তসলিমা নাসরিন

by News Room

তসলিমা নাসরিন (জন্ম: ২৫ আগস্ট, ১৯৬২[১]) বাংলাদেশের বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত নারীবাদী সাহিত্যিক। তসলিমা ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে অধ্যয়ন করেন এবং সেখান থেকে ১৯৮৬ সালে এমবিবিএস ডিগ্রি লাভ করেন। এরপর তিনি সরকারী হাসপাতালে চিকিৎসক হিসাবে ১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দ অবধি কাজ করেন।[২] ১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দে মামলায় জড়িয়ে পড়ে গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি দেশত্যাগে বাধ্য হন। এরপর তিনি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নেন।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

ছাত্রজীবনে ১৯৮০-এর দশকের শেষ দিকে কবি হিসেবে তাঁর পরিচিতি ঘটতে থাকে। নির্বাসন জীবনে তসলিমা লেখালিখিকেই পেশা হিসেবে গ্রহণ করেন। বিংশ শতাব্দীর শেষভাগে বিদ্রোহী নারীবাদী দৃষ্টিভঙ্গি এবং ইসলামের সমালোচনার জন্য বিশ্বব্যাপী তাঁর নাম ছড়িয়ে পড়ে।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন][৩] স্বীয় জন্মভূমি বাংলাদেশ ত্যাগের পর তিনি প্রতিবেশী বাংলাভাষী পশ্চিমবঙ্গে বসবাস করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু ভারতীয় ইসলামী ধর্মগুরুদের আপত্তি ও মৌলবাদীদের প্রাণনাশের হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৮ সালে তাঁকে কলকাতা পরিত্যাগ করতে হয়। বর্তমানে তিনি ভারতে বসবাস করছেন। তাঁর রচনাসমূহের মধ্যে লজ্জা, আমার মেয়েবেলা, দ্বিখণ্ডিত, গোল্লাছুট, ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

পরিচ্ছেদসমূহ

  • ১ প্রাথমিক জীবন
  • ২ নির্বাসিত জীবন
  • ৩ সাহিত্যকর্ম
  • ৪ পুরস্কার ও সম্মাননা
  • ৫ সমালোচনা
  • ৬ গ্রন্থ তালিকা
  • ৭ তথ্যসূত্র
  • ৮ আরও দেখুন
  • ৯ বহিঃসংযোগ

    প্রাথমিক জীবন

    তাঁর প্রকৃত নাম নাসরিন জাহান তসলিমা। স্কুল জীবনে কবিতা চর্চ্চার সময় তিনি ‘তসলিমা নাসরিন’ নাম গ্রহণ করেন। ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দে ময়মনসিংহ শহরে তাঁর জন্ম।[১]) দুই ভাই দুই বোনের মধ্যে তিনি তৃতীয়। তাঁর পিতা রজব আলী পেশায় চিকিৎসক ছিলেন। মা ইদুল আরা সাধারণ ধর্মভীরু বাঙ্গালী গৃহিনী, তসলিমার পিতার দ্বিতীয় স্ত্রী। । ১৯৭৬ খ্রিস্টাব্দে তিনি ময়মনসিংহ রেসিডেন্সিয়াল স্কুল থেকে এস, এস, সি পাস করেন। ১৯৭৮ খ্রিস্টাব্দে তিনি আনন্দ মোহন কলেজ থেকে এইচ এস সি পাস করেন। এরপর তিনি ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হন এবং সেখান থেকে ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দে এম বি বি এস পাস করেন। অথঃপর তিনি সরকারী হাসপাতালে চিকিৎসকের চাকুরী গ্রহণ করেন। তিনি যখন ১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দে দেশত্যাগ করেন তখন সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে অজ্ঞানবিশেষজ্ঞ (অ্যানেসথেসিওলজিস্ট) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার শৈশব ও যৌবনের বিশদ বিবরণ তাঁর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থাদির বিভিন্ন খণ্ডে পাওয়া যায়।

    বিবাহ

    ১৯৮২ খ্রিস্টাব্দে তিনি কবি রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ’র প্রেমে পড়েন এবং বাবা-মা ও আত্মীয়-স্বজন কাউকে না জানিয়ে গোপনে বিয়ে করেন। ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। পরে বাংলাদেশের প্রখ্যাত সাংবাদিক ও সম্পাদক নাইমুল ইসলাম খানের সাথে বিয়ে এবং ১৯৯১ সালে বিচ্ছেদ হয়। তিনি ১৯৯১ সালে সাপ্তাহিক বিচিন্তা’র সম্পাদক মিনার মনসুরকে বিয়ে করেন এবং ১৯৯২ সালে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। এরপর তিনি আর বিয়ে করেন নি। তার কোন সন্তানাদি নেই। তিনি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে যুগল জীবন যাপন করেছেন। তিনি একজন উভকামী। প্যারিস অবস্থান কালে একজন ফরাসী মেয়ের সঙ্গে যৌন জীবনযাপনের বিবরণ তাঁর আত্মজৈবিনক উপন্যাস ফরাসী প্রেমিক এবং আত্মজীবনিক রচনায় বিবৃত।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] [৪]

    সাহিত্যিক জীবন

    এই অনুচ্ছেদটি সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন। (Feb 2012)

    সাহিত্যে জগতে প্রবেশ সত্তর দশকের শেষভাগে কবিতা লেখার মধ্য দিয়ে। ১৯৮১ খ্রিস্টাব্দে স্ব-উদ্যোগে প্রথম কবিতা সংকলন প্রকাশ করেন যার নাম শিকড়ে বিপুল ক্ষুধা[৫] তাঁর কবিতা গীতিময়তায় পুষ্ট। আত্মজৈবনিকতা তাঁর কবিতার বৈশিষ্ট্য। প্রথম থেকেই তাঁর কবিতায় যৌনানুষঙ্গ প্রবলভাবে উপস্থিত, যা পরবর্তীতে তাঁর গদ্য রচনাতেও পরিদৃষ্ট হয়।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

    নির্বাসিত জীবন

    তাঁর নির্বাসিত জীবন শুরু হয় ১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দে উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে দেশ ত্যাগের সময় থেকে। এর আগে আদালতে মামলা দায়ের হলে এবং আদালত তাঁর বিরূদ্ধে গ্রেপ্তারী পরওয়ানা জারী করলে তিনি বিভিন্ন বন্ধু বান্ধবের বাসায় আত্মগোপন করেন। বাংলাদেশ ত্যাগের পর তিনি প্রধানত ফ্রান্স,সুইডেন এবং ভারত, এই তিনটি দেশে বসবাস করেছেন। বাংলাদেশের বাইরে একমাত্র পশ্চিমবঙ্গে বসবাস করতে তিনি আগ্রহী। প্রায়শ তাঁর ধর্ম ও প্রতিষ্ঠানবিরোধী লেখা ও মন্তব্য জনরোষ সৃষ্টি করে বিধায় সামাজিক শান্তির স্বার্থে ২০০৭ থেকে ভারত সরকার তাঁর ভারতে অবস্থানের ওপন নিষেধাজ্ঞা বলবৎ করে। ১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশ ত্যাগ ও ২০০৭ খ্রিস্টাব্দে ভারত থেকে বিতারণ এবং পরবর্তী নিবার্সিত জীবনের বর্ণনা নিয়ে ১লা ফেব্রুয়ারি ২০১২ ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়েছে তার আত্মজৈবনিক গ্রন্থ নির্বাসন[৬][৭]

    ১৯৯৪-২০০৪, পাশ্চাতে নির্বাসিত

     

    ২০০৪-২০০৭ কলকাতার জীবন

     

    ২০০৭ কলকাতা থেকে বিতারণ

     

    ২০০৮ দিল্লীতে অন্তরীণ

     

    সাহিত্যকর্ম

     

    পত্রিকার কলাম ও নিবন্ধ

     

    উপন্যাস

     

    আত্মজীবনী

     

    তসলিমা নাসরিন প্রধানত আত্মজীবনীমূলক রচনায় বেশী সময় ব্যয় করেছেন। তাঁর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থের সংখ্যা ৭ যার সর্বশেষ খণ্ড ২০১২ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়। আত্মজীবনী বিবিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বর্ণনা দিয়ে তিনি বাংলাদেশ ও পশ্চিম বঙ্গে ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়েছেন এবং এ কারণে তাঁর বিরূদ্ধে সৈয়দ শামসুল হক সহ অনেকে আদালতে মর্যাদাহানির জন্য ক্ষতিপূরণ মামলা করেছে। ডিসেম্বর ঢাকা ছেড়ে কলকাতায় থাকে[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

     

    পুরস্কার ও সম্মাননা

     

    তসলিমা তার উদার ও মুক্তচিন্তার মতবাদ প্রকাশ করায় দেশ-বিদেশ থেকে একগুচ্ছ পুরস্কার ও সম্মাননা গ্রহণ করেছেন। সেগুলো হলো –

     

    • আনন্দ সাহিত্য পুরস্কার, ১৯৯২ এবং ২০০০।
    • নাট্যসভা পুরস্কার, বাংলাদেশ, ১৯৯২
    • ইউরোপিয়ান পার্লামেন্ট কর্তৃক শাখারভ পুরস্কার, ১৯৯৪
    • ফ্রান্স সরকার প্রদত্ত মানবাধিকার পুরস্কার, ১৯৯৪[৮]
    • ফ্রান্সের এডিক্ট অব নান্তেস পুরস্কার, ১৯৯৪[৯]

      সমালোচনা

      সাহিত্য

      সাহিত্য রচনায় ব্যক্তিগত ও শারীরিক আকাঙ্খাকে কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে আবর্তন তসলিমার লেখার বৈশিষ্ট্য। এর সাথে তিনি ইসলামধর্ম, কুরআন এবং নবী মুহাম্মদকে (সা:) সমালোচনার লক্ষ্যবস্তু করেন এবং এ কারণে বাংলাদেশে এবং বিদেশে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হন। একটি ধর্মভিত্তিক সংগঠনের নেতৃত্ব তাঁর মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করে এবং তাঁর বিরূদ্ধে ধর্মদ্রহিতারর মাধ্যমে মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ আদালতে মামলা করা হয়। । কুরআন ও হাদিসকে ভুল অনুবাদ করে তার ব্যক্তিগত ব্যাখ্যা প্রদান বাংলাদেশের সাধারণ মুসলমান জনগণের মনে অসন্তোষের সৃষ্টি করে।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

      নারীবাদী দৃষ্টিভঙ্গি

      গ্রন্থ তালিকা

      বাংলাদেশের আগামী প্রকাশনীর তাঁর অধিকাংশ গ্রন্থ বাংলাদেশে প্রকাশ করেছে। পশ্চিম বঙ্গে তার প্রধান প্রকাশক প্রকাশক শিবানী মুখোপাধ্যায়।

      কবিতা

      • শিকড়ে বিপুল ক্ষুধা (Hunger in the Roots), ১৯৮১
      • নির্বাসিত বাহিরে অন্তরে (Banished Without and Within), ১৯৮৯
      • আমার কিছু যায় আসে না (I Couldn’t Care Less), ১৯৯০
      • অতলে অন্তরীণ (Captive In the Abyss), ১৯৯১
      • বালিকার গোল্লাছুট (Game of the Girls), ১৯৯২
      • বেহুলা একা ভাসিয়েছিল ভেলা (Behula Floated the Raft Alone), ১৯৯৩
      • আয় কষ্ট ঝেঁপে, জীবন দেবো মেপে (Pain Come Roaring Down, I’ll Measure Out My Life for You), ১৯৯৪
      • নির্বাসিত নারীর কবিতা (Poems From Exile), ১৯৯৬
      • জলপদ্য (Waterlilies), ২০০০
      • খালি খালি লাগে (Feeling Empty), ২০০৪
        • কিছুক্ষণ থাকো (Stay For A While), ২০০৫
        • ভালোবাসো? ছাই বাসো! (It’s your love! or a heap of trash!), ২০০৭
        • বন্দিনী (Prisoner), ২০০৮

        প্রবন্ধ সংকলন

        • নির্বাচিত কলাম (Selected Columns), ১৯৯০
        • যাবো না কেন? যাব (I will go; why won’t I?), ১৯৯১
        • নষ্ট মেয়ের নষ্ট গল্প (Fallen prose of a fallen girl), ১৯৯২
        • ছোট ছোট দুঃখ কথা (Tale of trivial sorrows), ১৯৯৪
        • নারীর কোন দেশ নেই (Women have no country), ২০০৭
        • ‘নির্বাসন’, ২০১২।

        উপন্যাস

        • অপরপক্ষ ১৯৯২
        • শোধ, ১৯৯২. ISBN 978-81-88575-05-3
        • নিমন্ত্রণ, ১৯৯৩
        • ফেরা , ১৯৯৩
        • লজ্জা, ১৯৯৩. ISBN 978-0-14-024051-1.
        • ভ্রমর কইও গিয়া, ১৯৯৪
        • ফরাসি প্রেমিক ,২০০২
        • শরম,২০০৯

        ছোট গল্প

        • দু:খবতী মেয়ে ১৯৯৪
          • মিনু ২০০৭

          আত্মজীবনী

          • Amar Meyebela (My Girlhood), 1999 (ISBN 978-1-58642-051-2)
          • Utal Hawa (Wild Wind), 2002
          • Ka (Speak Up), 2003; published in West Bengal as Dwikhondito (Split-up in Two), 2003
          • Sei Sob Andhokar (Those Dark Days), 2004
          • Ami Bhalo Nei, Tumi Bhalo Theko Priyo Desh (“I am not okay, but you stay well my beloved homeland”), 2006.

          তথ্যসূত্র

          1. Jump up to: ১.০ ১.১ স্বীয় আত্মজীবনীতে উল্লিখিত তাদের পারিবারিক কথোপকথনের বর্ণনা থেকে প্রতীয়মান হয় তসলিমা নাসরিনের জন্ম ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দে বা আগে।
          2. Jump up ↑ Condemned to life as an outsider The Guardian, November 30, 2007
          3. Jump up ↑ Chazan, David (1999-01-26)। “World: South Asia: Taslima goes back into exile”BBC। সংগৃহীত 2009-05-28।
          4. Jump up ↑ [দ্রস্টব্যঃ নির্বাচিত কলাম
          5. Jump up ↑ তসলিমা নাসরিনের অফিসিয়েল তথ্যতীর্থে এই গ্রন্থের প্রকাশ কাল ১৯৮৬ হিসেবে উল্লিখিত যা ভুল।
          6. Jump up ↑ শেষ হয়নি স্টলসজ্জার কাজ
          7. Jump up ↑ ফের নিষিদ্ধ করলেন বহুল বিতর্কিক তসলিমা নাসরিনকে
          8. Jump up ↑ “1994 – Commission nationale consultative des droits de l’homme”। Cncdh.fr। সংগৃহীত 2010-12-14।
          9. Jump up ↑ [১][অকার্যকর সংযোগ]
          10. Jump up ↑ Targett, Simon (1995-02-24)। “She who makes holy men fume”Times Higher Education। সংগৃহীত 2009-06-01।

          আরও দেখুন

          নির্বাচিত কলাম

          উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

          “নির্বাচিত কলাম” একটি বাংলা নারীবাদী গ্রন্থ। বাংলাদেশী লেখক তসলিমা নাসরিনের প্রথম গদ্যকর্ম।

          ভূমিকা

          “নির্বাচিত কলাম” নারীবাদী ও ধর্মমুক্ত মানবতাবাদী হিসেবে বিখ্যাত তসলিমা নাসরিনের লেখা একটি ধ্রুপদী গ্রন্থ। এছাড়া তিনি “লজ্জা”,”আমার মেয়েবেলা”, “ক” (পশ্চিমবঙ্গে এই বইটির নাম “দ্বিখন্ডিত”) ইত্যাদিরও প্রণেতা। এই বইগুলো ছাড়াও তসলিমা নাসরিন বেশ ক’টি উপন্যাস, কবিতা, কলাম ও গল্প লিখেছেন। তবে “নির্বাচিত কলাম”ই প্রথম তাঁকে আন্তর্জাতিক খ্যাতি এনে দেয়। বইটি তাঁর লেখা কিছু কলামের সংকলন।

          সংক্ষিপ্ত বিবরণ

          বইটির শুরুর কলামটিতে রয়েছে লেখকের আঠারো-উনিশ বছর বয়সে একটি ছেলের হাতে নির্যাতিত হওয়ার অভিজ্ঞতার বর্ণনা। ছেলেটি তাঁর হাতে একটি জ্বলন্ত সিগারেট চেপে ধরে হাসতে হাসতে চলে যায়। কলামটির উপসংহারে লেখক বলেছেনঃ “ময়মনসিংহ শহরের বিভিন্ন স্থানে, বিশেষ করে মেয়েদের স্কুল, কলেজ, সিনেমা হলের পাশে কাঠের থামের উপর এক ধরনের সাইনবোর্ড ঝুলত, ওতে লেখা ছিল ‘বখাটেদের উৎপাতে টহল পুলিশের সাহায্য নিন’। এই ব্যবস্থাটি দীর্ঘদিন স্থায়ী হয়নি। সম্ভবত বখাটেরা ওর গুঁড়িসুদ্ধ উঠিয়ে নিয়ে গেছে। যতদিন সাইনবোর্ড ছিল, মেয়েদের স্কুলে যাওয়া-আসার সময় বখাটেরা ওই থামে হেলান দিয়েই শিস দিত। আর সবচেয়ে মজার ব্যাপার হচ্ছে, টহল পুলিশের উৎপাতে একবার স্কুলের মেয়েরা বখাটেদের সাহায্য নিতে বাধ্য হয়েছিল।” বইটিতে এরকম বেশ কিছু কলামে পুরুষ-অধিকৃত একটি সমাজে নারীজীবনের যন্ত্রণা ফুটে উঠেছে।.

          Gnome-mime-audio-openclipart.svg
          [[:Image:|তসলিমা নাসরিনের স্বকণ্ঠে বইটি থেকে পাঠ, এবং ব্রততী বন্দোপাধ্যায়ের কণ্ঠে তসলিমা নাসরিনের লেখা একটি নারীবাদী কবিতার আবৃত্তি]]
          [[Image:|180px|noicon]]
          2 minutes and 08 seconds (of 2:08)

          শুনতে অসুবিধা? মিডিয়া সাহায্য দেখুন।

          বাংলা ভাষায় সর্বপ্রথম এই বইয়েই ইসলাম ও এর প্রবক্তা মোহাম্মদকে সরাসরি ভাষায় আক্রমণ করা হয়। বইটিতে হিন্দুধর্মের সমালোচনাও রয়েছে। এই বইটি যেমন অনেক নারীকেই অনুপ্রাণিত করেছে, তেমন অনেক মৌলবাদীকেই রাগান্বিত করেছে। বাংলা ভাষায় সর্বপ্রথম এই বইটিতেই যৌনতা নিয়ে একজন নারী রাখঢাকবিহীন বক্তব্য রাখেন। বাংলাদেশের সমাজে যৌনতা নিয়ে খোলাখুলি আলাপআলোচনা এখনও স্বীকৃত নয়। এই বইটিতে সংকলিত কলামগুলির রচিত হয় ১৯৮৯ থেকে ১৯৯০ সালে। বেগম রোকেয়ার প্রায় একশ’ বছর পর এই কলামগুলির মাধ্যমেই বাংলাদেশে নারীবাদের লড়াই পুনরুজ্জীবন লাভ করে। এখনও এই কলামগুলিই বাংলা ভাষায় একজন নারীর রচিত সবচেয়ে সাহসী লেখা হিসেবে স্বীকৃত। পশ্চিমবঙ্গ বা বাংলাদেশ– কোথাও কোনও নারী লেখকের মাঝে তসলিমা নাসরিনের মতো সাহস দেখা যায়না।

          প্রকাশনা

          “ক” বা “দ্বিখন্ডিত”তে তসলিমা নাসরিনের দেয়া ভাষ্য অনুযায়ী ১৯৮৯ সালে তাঁকে সেইসময়ের জনপ্রিয় দৈনিক পত্রিকা “আজকের কাগজে” কলাম লিখবার আমন্ত্রণ জানান পত্রিকাটির সম্পাদক ও লেখকের ঘনিষ্ঠ বন্ধু নাঈমুল ইসলাম খান (পরে ইনি তাঁর সাথে বিবাহবন্ধনেও আবদ্ধ হয়েছিলেন এবং একসময় বিবাহবিচ্ছেদও ঘটে)। তসলিমা নাসরিন উত্তর দেন, “ধুর কলাম কি করে লিখতে হয় আমি জানি না।” নাঈমুল ইসলাম খান তাঁকে “তোর যা ইচ্ছে করে তাই লেখ, ঘাবড়ানির কিছু নাই” বলে অভয় দেন।

          তসলিমা নাসরিন যখন লিখবার বিষয় কি হতে পারে তা নিয়ে চিন্তিত ছিলেন, তাঁর দৃষ্টি আবদ্ধ হয় তাঁর ডান হাতের একটি কালো দাগে। তাঁর মনে পড়ে যায় যে একটি ছেলে তাঁর হাতে একবার সিগারেট চেপে ধরায় ক্ষত থেকে উক্ত কালো দাগটি তৈরী হয়েছিল। এ নিয়ে তিনি তাঁর প্রথম কলামটি লিখে ফেলেন। এরপরও আদৌ লেখাটি কলাম হয়েছে কি হয়নি তা নিয়ে তাঁর দুশ্চিন্তা ছিল। অবশেষে একসময় দ্বিধাগ্রস্ত লেখক “দেখ, কলাম কি করে লিখতে হয় তা তো আমি জানি না। নিজের জীবনের একটা অভিজ্ঞতার কথা লিখেছি শুধু” বলে কলামটি নাঈমুল ইসলাম খানের কাছে জমা দেন।

          কলামটি আদৌ প্রকাশিত হবে কি না তা নিয়েও তসলিমা নাসরিন সংশয়ে ছিলেন। যথাসময়ে তাঁকে অবাক করে দিয়ে কলামটি প্রকাশিত হয়। পত্রিকাটির অনেক সাধারণ পাঠকেরই নজরে আসে এটি। এরপরই তসলিমা নাসরিন নিয়মিত কলাম লিখতে শুরু করেন। ধীরে ধীরে তিনি জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। তাঁর কলাম ছাপা হলে যে কোনো পত্রিকার বিক্রি বেড়ে যেতে শুরু করে।

          ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রকাশক মুজিবর রহমান খোকা (তিনি সেই সময়ে তসলিমা নাসরিনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন) তাঁকে তাঁর লেখা কলামগুলো নিয়ে বই প্রকাশ করার প্রস্তাব দেন। সেই বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে বইটি “বিদ্যাপ্রকাশ” প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয়। প্রকাশের পর বইটি সর্বাধিক বিক্রীত বইয়ের তালিকার শীর্ষে চলে আসে এবং একসময় বাংলায় লেখা নারীবাদের একটি মাস্টারপিস হিসেবে স্বীকৃতিলাভ করে।.

          বিতর্ক

          বইটিকে আনন্দ পুরস্কার দেয়ার কথা ঘোষণা করার পর তসলিমা নাসরিন পুরস্কার কমিটিকে জানান যে তিনি বইটির একটি কলামের কিছু অংশ সুকুমারী ভট্টাচার্য্যের বেদের ওপর একটি লেখা থেকে নকল করে লিখেছেন। তবে আনন্দ পুরস্কার কমিটি একে বড় কোনো ব্যাপার বলে বিবেচনা করেনি, সম্ভবত লেখক নিজেই কথাটি সততার সাথে স্বীকার করেছিলেন বলে। তবে বর্তমানেও তসলিমা-বিদ্বেষী ভন্ড ও মৌলবাদীরা এই নকলের ব্যাপারটি নিয়ে বিতর্কে লিপ্ত রয়েছে। ভারত উপমহাদেশের নারীবিরোধী সমাজকাঠামোয় তসলিমা নাসরিনের স্বীকারোক্তির সৎসাহসকে গুরুত্ব দেয়ার মতো লোকের সংখ্যা অত্যন্ত কম।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

          বইটি নিয়ে সম্ভবত এটিই প্রধান বিতর্ক। এছাড়াও চরমপন্থী মুসলিমেরা তাঁকে বরাবরের মতোই এই বইতেও ইসলামের সমালোচনা করার দায়ে অভিযুক্ত করে থাকে। এরা বলে থাকে যে তিনি কোরানহাদিস ভাল করে না বুঝেই ইসলামকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করেছেন। অবশ্য এ নতুন কিছু নয়। সারা জীবনই মিশনারী এবং ইসলামী বিদ্বেসীরা ইসলাম এর ভূল উত্থাপন এর মাধ্যেম অপপ্রচার চালিয়ে গেছে এবং এই ধারা কিয়ামত পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

          মৌলবাদীরা যে যে কারণে তসলিমা নাসরিনের ওপর বিভিন্ন ফতোয়া ঘোষণা করেছিল, তার মধ্যে এই বইটি লেখাও একটি প্রধান কারণ।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

          বইটি আনন্দ পুরস্কার পাওয়ার পর বাংলাদেশের অনেক বুদ্ধিজীবিই তসলিমা নাসরিনের প্রতি ঈর্ষা বোধ করতে আরম্ভ করেন। তসলিমা নাসরিনের অনেক শুভাকাঙ্খীই রাতারাতি তাঁর শত্রুতে রুপান্তরিত হন এবং তাঁর নামে অসত্য গুজব ও নিন্দা ছড়ানোর কাজে প্রবৃত্ত হন। ঈর্ষান্বিত কিছু লেখক, যাঁরা তসলিমা নাসরিনের একসময়ের বন্ধু ছিলেন, অল্প বয়সে আনন্দ পুরস্কার ও সেইসাথে বাংলাদেশের সীমানার বাইরে খ্যাতি অর্জনের কারণে ঈর্ষান্বিত ও ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁকে “তৃতীয় শ্রেণীর লেখক” উপাধি দেন।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

          পুরস্কার ও সম্মাননা

          তসলিমা নাসরিন বইটির জন্য ১৯৯২ সালে “আনন্দ পুরস্কার(তাঁর ভাষায় যা “বাংলার নোবেল পুরস্কার)” লাভ করেন। বইটি বাংলাদেশ ও ভারতসহ বিভিন্ন দেশে প্রসিদ্ধ।

          অনুবাদ

          • Kolkatarkolam.png

            বইটির কলকাতা থেকে বাংলায় প্রকাশিত সংস্করণের প্রচ্ছদ

          • 2129 Aurat Ke Hak Main.jpg

            বইটির হিন্দি সংস্করণ “ঔরত কি হক মেঁ (হিন্দিতে औरत के हक में)”র প্রচ্ছদ। হিন্দি নামটির অর্থ “নারীর অধিকারে”।

          • Morathitnkol.JPG

            বইটির মারাঠি অনুবাদের প্রচ্ছদ

          • Kolamaasamia.PNG

            বইটির অসমীয়া অনুবাদের প্রচ্ছদ

          দেবযানী সেনগুপ্ত বইটি ইংরেজী ভাষায় অনুবাদ করেছেন। এছাড়াও বইটি হিন্দি, অসমীয়া, মারাঠিসহ বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

          আরও দেখুন

     

You may also like

Leave a Comment


cheap mlb jerseyscheap nhl jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseys