গোয়াইনঘাটের ফতেহপুর চা বাগানের ভূমি উদ্ধার, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

by News Room
এম এ মতিন, গোয়াইনঘাট:

অবশেষে উদ্ধার করা হলো সিলেটের সীন্তবর্তী গোয়াইনঘাট উপজেলার সরকারি ফতেহপুর চা-বাগানের ভূমি। বুলডোজার দিয়ে গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে অবৈধ স্থাপনাও। দীর্ঘদিন থেকে দখলদারদের কারণে বাগানটি বন্ধের উপক্রম হয়ে দাড়িয়েছিল। ইজারাদারের আবেদনের প্রেক্ষিতে শুক্রবার নির্বাহী ম্যাজিট্রেটের নেতৃত্বে প্রশাসনের লোকজন ছাড়াও শতাধিক পুলিশ উচ্ছেদ অভিযানে অংশ নেয়। এর আগে উচ্ছেদ অভিযানের খবর পেয়ে দখলদারের লোকজন মসজিদের মাইকে ঘোষনা দিয়ে প্রতিরোধের ডাক দিয়েও ব্যর্থ হয়। এমনকি অভিযানের শেষ পর্যায়ে দখলদার মিনহাজ উদ্দিন বুলডোজারে পেট্রোর বোমা ছুড়ে মারে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম জানান, চা-শিল্পকে ঠিকিয়ে রাখতে আইনী প্রক্রিয়া সম্পন্নের পর অভিযান করা হয়েছে। প্রথমে মাইকের ঘোনায় অনেকে ভুল বুঝলেও পরে গ্রামবাসী উচ্ছেদ অভিযানে সহায়তা করে।

জানা গেছে, সরকারি মালিকানাধীন ফতেহপুর চা-বাগানের আওতাধীন ফতেহপুর মৌজার বিভিন্ন খন্ডে ৫শ ২১ একর ভূমি রয়েছে। বাগানটি ওসামন গনি প্রাইভেট লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্টান ১৯৯৮ সালে বাগানের ব্যবস্থপনার দায়িত্ব নেয়। ২০১২ সালে তারা ইজারা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। বাগান ব্যবস্থাপনার পর স্থানীয় একটি ভ’মিখোকে চক্র নানাভাবে উৎপাত শুরু করে।

তারা বাগানের জায়গা দখল করে বাড়িঘর নির্মাণ ছাড়াও বাগানে চা-উৎপাদনে বাধা, গাছ-পালা কেটে নেওয়া, বাগানের রাস্তাঘাট বন্ধ করে দেওয়াসহ নানাভাবে প্রতিবন্ধকতা শুরু করে। ফলে কোটি কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখিন হন ইজারাদাররা। এ অবস্থায় গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর বাগানের জায়গা দখল, সন্ত্রাসী কার্যকলাপ, চা-পাতা পরিবহনে প্রতিবন্ধকতাসহ বিভিন্ন অভিযোগ এনে দখলদার স্থানীয় মদরিছ আলীর ছেলে মিনহাজ উদ্দিন ও মৃত মিছবাহ উদ্দিনের ছেলে তানজির আহমদের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক বরাবরে আবেদন করেন বাগানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইয়াছিন ওসমান। এছাড়া দখলদারদের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক জিডিও করেন ইজারাদার পক্ষ।

বিভিন্ন তদন্ত প্রতিবেদন ও তদন্তের পর সর্বশেষ সিলেটের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনির হোসেন ১০ জানুয়ারি উচ্ছেদ পরিচালনার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সবাইকে অবগত করেন। সেই অনুযায়ী শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে উচ্ছেদে যান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। রাস্তায় বিপুল পরিমান পুলিশ ও বুলডোজার দেখে দখলদার পক্ষ মসজিদের মাইকে গ্রামবাসীকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে জড়ো করার চেষ্টা করে এবং রাস্তা কেটে ও গাছ ফেলে রাস্তায় প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে। উচ্ছেদ অভিযানকারী দল বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে বাগানের ৬ষ্ট খন্ড এলাকায় মিনহাজের দখলে থাকা বসতবাড়িসহ ১৯ একর ভ’মি এবং ৭ম খন্ডে তানজিরের দখলে থাকা ৩০ একরের মধ্যে প্রায় ১৫ একর ভূমি উদ্ধার করে। বাগান ম্যানেজার জুনায়েদ চৌধুরী জানিয়েছেন, একদিনে উচ্ছেদ অভিযান শেষ হওয়ার কথা নয়। পর্যায়ক্রমে অন্য ভ’মি উদ্ধার করা হবে।

উচ্ছেদ অভিযানে নেতৃত্বদানকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সিলেটের আরডিসি মনির হোসেন জানান, গত ডিসেম্বরে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনাকালে এলাকাবাসী ১৫ দিনের সময় নিয়েছিলেন। দখলদাররা দখল না ছাড়ায় আবার উচ্ছেদ শুরু করা হয়েছে। তিনি জানান, দখলদাররা মালিকানার স্বপক্ষে কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় সরকার সবসময় গুরুত্ব দিয়ে থাকে।

অভিযানকালে গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম ছাড়াও ইউনিয়ন সহকারি ভূমি কর্মকর্তা কল্যানব্রত চৌধুরী, সার্ভেয়ার জীবন চন্দ্র ও পুলিশ কর্মর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

You may also like

Leave a Comment


cheap mlb jerseyscheap nhl jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseys