি

হবে ৬.২ শতাংশ।

 

বিশ্ব ব্যাংক পূর্বাভাস দিয়েছে, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৬.২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হবে। এর পেছনে প্রধান ভূমিকা রাখবে সরকারি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি। এর ফলে অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধি ব্যক্তি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, রেমিটেন্স প্রবাহ বাড়বে। এতে অভ্যন্তরীণ চাহিদাও বৃদ্ধি পাবে।

 

তৈরি পোশাক খাতের মজুরি বৃদ্ধিও জিডিপি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করে সংস্থাটি।

 

এর আগে গত ২৫ সেপ্টেম্বর এডিবির ‘এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক ২০১৪’ এর হালনাগাদ প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ৬.৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি (জিডিপি প্রবৃদ্ধি) হবে। আর গড় মূল্যস্ফীতি গতবারের ৭.৪ শতাংশ থেকে ৬.৫ শতাংশে নেমে আসবে।

 

তবে সরকার চলতি অর্থবছরে ৭.৩ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির আশা করছে।

 

আজ উপস্থাপিত প্রতিবেদনে বিশ্ব ব্যাংক দেখিয়েছে, চলতি অর্থবছরে কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধি কমে ২ শতাংশে দাঁড়াবে, শিল্প খাতে বিনিয়োগ দুই অঙ্কের কৌঠায় ঠেকবে। সঙ্গে সেবা খাত চাঙ্গা হওয়ার প্রবৃদ্ধি হবে ৬.১ শতাংশ। অন্যদিকে ব্যয়ের বিষয়টি বিবেচনা করলে ভোগে প্রবৃদ্ধি হবে ৪.৯ ভাগ।

 

বিনিয়োগে ৬.৫ ভাগ, রপ্তানিতে ৬ শতাংশ, আমদানিতে ২ শতাংশ। সব মিলিয়ে চলতি অর্থবছর শেষে প্রবৃদ্ধি হবে ৬.২ শতাংশ।

 

৮ শতাংশের উপরে প্রবৃদ্ধি অর্জনের ক্ষেত্রে কয়েকটি চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে মনে করে বিশ্ব ব্যাংক। এর মধ্যে তৈরি পোশাক খাতে যে সংস্কার চলছে সেটি বাস্তবায়ন, মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যেমন: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সড়ক, ইকনোমিক জোন বাস্তবায়ন, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক, পদ্মা ব্রিজ, ঢাকা মেট্রোরেল ও বিবিয়ানা গ্যাস ফিল্ডে বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ দ্রুত সময়ে বাস্তবায়ন করতে হবে।

 

এগুলো করতে পারলে আগামী চার পাঁচ বছরে জিপিডি প্রবৃদ্ধি ৮ ভাগ হতে পারে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেছে বিশ্ব ব্যাংক।

 

জাহিদ হোসেন বলেন, বছরে গড়ে ১ থেকে দেড় বিলিয়ন টাকা আন অফিসিয়ালি দেশ থেকে বের হয়ে যায়।

 

তিনি বলেন, বাংলাদেশে দ্রুত গতিতে কমছে দারিদ্র্যতা। গত কয়েক বছরে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশের উপরে রয়েছে। একই সঙ্গে কৃষিতে ৩.৩ শতাংশ ও রেমিটেন্সে প্রবৃদ্ধি ৬.৭ শতাংশ হারে হয়েছে, যা দারিদ্র বিমোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

অর্থনৈতিক ঝুঁকি প্রসঙ্গে জাহিদ বলেন, আগামী দিনের অর্থনীতিতে সব থেকে বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখছি রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা। এ কারণে ব্যক্তিখাতে বিনিয়োগে ধস, উচ্চমূল্যস্ফীতি মতো অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। রপ্তানি খাতের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে তৈরি পোশাক খাত ও মধ্যপ্রাচ্য শ্রমিকদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ।

প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে বিশ্ব ব্যাংকের ঢাকা মিশন প্রধান ইউহানেস জাট জানান, ইবোলো ভাইরাসে বৈশ্বিকভাবে ৪০০ মিলিয়ন ডলার জরুরি সাপোর্ট দিয়েছে। তবে বাংলাদেশের জন্য তেমন কোনো সাপোর্ট এই মুহূর্তে দরকার নেই।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- সংস্থাটির প্রধান অর্থনীতিবিদ সালমান জাইদি ও বিশ্ব ব্যাংকের যোগাযোগ কর্মকর্তা মেহরিন এ মাহবুব।

You may also like

Leave a Comment


cheap mlb jerseyscheap nhl jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseys