নিউ ইয়র্কে হাসিনা-মোদি বৈঠকের প্রস্তুতি

by News Room

ডেস্ক: জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠক নিয়ে ইতিমধ্যে প্রস্তুতি শুরু করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

নিউ ইয়র্কে দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে শেখ হাসিনার অবস্থান কী হবে বা তিনি কোন বিষয়ে কিভাবে কথা বলবেন তার প্রস্তুতি নিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি বৈঠক হয়েছে।  এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী এই বৈঠকের বিষয়গুলো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করছেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রের বরাত দিয়ে আসামের প্রভাবশালী বাংলা দৈনিক সাময়িক প্রসঙ্গ শুক্রবার এই তথ্য জানায়।

দুই প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সাক্ষাতের আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের একটি বৈঠক (এফওসি) আগামী সেপ্টেম্বরে নয়া দিল্লিতে হওয়ার সূচি রয়েছে।

তবে ভারতের তরফে সময়স্বল্পতার কারণে তা নির্ধারিত সময়ে না হওয়ার সম্ভাবনার কথাও জানায় সাময়িক প্রসঙ্গ।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের ওই বৈঠকে দুই দেশের শীর্ষ সাক্ষাতের আলোচ্যসূচি নির্ধারণ হওয়ার কথা ছিল। এ কারণে নিউ ইয়র্কে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর হাসিনা-মোদির বৈঠকের জন্য আলাদাভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

সাময়িক প্রসঙ্গ জানায়, দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে বৈঠকের আগে নয়া দিল্লিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের একটি পুরনো সূচি রয়েছে; যা ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের ঢাকা সফরের সময় গত জুনেই আলোচনা হয়।

দুই দেশের মধ্যে জয়েন্ট কনসালটেটিভ কমিশন জেসিসির আওতায় এই বৈঠক হওয়ার কথা। সেপ্টেম্বরের ১৫ থেকে ২০ তারিখের মধ্যে এই বৈঠকের সময় নির্ধারণ করা হয়।

দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে চূড়ান্ত বৈঠকের আগে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান আলোচ্য ইস্যু নিয়ে এতে আলোচনার উদ্দেশ্য ছিল দুই দেশের।

সাময়িক প্রসঙ্গ জানায়,নিউ ইয়র্কে দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক যেন নিছকই আনুষ্ঠানিকতা না হয়, সে বিষয়ে লক্ষ্য রেখে একটি ফলপ্রসূ বৈঠক করার জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে এই বৈঠকের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছিল।

তবে নরেন্দ্র মোদির ভারত সফর এবং এরপরই জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সম্মেলন উপলক্ষ্যে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তথা মন্ত্রী ব্যস্ত থাকায় নয়া দিল্লিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের জেসিসির ওই বৈঠক নির্ধারিত সময়ে নাও হতে পারে।

তবে নয়া দিল্লিতে বৈঠক না হলে নিউ ইয়র্কে দুই প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতের বিষয়বস্তু নির্ধারণে তাই এককভাবে পৃথক আলোচ্যসূচি তৈরি করছে বাংলাদেশ।  অবশ্য নয়া দিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সঙ্গে হাইকমিশনের মাধ্যমে যোগাযোগ করেই চূড়ান্ত করা হবে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী একজন মুখপাত্রের বরাত দিয়ে সাময়িক প্রসঙ্গ জানায়,নিউ ইয়র্কে সাধারণ পরিষদের সম্মেলনের ফাঁকে (সাইডলাইন) ওই বৈঠক যেহেতু প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে শেখ হাসিনার প্রথম বৈঠক; এই কারণে ওই সাক্ষাতে সার্বিক সম্পর্কের বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। তিস্তা চুক্তি সহ দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা বিষয়গুলোকে তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

নির্ধারিত সূচি অনুসারে ২৭ সেপ্টেম্বর সাধারণ অধিবেশনে বক্তব্য দেবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এই উপলক্ষে দুই নেতাই কমপক্ষে আগের দিন নিউ ইয়র্কে পৌঁছাবেন। কাজেই ২৭ সেপ্টেম্বরের আগে-পরে যেকোনো দিন দুই প্রধানমন্ত্রীর সাইডলাইনে বৈঠক আয়োজন করা হবে।

ঐতিহ্য অনুসারে যেকোনো দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানরা গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোর সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে সাইডলাইনে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করে থাকেন। সর্বশেষ গত বছর জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে সাইডলাইনে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন।

কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে আসামের প্রভাবশালী এই দৈনিক পত্রিকাটি জানায়,তিস্তা চুক্তি ও স্থল সীমান্ত চুক্তি গত কয়েক বছর ধরেই দুই দেশের মধ্যে একটি অস্বস্তির কারণ হিসেবে রয়েছে।

এর মধ্যে মোদি সরকারের পক্ষে সরকারি সমাধান সম্ভব এমন বিষয় হলো স্থলসীমান্ত চুক্তি অনুমোদন।

১৯৭৪ সালের ওই চুক্তি এবং ২০১১ সালের সই হওয়া এ সম্পর্কিত প্রটোকল অনুমোদনের জন্য ভারতের সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে।

বিজেপির মতো একক সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকারের পক্ষে সংবিধান সংশোধন করতে কোনো সমস্যাই হবে না।  যদিও আসাম রাজ্য বিজেপি ও তাদের সমমনা দলগুলোর এই চুক্তি নিয়ে কিছু আপত্তি রয়েছে। তবে আগামী দুই এক মাসের মধ্যেই এসব বিষয় নিয়ে দল ও দলের বাইরে আলোচনা করে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

দৈনিক সাময়িক প্রসঙ্গ আরো জানায়,বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব আশা করছে,সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে নভেম্বরের শেষে বা ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে লোকসভার শীতকালীন অধিবেশনে চুক্তিটি অনুমোদন করে সংবিধান সংশোধন করা সম্ভব হতে পারে।  যা হবে বাংলাদেশের জন্য মোদি সরকারের একটি দৃশ্যমান উপহার। এর বাইরে তিস্তা ও ফেনী নদীসহ ছয়টি নদীর জলবণ্টনের চুক্তির জন্যও মোদিকে সওয়াল করতে পারেন শেখ হাসিনা।

You may also like

Leave a Comment


cheap mlb jerseyscheap nhl jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseys