পরাজয় পিছু ছাড়ছে না টাইগারদের

by News Room

নিউজ ডেস্ক: বছরের প্রথম ওডিআই ম্যাচে বৃষ্টির হানা। মুশফিকদের প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা। বৃষ্টির কারণে সাত ওভার কমিয়ে ৪৩ ওভারে খেলানোর সিদ্ধান্ত নেন আম্পায়াররা। টস জিতে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম শ্রীলঙ্কাকে ব্যাট করতে পাঠান। বোলারদের নৈপুণ্যে লঙ্কানদের ১৮০ রানে অলআউট করে দেয় টাইগাররা।

কিন্তু ১৮১ রানের মামুলি টার্গেট কঠিন করে ফেললো স্বাগতিকরা। নিজেদের পরিচিত পরিবেশে শেষ পর্যন্ত ৩৯.২ ওভারে ১৬৭ রানেই গুটিয়ে গেলো স্বাগতিকরা। ১৩ রানে জিতে গেলো সফরকারি শ্রীলঙ্কা। সেই সাথে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে গেলো তারা। লঙ্কানদের বিপক্ষে দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজ ১-০তে এবং দুই ম্যাচ টি-২০ সিরিজ ২-০তে হেরেছে বাংলাদেশ। সোমবার প্রথম ওয়ানডেতে ১৩ রানে হেরে যাওয়ায় এই সিরিজে পরাজয় পিছু ছাড়ছে না বাংলাদেশের।

মূলত মিডল অর্ডারে সাকিব, নাসির আর মাহমুদুল্লাহ-ই ডুবিয়েছে বাংলাদেশকে। বিশেষ করে শেষ দিকে যখন উইকেট হাতে নেই তখন ওভাবে মুশফিক না মারলেও পারতেন। শেষদিকে উইকেট হাতে থাকলে জয়টা পেয়ে যেত মুশফিকরা।

বৃষ্টিতে আউট ফিল্ড ভেজা থাকায় টস জিতে ব্যাট তুলে দিলেন মুশফিক লঙ্কানদের হাতে। শুরু থেকেই চেপে ধরা মুশফিকদের বোলিং আক্রমণে দিশেহারা লঙ্কানরা ৬৭ রানে হারায় ৮ উইকেটে! কিন্তু ৯ম জুটিতে ৮২ আর  আর ১০ম জুটিতে ৩১ রানের কল্যাণে লঙ্কানরা ১৮১ রানের টার্গেট দিতে সক্ষম হয়। দুই জুটিতে পার্টনারশিপ করে থিসারা পেরেরা করেছেন ৮০ রান! জীবন পেয়েছেন তিন বার! তবে বাংলাদেশ শিবিরে স্মরণীয় হয়ে থাকল অভিষেক ম্যাচে আরাফাত সানীর ২টি আর পেসার আল আমিনের এক উইকেট শিকার।

টানা দুই দিন বৃষ্টির পর টস যে বিশাল ফ্যাক্টর তা বোঝা গেল লঙ্কানরা টসে হেরে ব্যাট করতে নামলে। ৬ স্পিনার নিয়ে খেলতে নামা বাংলাদেশ যে লঙ্কান ব্যাটিং লাইনকে চেপে ধরবে তা জানা ছিল। চট্টগ্রাম দুই টি২০ ম্যাচে শেষ বল পর্যন্ত জয়ের জন্য অপেক্ষা করা লঙ্কানরা তো বলেই দিয়েছে বাংলাদেশ যেকোনো কিছু করতে পারে। সোমবার তিন ম্যাচের প্রথমটিতে মুশফিক ইনজুরি কাটিয়ে আবার একাদশে ফিরলেও উইকেট কিপিংয়ের দায়িত্বটা এনামুলের কাধেই দিয়ে রাখলেন। আর হালকা ইনজুরির অজুহাতে তামিম একাদশের বাইরে। অন্যদিকে উইকেট দেখে মাশরাফিকেও একাদশের বাইরেই রাখা হল। তারপরও বাংলাদেশ শিবির ছিল উজ্জীবিত।

১৮১ রানের মামুলি টার্গেট তাড়া করতে নেমে এনামুল স্কোর বোর্ডে রান যোগ হবার আগেই ওভারের দ্বিতীয় বলটি খোঁচা দিয়ে স্লিপে ক্যাচ দিলেন ম্যাথুসের হাতে। মালিঙ্গা আর কুলাসেকারার দুই দিকের পেস আক্রমণের সঙ্গে ম্যাথুসের তিন আক্রমন সামাল দিয়ে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে শামসুর আর মমিনুল ধীরে ধীরে সেট হয়ে উঠেন। এবং এক পর্যায়ে হাত খুলে রানের চাকা সচল রাখলেন। ১০ ওভারে দলীয় স্কোর ৪৯ আর তাতে মমিনুলের ২৭ এবং শামসুরের ১৭। এই জুটিটাই মূলত জয়ের স্বপ্ন দেখাতে শুরু করে। ১২ ওডিআই খেলা মমিনুল ফিফটির দেখা পাননি। ২০১৩ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ফতুল্লায় ৪৩ রানে আউট হয়েছিলেন। এবার ১৩ম ওডিআইতে লঙ্কান বিপক্ষে প্রথম ওডিআই ফিফটির দেখা পাবার স্বপ্নটা স্বপ্নই রয়ে গেল। পেরেরার বলে ৪৪ রান করা মমিনুল দিলশানের হাতে সহজ ক্যাচ তুলে বিদায়। তবে ৭৮ রানের জুটি জয়ের পথ তৈরি করে দিয়ে যায়। ক্রিজে মুশফিক এলেন। আর ৩২ রান করা শামসুর হাত খুলতে শুরু করেন।

তৃতীয় ওডিআই খেলতে নামা শামসুর পেরেরা ওভারে (ইনিংসের ১৭তম) পর পর দুই ছক্কা দিয়ে ক্যারিয়ারে দ্বিতীয় ফিফটির দেখা পেলেন। আর ১৬.৫ ওভারেই বাংলাদেশের ভান্ডারে জমা হয়েছে দলীয় শত রান। ৪৩ ওভারের ম্যাচে শেষ ২৪ ওভারে জয় পেতে দরকার ছিল ৮১ রান। হাতে অক্ষত ৮ উইকেট। কিন্তু ৪৯ বলে ৬২ রানে শামসুর রান আউট। এরপর মুশফিক-সাকিবের চতুর্থ জুটি জয়টাকে এগিয়ে নিতে দায়িত্ব কাধে নেয়। অহেতুক বলে খোঁচা মেরে ৩ রান করা সাকিব রান আউট হলেন। শান্ত হয়ে যাওয়া গ্যালারির দর্শকদের আবার উত্তেজিত করলেন নাসিরের ব্যাট। কিন্তু ৮ রান করে নাসির স্লিপে ক্যাচ তুলে বিদায় নিয়ে জয়টাকে কঠিন করে দিলেন। আর কঠিনটা ভয়ঙ্কর হয়ে যায় পরের বলে মাহমুদুল্লাহ শূন্য রানে ক্যাচ দিলে। স্কোর ৬ উইকেটে ১৩৩ রান। ১৪.৩ ওভারে ৪৮ রান প্রয়োজন। ভরসা ছিল ক্রিজে অধিনায়ক মুশফিক ছিলেন। আর ১৪২ রানে ৭ উইকেট সোহাগ গাজী ক্যাচ দিলেন ব্যক্তিগত ৬ রানে। ৪০ বল খেলে মুশফিক ১৬ রানে লড়ছেন একাই। কুলাসেকারার বলে বিশাল ছয় মেরে দলের দেড় শত রান টপকালেন। ওভার প্রতি রান দরকার ২.৯০। ৫৯ বলে ২৮ রান। আরাফাত সানীও আউট। ৮ উইকেটে ১৬২, মুশফিক শেষ ভরসা। কিন্তু হায় মুশফিক এ কি করলেন। বলের উল্টো দিকে ব্যাট চালালেন। এটা তো চেয়েছেন কিপার সাঙ্গাকারা। ক্যাচ তুলে নিতে বিলম্ব করলেন না। ১৯ রান দূরে থাকা জয়ের শেষ আশাটাও শেষ হল।

এর আগে লঙ্কান ইনিংসের শুরুতেই আঘাত। দলের মাত্র ২২ রান আর ওপেনার দিলশানের ৩ রান। পেসার রুবেল ফিল্ডার মুশফিকের হাতে ক্যাচে পরিনত করলেন দিলশানকে। এরপর দলের ২৮ রানে কুসাল পেরেরা নিজের ২০ রানে সেই রুবেলের ডেলিভারিতে এলবি’র ফাঁদে। আর ৮ রান নিয়ে উইকেটে সেট হয়ে যাওয়া সাঙ্গাকারাকে দলের ৪৩ রানে আরেক পেসার আল আমিন আরাফাত সানীর হাতে ক্যাচ বানালে পরিস্কার হয়ে যায় লঙ্কার রানের সংখ্যাটা আজ বেশি দূরে যাবে না।

চতুর্থ ব্যাটসম্যান প্রিয়াজ্ঞানকে ৬ রানে সাকিব এলবি’র ফাঁদে ফেলে সাঁজ ঘরের পথ দেখান। আর ১৩ রান করা চান্দিমালকে সাকিব-আরাফত রান আউট করেন। লঙ্কানদের স্কোর তখন ৫ উইকেটে মাত্র ৫৮! বিষয়টা তখন ছিল লঙ্কানরা কত রানে অলআউট হয় সেটা দেখা। মনে হয়েছিল ম্যাথুস আর ভিথানাগি দাঁড়িয়ে যাবেন। হল না, কারন ম্যাথুসকে ৩ রান করার পর সানী বোল্ড করে নিরাশ করেন। দলের রান ৬ উইকেটে ৬২! সপ্তাম ব্যাটসম্যান নুয়ান কুলাসেকারাকে শূন্য রাতে সানী বোল্ড করলে লঙ্কানদের শত রানের দলীয় স্কোর নিয়ে শঙ্কা জেঁগে উঠে। কারন স্কোর তো ৬৪ রানের বেশি হয়নি। কিন্তু ভিথানাগি ক্রিজে ছিলেন। তবে ৭ রানে তাকে মুশফিকের থ্রোতে রান আউট হতে হয়। স্কোর ৮ উইকেটে ৬৭ রান! ৮ম ব্যাটসম্যান হিসাবে সেনানাইয়াকিকে ক্রিজে আর সঙ্গী থিসারা পেরেরা।  ৫ রানে থাকা সেনানায়েকে সোহাগের বলে স্লিপে ক্যাচ দিলেও মাহমুদুল্লাহ ব্যর্থ হলেন।

কিন্তু ৯ম জুটিতে থিসারা পেরেরা আর সেনানায়েকে আসল কাজটা সেরে দিলেন ৮২ রান যোগ করে। ৬৭ রানে ৮ উইকেটে থেকে স্কোর ৯ম জুটিতে ১৪৯ রান! অবশ্য এর বড় কৃতিত্ব বাংলাদেশ ফিল্ডারদের একাধিক ক্যাচ মিস। শেষ অবদি দলের ১৪৯ রানে সাকিব সেনানায়েকে ৩০ রান করার পর বোল্ড করলে আতংক কেটে যায় মনে হয়। কিন্তু ১০ম জুটিতে আবারও এগিয়ে যেতে চেষ্টা করে লঙ্কানা। এবার থিসারার সঙ্গী মালিঙ্গা। শেষ জুটিতে ৩১ রান যোগ হয়। লঙ্কানরা অলআউট হয় ১৮০ রানে। এতো দূর যাবার কথা ছিল না। যদি ১০ম জুটিরও দুইটি ক্যাচ মিস না হত।

You may also like

Leave a Comment


cheap mlb jerseyscheap nhl jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseys