দেখার হাওরে উতারিয়া বাঁধঃ পিআইসির বিরোদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ

by News Room

মোঃ সুহেল আলম, সুনামগঞ্জ,: দণি সুনামগঞ্জ উপজেলার জয়কলস ইউনিয়নের উতারিয়া বাঁধে পিআইসির অনিয়ম-দুর্নীতির কোন হিসাব নেই। জেলার বোরো ধানের বৃহৎ হাওর দেখার হাওর। যে হাওরে দণি সুনামগঞ্জ, সুনামগঞ্জ সদর, ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলার কয়েক লাখ কৃষকের বোরো জমি অবস্থিত। হাওরের  পানি নিষ্কাশনের অন্যতম রাস্তা এই উতারিয়া খাল। মহাসিং নদীর সঙ্গে এই খাল সংযুক্ত। এই খালের উপর নির্মিত বাঁধ অকালে ভেঙ্গে গেলে ওই ৪ উপজেলার কয়েক লাখ কৃষকের ৬ মাসের পরিশ্রম জলে যাবে। নিঃস্ব হয়ে যাবে কৃষকরা। তাই অন্যান্য বাঁধের চেয়ে এই বাঁধের প্রতি বিশেষ নজর থাকে স্থানীয় কৃষক, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও উপজেলা প্রশাসনের। কিন্তু ওই হাওরের ফসল রা বাঁধ নির্মাণে (প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি) পিআইসির সভাপতি দণি সুনামগঞ্জ উপজেলার জয়কলস ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদ মিয়া সাব ঠিকাদার নিয়োগ করেছেন।
সাব ঠিকাদার নিজের স্বার্থ রা করে দায়সারা গোছের কাজ করছেন বলে ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে ওই বাঁধের কাজ দেখতে গেলে বাঁধের কোথাও এমনকি আশপাশের এলাকায় কাজের বিবরণী সম্বলিত কোন সাইন বোর্ড দেখা যায়নি। হাওর পাড়ের কৃষকদের অভিযোগ দেখার হাওরের বাঁধ নির্মাণের কাজে নিজের ইচ্ছামতো কাজ করছেন চেয়ারম্যান-মেম্বাররা। স্থানীয় কৃষকদের সহায়তায় নির্মাণাধীন বাঁধ লাঠি দিয়ে মেপে দেখা বাঁধের দৈর্ঘ মাত্র ৭৫ ফুট। বাঁধের প্রস্থ পশ্চিম প্রান্তে ১৫ ফুট, মাঝে ১২ ফুট, পূর্ব প্রান্তে ১২ ফুট । বাঁধের পশ্চিম ও পূর্ব পাশে অনেক স্থানে মাটি দেয়া হয়নি। অথচ প্রাক্কলন অনুসারে বাঁধের দৈর্ঘ-প্রস্থ আরও অনেক বেশি হওয়ার কথা।
উপস্থিত কৃষকরা গেল বছরের পুরানো মাটি দেখিয়ে বলেন গত বছর সারা বাঁধের উপর মাটি দেয়া হলেও এবার মাত্র ৫০ হাত বাঁধ বানানো হয়েছে। এক কৃষক বলেন, ‘অন্য বছর বান অনেক ফাস (প্রস্ত) করা হইলেও এবার মাত্র ৮ হাত ফাস কইরা বান দেওয়া অইছে। বান্দের সলুপ দেওয়া হইছে অনেক কম।’
বাঁধের কাজ অন্য বছরে তুলনায় অনেক খারাপ হয়েছে দাবি করেন এলাকার মানুষ। কথা হয় এলাকার অনেক কৃষকের সাথে। স্থানীয় কৃষকদের দাবি বাঁধের কোন এলাকায় কত টাকার কাজ হচ্ছে, কারা কাজ করছে, কবে শেষ হবে, কাজের মেয়াদ কত দিন এসব বিষয়ে কিছুই জানেন না স্থানীয় লোকজন। বাঁধের পিআইসির সভাপতি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদ মিয়া কোন স্থানেই সাইনবোর্ড লাগিয়ে রাখেননি। দেখার হাওরের রণাবেণের দায়িত্বে নিয়োজিত পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী বরকত উল্লাহর মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
উতারিয়া বাঁধের পিআইসির সভাপতি জয়কলস ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদ মিয়া বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম-দুর্নীতির সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, উতারিয়া বাঁধ ও হলদিরকারাসহ বেশ কয়েকটি বাঁধের মোট বরাদ্দ ১৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা। দুই কিস্তিতে মোট বরাদ্দের প্রায় অর্ধেক টাকা তিনি উত্তোলন করেছেন। ওই বাঁধের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে বলে দাবি করে তিনি বলেন, কৃষকদের অভিযোগ সঠিক নয়। তিনি বলেন, সাইন বোর্ড চুরি হয়ে যেতে পারে এই কারণে শ্রমিকরা কাজ শেষে বাড়িতে নিয়ে যায়। উতারিয়া বাঁধের দৈর্ঘ্য ৭৫ ফুট ও প্রস্থ ১৮-২০ ফুট নির্মাণ করা হয়েছে। হাওরের ফসল কাটা পর্যন্ত হাওরের ওই বাঁধ তাদের প থেকে রণাবেণ করা হবে। বাঁধ নির্মাণে কাউকে সাব ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সাঈদ আহমদ বলেন, ‘ওই বাঁধের ৫০ ভাগ বরাদ্ধ ছাড় করা হয়েছে। বাঁধের কাজ দ্রুত শেষ করানোর চেষ্টা চলছে। দণি সুনামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সবাই আপ্রাণ চেষ্টা করছেন ওই বাঁধের জন্য। বাঁধের সাইন বোর্ডের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন এ বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।’

You may also like

Leave a Comment


cheap mlb jerseyscheap nhl jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseys