কেমুসাসে কর্তৃত্বের সংঘাত এবং একজন সাধারণ লেখকের কৈফিয়ত -কিছু প্রশ্নের পর্যালোচনা

by News Room

 সৈয়দ মবনু:  ‘কেমুসাসে কর্তৃত্বের সংঘাত এবং একজন সাধারণ লেখকের কৈফিয়ত’ শীর্ষক লেখার প্রথম পর্বে আমি বলেছিলামÑ কেন্দ্রীয় মুসলিম সংসদের চলমান সমস্যার টেকসই স্থায়ী সমাধানের জন্য কিছু প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাওয়া খুবই জরুরী। অতঃপর আমার শেষ প্রশ্ন ছিলÑএ প্রশ্নগুলোর উত্তর কে দেবে? জানি না এ প্রশ্নগুলো সঠিক উত্তরদাতা কে? তবে আমরা সাধারণ মানুষেরা কিংবা আরো সংপ্তি করে বললে কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের সাধারণ ভোটারেরা এবিষয়ে গঠনমূল এমন কিছু পর্যালোচনা করতে পারি, যা প্রকৃত উত্তরদাতাদের উত্তরদানে সহায়ক হবে।

প্রথম প্রশ্নÑকেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদকে যারা আক্রান্ত করেছে তাদের পরিচয় কি?

আমাদের পর্যালোচনাÑওদের পরিচয় এ পর্যন্ত আমরা আবিস্কার করতে পারিনি। তবে ২৮ ডিসেম্বরের জাতীয় দৈনিক প্রথম আলো আওয়ামীলীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের একটি গ্র“পের দিকে ইঙ্গিত করেছে। দৈনিক শ্যামল সিলেটের রিপোটে বলা হয়েছে নির্বাচনের একজন প্রার্থী বলেছেনÑআক্রমন করেছে ছাত্রলীগের ক্যাডারেরা, আর দৈনিক উত্তরপূর্ব, দৈনিক সবুজ সিলেট, দৈনিক যুগন্তর ইত্যাদির রিপোটে বলা হয়েছেÑ আক্রমন করেছে জামায়াত-শিবির। (২৮ ডিসেম্বর ২০১৪ খ্রিস্টাব্দের পত্রিকা)। পত্রিকাগুলোর রিপোটে ভিন্নতা রয়েছে। আমরা কার কথা বিশ্বাস করবো? তাই বিষয়টি সাধারণের কাছে সন্দেহজনক। এই সন্দেহকে আমি গুরুত্ব দিতে পারছি না, আবার উড়িয়েও দিতে পারছি না। মানুষের মূখে মূখে কিছু নাম আছে, আমি মানুষের মূখ থেকে কারো নাম বলতে নারাজ, কারণ আইনের লোক ছাড়া কেউ সন্দেহের ভিত্তিতে কাউকে দোষী প্রমাণ করতে পারবেন না। মুসলিম সাহিত্য সংসদ আমাদের বাঙালীদের একটি ঐতিহ্য। এখানে আক্রমন কে করেছে আমরা জানি না। আমরা সাধারণ মানুষ, কোন পত্রিকার ভাষ্যকে বিশ্বাস করবো? জামায়াত-শিবির কিংবা ছাত্রলীগ যেই করুক, বিষয়টা আমাদের জন্য দুঃখজনক। আমরা প্রশাসনের কাছে আশা করতে পারি তারা সঠিক তথ্য জেনে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করবেন।

দ্বিতীয় প্রশ্নÑতারা কেন আক্রান্ত করলো?

আমাদের পর্যালোচনাÑপ্রকৃত অর্থে কে আক্রমন করেছে তা না জানলে বুঝা যাবে না কেন আক্রমন করেছে। এবিষয়টিও সন্দেহের ভিত্তিতে বলতে হচ্ছে। তবে অবশ্যই স্বীকার করতে হবে তা কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্যই করা হয়েছে কিংবা করানো হয়েছে। কে বা কারা করেছেন বা করিয়েছেন? কেউ কেউ জানলেও মূখে বলছেন না। আমরা আবারও প্রশাসনের কাছে দাবী করবো, তারা যেন ঐ লোকগুলোকে খুঁজে বের করে শাস্তি নিশ্চিত করেন। কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ এদেশের সম্পদ এবং ঐতিহ্য। এই সম্পদ বা ঐতিহ্যকে রা করা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তা ছাড়া আমরা লেখকরা তো অস্ত্র হাতে নিয়ে থাকি না, তাই আমাদের পে সশস্ত্র আক্রমন প্রতিহত করা প্রায় অসম্ভব। এজন্য প্রশাসনের উচিৎ এই প্রতিষ্ঠানের ভেতরে আমাদের নিরাপত্তাকে নিশ্চিত করা।

তৃতীয় প্রশ্নÑএই ঘটনার জন্য দায়ী কি শুধু তারা যারা আক্রমণ করেছে, না বর্তমানে যারা নিয়ন্ত্রণ করছেন তারাও অনেকাংশে দায়ী?

আমাদের পর্যালোচনাÑআমরা মনে করিÑযারা আক্রমন করেছে তারা তো অবশ্যই শাস্তির উপযুক্ত অপরাধী, তবে পাশাপাশি যারা এই প্রতিষ্ঠানকে নিজেদের কব্জায় রাখতে বিভিন্ন কৌশল অবলম্ভন করেছেন তারাও কম দায়ী নয়। টেকসই স্থায়ী সমাধানের জন্য ব্যক্তি বা গোষ্ঠির একক কর্তৃত্বের মানসিকতা ছেড়ে তার বিকেন্দ্রীয়করণে আসতে হবে। নতুবা এই সমস্যার কোনদিন সমাধান হবে না।

চতুর্থ প্রশ্ন ছিলÑএই ঘটনার সূত্রপাত কি এদিনই হয়েছেÑনা এর কোন পূর্বসূত্র রয়েছে, থাকলে সূত্রগুলো কি কি?

আমাদের পর্যালোচনাÑএত বড় একটি ঘটনা নিশ্চয় একদিনে সংঘটিত হয় নি। এখানে অনেক পূর্বসূত্র রয়েছে। পূর্বসূত্রগুলো ইতোমধ্যের আলোচনায় কিছুটা এসেছে। কেন্দ্রীয় মুসলি সাহিত্য সংসদের মূল প্রতিষ্ঠাতা মৌলভী মুহাম্মদ নূরুল হক অনেক কষ্ট করে এই প্রতিষ্ঠানকে দাঁড় করিয়েছেন। ১৩৩৯ বাংলার অগ্রহায়নে প্রকাশিত আল-ইসলাহ পত্রিকা থেকে হেটেÑহেটে, মানুষের দোয়ারে দোয়ারে গিয়ে মৌলভী মুহাম্মদ নুরুল হক কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদকে দাঁড় করিয়েছেন। তাঁর সময়ে মুসলিম সাহিত্য সংসদ বললেই মৌলভী মুহাম্মদ নূরুল হক বুঝাতো। যারা মুহাম্মদ নুরুল হকের সময় পেয়েছেন তারা জানেন কীভাবে তিনি এই সংসদকে দাঁড় করিয়েছেন। তাঁর সময়ে অর্থনৈতিক সমস্যা ছাড়া নেতৃত্ব বা কর্তৃত্বের কোন সমস্যা ছিল না। সবাই তাঁকে মানতো এবং তিনি যা বলতেন তা-ই হতো আইন বা নিয়ম। সমস্যা দেখা দেয় মুহাম্মদ নুরুল হকের উত্তর সময়ে এসে। সেই সময় থেকেই কমিটি গঠন প্রক্রিয়ায় কিছু না কিছু সমস্যা হয়ে আসছে। তবে সবসময়ই সমস্যাগুলো আলোচনাসাপে সমাধান হয়েছে। তখন সিলেট ছিল একটা ছোট শহর, আমরা একে অন্যকে জানতামÑচিনতাম। রাজনৈতিক চিন্তার ভিন্নতার মধ্যেও আমরা একে অন্যকে শ্রদ্ধা করতাম। বিভিন্ন দলে আমাদের চাচাÑমামাদের অবস্থান ছিল। তারা রাজপথে একে অন্যের চিন্তার বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়ে এসে একসাথে বসে খাওয়াÑদাওয়া করেছেন। মুসলিম সাহিত্য সংসদের কমিটিতেও তারা এভাবে থেকেছেন। কিন্তু অর্থ আর অস্ত্র যখন রাজনীতির মূল কর্ণদার হয়ে ময়দানে উদিত হলো তখনই শুরু হয় অবিশ্বাসের দৌঁড়। কেউ আর কাউকে বিশ্বাস করতে চায় না। সে নিজেই সব খেতে চায়, সব নিতে চায়। নেতৃত্ব আর কর্তৃত্বের সংঘাত তখন থেকেই শুরু হয়। অতঃপর সংঘাতময় রাজনীতির প্রভাব এসে পড়ে কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদেও। আস্তে আস্তে রাজনৈতিক চিন্তা থেকে এখানে দুটা গ্র“প হয়ে শুরু হয় কর্তৃত্বের লড়াই। এক সময় ডানÑবাম মুখোমুখি দাঁড়িয়ে যায়। এক পে আসেন ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, অন্যপে যুব কামান্ড। তখন সমাধানের জন্য এগিয়ে আসেন দেওয়ান ফরিদ গাজী, আব্দুল হামিদ, শাহাদত খান, বুরহান উদ্দিন খান, অধ্যাপক আসদ্দর আলী প্রমূখ। অন্ধারিয়া ঘরের মাঝে উভয় গ্র“পের লোকেরা বসে সমাধান করে বেরিয়ে আসেন দেওয়ান ফরিদ গাজী সভাপতি আর রাগিব হোসেন চৌধুরী সেক্রেটারী। গাজী সাহেব ছিলেন আওয়ামীলীগের লোক, আর রাগিব হোসেন চৌধুরী জামায়াতে ইসলামীর লোক। রাগিব হোসেন চৌধুরী সাহিত্যিক, এখানেই সমাধান হয়ে গেলো। এই সময় একটি বিশেষ দল নিজের প্রভাবকে অুন্ন রাখতে এক সাথে প্রায় চার শ জীবন সদস্য করে নিলো। বাকীরা এই খবরই জানলো না, কিংবা জানলেও গুরুত্ব দিলো না। যখন নির্বাচনের সময় আসে তখনই দেখা গেল বিশাল ভারসাম্যহীনতা। ধাক্কাÑধাক্কিতে দাঁড়াতে না পেরে বামরা ধীরে ধীরে মুখ ফিরিয়ে নিল। কেউ কেউ অবশ্য মনের টানে থেকে গেলেন। অতঃপর চলে আসে ঐ দলের একক আধিপত্য। এখানেই আটকে যায় কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ। চলতে থাকে মৌন সংঘাতের ভেতর দিয়ে। বাংলাদেশের রাজনীতি যতই সংঘাতপূর্ণ হয় ততই মুসলিম সাহিত্য সংসদে দুই গ্র“পের দূরত্ব তৈরি হয়। ২৭ শে ডিসেম্বর ২০১৪ খ্রিস্টাব্দ যে সংঘাতটা হলো তা এরই ধারাবাহিকতা।

আমার এক বন্ধু (নাম বলছি না) আমাকে অভিযোগ করলেন, তুমি শুধু একটি দলের দিকে ইঙ্গিত করছ, কিন্তু যারা আক্রমণ করেছে তাদের কথা বলছ না। আমার বন্ধু খুবই নারাজ, তিনি শুধু নয়, সেই দলের সাথে সম্পর্কিত আমার অনেক বন্ধুই নারাজ। কিন্তু একজন লেখক হিসাবে এই সত্যটুকু যদি না বলি তবে বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ থেকে যাবো আজীবন। যে দলটির দিকে ইঙ্গিত দিয়ে আমি কথা বলছি, সেই দলের সাথে আমার কোন মিত্রতা যেমন নেই, তেমনি শত্র“তাও নেই। আমি প্রত্যেকের ভাল কাজকে সম্মান জানাই। কিন্তু কোথাও যখন মতার ভারসাম্যহীনতার কারণে স্বৈরতন্ত্রের জন্ম হয় তখন প্রতিবাদ করা আমাদের দায়িত্ব। হোক তা রাষ্ট্রে কিংবা প্রতিষ্ঠানে। কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদে এই ঘটনাটি ঘটেছে। অভিযোগকারী আমার বন্ধুটি নিজেও স্বীকার করেন বিষয়টিকে, তবে তিনি নিজ দলের বিরুদ্ধে মুখ খুলে কথা বলতে নারাজ। কেউ যখন অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলে নাÑনীরব থাকে, আর এভাবে দীর্ঘ সময় চলতে থাকে, তখন সাধারণ মানুষের মধ্যে ােভ জমতে থাকে। এই ােভ যখন বের হয় তখন অনেক কিছুই নষ্ট করে দেয়। হোক তা প্রতিষ্ঠানিক কিংবা রাষ্ট্রীয়, সর্বেেত্র একথা সত্য। ২৭ শে ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদে এই ােভেরই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে বলে আমরা ধারণা করতে পারি। তাই আমরা মনে করি এই ঘটনার জন্য যেমন দায়ী আক্রমণকারী গ্র“প, তেমনি দায়মুক্ত নয় নিয়ন্ত্রণকারীরাও। আইনের দৃষ্টিতে আক্রমণকারী শাস্তির উপযুক্ত অপরাধী হলেও যুক্তির দৃষ্টিতে এমন অবস্থার পরিবেশ তৈরিকারীও দায়ী।

পঞ্চম প্রশ্ন ছিলÑ এই সংসদ আক্রান্ত হওয়ায় আমার কেন কষ্ট লাগছে?

আমাদের পর্যালোচনাÑএখানে আমি বলতে আমি একা নয়, আমরা যারা এই প্রতিষ্ঠানের মেম্বার তারা সবাই মিলে আমি। আমার কষ্ট লাগার কারণ, আমি এর সাথে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। তবে এছাড়াও বড় সত্য, এই সংসদ আমাদের সভ্যতাÑসংস্কৃতির ঐতিহ্যবাহী প্রতিনিধি। আজ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে, বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে গবেষকেরা এই প্রতিষ্ঠানে আসেন গবেষণার জন্য। বই পড়ার জন্য এক সময় আমার মা যেতেন, আজ আমরা যাই, কাল আমার সন্তানেরা যাবেÑএই প্রত্যাশায় মূলত এই প্রতিষ্ঠানকে দাঁড় করিয়ে রাখতে চেষ্টা করি। এই প্রতিষ্ঠানে যারা আক্রমণ করেছে তারা মূলত জঘণ্য একটি কাজ করেছে, যা ইতিহাসে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত কলঙ্কের চিহ্ন রাখবে। ােভ আমাদেরও আছে, তবে প্রকাশের প্রক্রিয়া এমন আমরা প্রত্যাশা করি না।

ষষ্ঠ প্রশ্ন ছিলÑআমাদের পে কি সম্ভব এই আক্রমণকারীদেরকে খুঁজে বের করে শাস্তি নিশ্চিত করা?

আমাদের পর্যালোচনাÑএ প্রশ্নের উত্তরে প্রথম যে প্রশ্নের জন্ম হয় তা হলো, এখানে আমাদের দিয়ে কাদের কথা বুঝানো হয়েছে? এই প্রশ্নের উত্তরে প্রথমে বলতে পারিÑএখানে আমাদের বলে সংসদের কমিটিকে বুঝানো হয়েছে। দ্বিতীয়ে বলতে পারিÑলেখকদেরকে বুঝানো হয়েছে। তৃতীয়ে বলতে পারিÑজীবন সদস্যদেরকে বুঝানো হয়েছে। চতুর্থে বলতে পারিÑদেশের সাধারণ নাগরিক, যারা আমার এই লেখার পাঠক। পঞ্চমেÑপ্রশাসন বা সরকার। চতুর্থ পর্যন্ত আলোচনার কোন প্রয়োজন নেই। কারণ এই শ্রেণীগুলোর পে কিছু করা সম্ভব হলে তারা সেদিন প্রতিরোধ করে সংসদকে রা করতে পারতেন কিংবা যারা আক্রমণ করেছে ওদেরকে আটকাতে পারতেন। সকল কথা আটকে যায় পঞ্চমে এসে।  প্রশাসন বা সরকার ইচ্ছে করলে সবই পারেন। আশা করি তারা তাদের দায়িত্ব পূর্ণাঙ্গ ঈমানদারীর সাথে আদায় করবেন।

সপ্তম প্রশ্ন ছিলÑএই সাহিত্য সংসদের সাথে আমার সম্পর্ক কি এবং বাকী ১৭শ জীবন সদস্যের সম্পর্ক কি?

আমাদের পর্যালোচনাÑসহজ উত্তর এই প্রতিষ্ঠানের সাথে আমাদের মূল সম্পর্ক জ্ঞানচর্চার। অতঃপর প্রশ্ন আসতে পারে, সম্পর্ক যদি জ্ঞানচর্চার হয় তবে কর্তৃত্বের জন্য লড়াই কেন? প্রকৃত অর্থে যারা এখানে কততৃত্বের জন্য লড়াই করছেন তাদের কাছে মূল উদ্দেশ্য হয়তো জ্ঞানচর্চা নয়। আমাদের সমাজে কিছু মানুষ আছেন সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য বাড়িতে লাইব্রেরী করেন, অথচ বই পড়েন না। এখানে অনেক এমনও আছেন যারা টাকা আছে বলে এই প্রতিষ্ঠানের সদস্য হয়েছেন সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য, অথচ ওরা কোনদিন বই নিয়ে পড়ার মানসিকতাও লালন করেন না। মুসলিম সাহিত্য সংসদের গঠনতন্ত্রে যদি এমন একটা ধারা থাকতো, যে সদস্য বছরে কমপে ১২টা বই সংসদ পাঠাগার থেকে নিয়ে পরবেন না তাকে প্রথমে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে, সঠিক কারণ দর্শাতে না পারলে তার সদস্যপদ বাতিল বলে বিবেচ্য হবে, তখন এই সতেরো শ থেকে মনে হয় অর্ধেকই বাদ যেতেন। আশ্চর্যজনক হলেও সত্য সংসদের কমিটিতেও এমন সদস্য আছেন যাদের সাথে বইয়ের কোনদিনই সম্পর্ক নেই। সদস্য করার ব্যাপারে বিষয়গুলো নতুন করে ভাবতে হবে।

অষ্টম প্রশ্ন ছিলÑকেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ কি কোন ব্যক্তি, গোষ্ঠি বা দলের প্রতিষ্ঠান?

আমাদের পর্যালোচনাÑসর্ব্বোচ্চ আওয়াজে বলবো, অবশ্যই না। এই সংসদ কারো একা নয়, এমন কি এখন আর মূল প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ নুরুল হক, ভূমিদাতা সরেকওম আব্দুল্লাহ কিংবা ভবন নির্মাতা মাহবুবুর রহমানেরও না। কোন দলের তো প্রশ্নই হয় না। কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ বাঙালীর জাতীয় সম্পদ, বিশেষ করে বাংলাভাষী মুসলমানদের।

নবম প্রশ্ন ছিলÑসাহিত্য সংসদের নির্বাচনে ডান, বাম, ইসলামিক সবার দলীয় প্রভাব বিস্তারের এত চেষ্টা কেন?

আমাদের পর্যালোচনাÑসহজ উত্তর, তা আমাদের জাতীয় দোষ, আমরা টয়লেট কমিটি নিয়েও গ্র“পিং করি, নিজেদের কর্তৃত্ব বহাল রাখার চেষ্টা করি। বিষয়টি সম্পর্ণ মূর্খতা এবং তা নতুন কিছু করার েেত্র অযোগ্যতার প্রমাণ। কেউ যখন চলমান নদীর মতো চলার যোগ্যতা রাখে সে একস্থানে দাঁড়িয়ে কুকুরের কামড়াকামড়ি করে না। সে যখনই দেখে অন্যরা এখানে প্রতিযোগি হয়ে উঠেছে সে তখন নতুন কর্মস্থল আবিস্কার করে সময়কে রা করে। কারণ, সে তো চলমান নদী, সে থেমে থাকতে পারে না। সে সময় নষ্ট করতে পারে না।

দশম প্রশ্ন ছিলÑলেখকÑসাহিত্যিকদের প্রতিষ্ঠান বলে খ্যাত এই সংসদের কমিটি গঠনে বা নির্বাচনে লেখকÑসাহিত্যিকেরা কতটুকু গুরুত্ব পাচ্ছেন?

আমাদের পর্যালোচনাÑস্পষ্ট সত্য, এখানে উচিৎ ছিল লেখকÑসাহিত্যিকেরা থাকবে ৮০ভাগ, আর বাকীরা থাকবে ২০ভাগ। হয়েগেছে পূর্ণাঙ্গ উল্টো। বর্তমানে লেখকÑসাহিত্যিকেরা ১০ভাগ, আর বাকীরা ৯০ভাগ। ফলে এখানে লেখকÑসাহিত্যিকেরা যতটুকু গুরুত্ব পাওয়ার কথা ছিল ততটুকু পাচ্ছে না। যে রাজনৈতিক নেতারা মুসলিম সাহিত্য সংসদে এসে মাতেব্বরী করেন তাদের কাছে আমাদের প্রশ্নÑআপনাদের মাঠ তো বিশাল, আপনারা কেন এই ুদ্র মাঠে এসে নেতা হওয়ার জন্য ঝগড়া সৃষ্টি করছেন? এই প্রতিষ্ঠানটা ছেড়েদিন লেখকÑসাহিত্যিকদের জন্য। আমি ডান-বাম-ইসলামিক সবাইকে একথা বলছি। আপনারা আমাদের প্রতি এই দয়াটুকু করুন।

এগারো নম্বার প্রশ্ন ছিলÑপ্রতি দু বছর পরপর যে কমিটি গঠন বা কমিটি গঠনের জন্য নির্বাচন হয় সেগুলোতে প্রার্থীদের প্যানেল কে বা কারা তৈরি করেন?

আমাদের পর্যালোচনাÑ আমি দীর্ঘ আলোচনায় আগেই এ প্রশ্নের উত্তর দিয়েছি। বেশিভোটের মালিকেরা একটি প্যানেল তৈরি করেন। বর্তমানে নিঃশ্চিত পরাজয় জেনেও প্রতিবছর বঞ্চিতরা মিলে একটি প্যানেল তৈরি করেন। না, এভাবে চললে চলবে না। বিষয়টা ছেড়ে দিতে হবে লেখকÑসাহিত্যিকদের হাতে।

বারো নম্বার প্রশ্ন ছিলÑদলীয় লেজশূন্য লেখকÑসাহিত্যিকদের নিয়ে গঠিত কমিটি কি আমরা কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদে আশা করতে পারি না?

আমাদের পর্যালোচনাÑ এই প্রশ্নের উত্তর কি হবে জানি না। একজন লেখকের দলীয় লেজ থাকবে কেন? লেখক তো থাকবেন স্বাধীন চিন্তাÑচেতনার অধিকারী। তিনি হবেন সবার এবং সত্যÑসুন্দরের। তিনি হবেন জ্ঞান, বুদ্ধি, কর্ম, প্রেমের। অবশ্য প্রত্যেক দলই নিজকে মনে করেন সত্যÑসুন্দরের প্রতিনিধি। আমরা কারো সাথে তর্ক বা কুতর্কে যেতে চাই না। আমি দলীয় লেজওয়ালা লেখকÑসাহিত্যিকদের মধ্যে সংকীর্ণতার উর্ধে আলো খুঁজে পাইনি। আমরা আশা করি মুসলিম সাহিত্য সংসদে দলীয় লেজশূন্য লেখকদেরকে ডেকে এনে স্থান দেওয়া প্রয়োজন।

‘কেমুসাসে কর্তৃত্বের সংঘাত এবং একজন সাধারণ লেখকের কৈফিয়ত’ শীর্ষক লেখার শেষকথা যেকোন কিছুর বিনিময় কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদকে রা করতে হবে দলÑমতের উর্ধে উঠে। আমি এই লেখা কোন দল বা গ্র“পকে ছোট বা বড় করার হীনস্বার্থে লিখিনি। আমি লিখেছি মূলত কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদকে রার জন্য। তাই আমার লেখায় কোন ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠী যদি কষ্ঠ পেয়ে থাকেন তবে আমি অগ্রীম মা চেয়ে নিচ্ছি।

You may also like

Leave a Comment


cheap mlb jerseyscheap nhl jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseys