জনগণ এসব নাটক ও খেলায় নেই: নজরুল

by News Room

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, “সংসদ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ১৫৪ জনকে নির্বাচিত করার নাটকের প্রথম পর্বের পর এবার নির্বাচনের নামে ‘ফ্রেন্ডলি ম্যাচ’ বা পাতানো নির্বাচনের চেষ্টা চলছে। জনগণ এসব নাটক ও খেলায় নেই। জনগণ একদিন এর জবাব দেবে।”

আগামী নির্বাচন নিয়ে এখনো সমঝোতা সম্ভব দাবি করে বিএনপির এ নেতা বলেছেন, “সরকারের স্বদিচ্ছা থাকলে এখনো সমঝোতা সম্ভব। সেক্ষেত্রে সংসদ বহাল থাকায় সংবিধান পরিবর্তন করে নিদর্লীয় সরকার পূনর্বহাল করা সম্ভব।”

একই সঙ্গে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর আলোকে ৫ জানুযারির পর নির্বাচন করা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রোববার সন্ধ্যায় বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে টানা ৮৩ ঘন্টার অবরোধের ২য় দিন শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

‘নির্বাচনে আসতে না পেরে খালেদা জিয়া এখন কপাল চাপড়াচ্ছেন’- প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, “নিদর্লীয় সরকার ছাড়া বিরোধীদল নির্বাচনে যাবে না এটা অনেক আগের ঘোষণা। সুতরাং দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশ না নেয়া বিএনপি কেন কপাল চাপড়াবে?। বরং একতরফা নির্বাচনের কারণে সরকারের বিরুদ্ধে দেশ ও বিদেশে নিন্দার ঝড় উঠায় তারাই প্রকৃতপক্ষে কপাল চাপড়াচ্ছে। এখন নিজেদের ঘটনা অন্যের ওপর চাপানোর চেষ্টা চলছে।”

বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, “ক্ষমতার লোভে সংবিধানের দোহাই দিয়ে যে নির্বাচন করতে যাচ্ছে সরকার তা দিয়ে শেষ রক্ষা হবে না। এই প্রহসনের নির্বাচনের বিরুদ্ধে জনগণের আন্দোলন চলছে। এই আন্দোলনকে দমাতে সরকার  বিরোধীজোটের নেতাকর্মীদের হত্যা করছে। এমনকি মহিলা ও শিশুদের ওপরও নিপীড়ন চালানো হচ্ছে।”

সরকার ভোট ছাড়া ক্ষমতায় থাকতে সংবিধান পরিবর্তন করেছে এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, “সরকারের মন্ত্রীরা সময়ের অভাব থাকায় এবং সংবিধানের দোহাই দিয়ে ৫ জানুযারী নির্বাচন করার কথা বলছেন। জনগণকে বিভ্রান্ত করতে সরকারের তরফ থেকে এমনটা বলা হচ্ছে। অথচ তাদের সংশোধিত সংবিধানে বলা হয়েছে, ২৪ জানুয়ারী মধ্যে নির্বাচন করতে না পারলে সংসদ ভেঙে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করা যাবে।”

নজরুল ইসলাম খান অভিযোগ করে বলেন, “কারান্তরীণ বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর চিকিৎসকের পরামর্শ অগ্রাহ্য করে প্রিজন সেলে রেখে তাকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। অসুস্থ রিজভী এতে আরো অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাকে বাসায় রান্নাকরা খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেয়া হলেও তা সরবরাহের সুযোগ দেয়া হচ্ছে না। অথচ তার স্ত্রী খাবার রান্না করে অপেক্ষা করছেন।”

বিএনপিকে জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগে প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “রাজনীতিতে কে থাকবে, কে থাকবে না। এই    সিদ্ধান্ত নেওয়ার মালিক কী সরকার? জনগণ সিদ্ধান্ত নিবে কে থাকবে, কে থাকবে না।”

‘পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে দেশটি নিন্দা প্রস্তাব পাশ করার পরও বিএনপি চুপ’ সরকারি দলের নেতাদের এমন বক্তব্যের বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, “কোনো ব্যক্তির সঙ্গে নয়, একটি রাষ্ট্রের সঙ্গে অন্য রাষ্ট্রের সম্পর্ক থাকে। তাই সম্পর্ক ভালো থাকলে সরকারের সঙ্গে আছে।আর সম্পর্ক না থাকলে সরকার বলুক।”

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির আন্তর্জাতিক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন, সহ-দফতর সম্পাদক আবদুল লতিফ জনি, আসাদুল করিম শাহীন, শামীমুর রহমান শামীম।

You may also like

Leave a Comment


cheap mlb jerseyscheap nhl jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseys