পাত্রী চাই, তবে কমবয়সী!

by News Room

সিলেটের খবর ডেস্ক:বিয়ের মাধ্যমে জীবনসঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের বিবেচনার বিষয়গুলো সামাজিক অবস্থানের ভিন্নতার কারণে আলাদা হয়ে থাকে।

মেয়েদের কাছ থেকে একটি অভিযোগের সুর প্রায়ই শোনা যায়, একটি ছেলের চেহারা বা বয়স যেমনই হোক না কেন, সঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে অনেকেরই প্রধান মাপকাঠি থাকে চেহারার সৌন্দর্য এবং অপেক্ষাকৃত অল্প বয়স।

অনেক ক্ষেত্রে মেয়েদেরও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বন বা শিক্ষাগত যোগ্যতা যা-ই থাকুক না কেন, সঙ্গীর পেশাগত প্রতিষ্ঠা এবং আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়টিই মেয়েরা প্রাধান্য দেয়। কিন্তু প্রশ্ন আসে এসব বিবেচ্য বিষয়গুলো দাম্পত্যজীবনের একট দীর্ঘ পথ সুন্দরভাবে চলার জন্য কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ।

যে মেয়েটি তার চমৎকার মানসিক গঠন, বুদ্ধিমত্তা ও বিবেচনাবোধের কারণে দারুণ একজন পথ চলার সঙ্গী হতে পারত, শুধু বাহ্যিক বৈশিষ্ট্যের কারণেই কি সে উপেক্ষিত হবে? অথবা যে ছেলেটির দৃঢ় আত্মপ্রত্যয়, অনুভূতিশীল মন এবং দায়িত্ববোধ একজন নারীকে একটি সুন্দর দাম্পত্যজীবন দিতে পারে। কিন্তু আর্থিক সচ্ছলতার বিবেচনায় সে কি এ ক্ষেত্রে কম বিবেচিত হবে?একটি সফল দাম্পত্য সম্পর্ক মূলত পারস্পরিক আকর্ষণ, ভালোবাসা ও বন্ধুত্বের দৃঢ় ভিত্তিতে গড়ে ওঠে। তবে সম্পর্কের প্রথম দিকে পরস্পরের প্রতি আগ্রহ তৈরিতে এবং কাছে আসতে এই আকর্ষণের গুরুত্ব একেবারে উপেক্ষা করা যায়না।

অপরিচিত দুজন নর-নারীর মধ্যে তাদের বাহ্যিক ও আনুষঙ্গিক বৈশিষ্ট্য (যেমন—সৌন্দর্য, বয়স, বাচনভঙ্গি, এমনকি আর্থিক অবস্থান, ক্ষমতা ইত্যাদি) আকর্ষণ তৈরির ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে প্রয়োজনীয় হতে পারে। কিন্তু দাম্পত্য সম্পর্কের প্রতিদিনের জীবনে এবং দীর্ঘ পথ চলায় এই আকর্ষণ ক্রমেই ফিকে হয়ে আসে।

শেষ পর্যন্ত ভালোবাসার মায়া এবং নিবিড় বন্ধুত্ব একটি আনন্দময় সম্পর্কের অন্যতম নির্ধারক হয়ে ওঠে। ফলে প্রথম দিকে যেসব গুরুত্বপূর্ণ ছিল, সেগুলো ম্লান হয়ে পরস্পরের মানসিক গঠনে মিল, দুজনের চিন্তা ও অনুভূতি বুঝতে পারা, মানসিক চাহিদা পূরণ করা ইত্যাদিই মুখ্য হয়ে ওঠে এবং তাদের ভালোবাসা ও বন্ধুত্বের ভিত মজবুত হয়।

অনেক ক্ষেত্রে একটি প্রশ্ন আসে, বয়সের কতটুকু ব্যবধান একটি সফল সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রয়োজন? মনোবিজ্ঞানে এর কোনো সুনির্দিষ্ট সীমারেখা নেই। মানসিক গঠনে মিল ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ থাকলে শুধু বয়স বা অন্য কিছুর ব্যবধান বাধা হয়ে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা কম।
তবে সম্পূর্ণ অপরিচিত নারী-পুরুষ যখন একটি বিয়ের মাধ্যমে যুক্ত হয়, তখন অনেক ক্ষেত্রে বয়সের অতিরিক্ত ব্যবধান বড় হয়ে দেখা দিতে পারে।

অনেক সময় ছেলেদের বয়স যথেষ্ট বেশি হলে পাত্রী হিসেবে কম বয়সের মেয়েদেরই প্রাধান্য দেওয়া হয়। যদিও ইদানীং অনেক ছেলের মধ্যেই এ ধরনের মনোভাবের পরিবর্তন দেখা যায়।দাম্পত্যজীবন নারী-পুরুষের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সুতরাং, প্রথাগত ভাবনা থেকে কিছুটা বেরিয়ে এসে সজীব মানসিক গঠন, জীবন সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গির মিল, ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট্যের প্রতি আরও জোর দেওয়া প্রয়োজন।

কম বয়স প্রাধান্য দেওয়ার নানা মনস্তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা রয়েছে। যেমন—জৈবিক আকর্ষণ বিবেচনায় রেখে মানসিক আকর্ষণের বিষয়টি সম্পূর্ণ উপেক্ষিত হয়।
– অল্প বয়সের মেয়েদের সঙ্গে পরিবার ও নিজের ব্যক্তিত্বের সংঘাত কম হওয়ার প্রত্যাশায়।
– সম্পর্কের মধ্যে নিজের আধিপত্য ও নিয়ন্ত্রণ রাখার ইচ্ছা।
– সন্তান ধারণের বিষয়।
– পারিবারিক চাপ।
– সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রভাব।

এসব বিবেচনা এলেও তা কতটুকু গ্রহণযোগ্য ও সফল দাম্পত্য সম্পর্কের সহায়ক সেটি প্রশ্নবিদ্ধ। অনেক সময়ই বয়সের ব্যবধান বেশি হলে হিতে বিপরীত হয়ে যায়।

– বয়সের সঙ্গে আমাদের মানসিক গঠন ও মানসিক চাহিদা-সম্পর্কিত বলে অনেক ক্ষেত্রে ভিন্নতা থাকার সম্ভাবনা বেশি থাকে। যার ফলে মানসিক দূরত্ব তৈরি হতে পারে। পরস্পরের প্রতি আকর্ষণের ক্ষেত্রে প্রভাব পড়তে পারে।
– বেশি বয়স অনেকের মধ্যে সম্পর্কজনিত নিরাপত্তাহীনতা বোধ তৈরি করতে পারে। যা থেকে স্ত্রীর প্রতি অহেতুক সন্দেহ, অধিক নিয়ন্ত্রণ করার প্রবণতা এবং দাম্পত্য অশান্তি দানা বাঁধতে পারে।
– পুরুষেরা তাদের বেশি বয়স নিয়ে হীনম্মন্যতায় ভুগতে পারে।
– ক্ষেত্রবিশেষে কম বয়সের মেয়েদের মানসিক গঠন অপরিপক্ব থাকে। ফলে দাম্পত্যজীবনের নতুনত্ব ও শ্বশুরবাড়ির ভিন্ন পরিবেশের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিয়ে সমস্যা হতে পারে।

You may also like

Leave a Comment


cheap mlb jerseyscheap nhl jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseys