অস্বাভাবিক সম্পদশালী মন্ত্রী-এমপিদের তদন্তের আওতায় আনুন: টিআইবি

by News Room

অস্বাভাবিক সম্পদ অর্জনকারী সব মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যকে তদন্তের আওতায়আনার আহ্বান জানিয়েছে দুর্নীতিবিরোধী আন্তর্জাতিক সংগঠন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সেইসঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধিত) আইনের ৩২ (২) ও ৩২ ক ধারা বাতিলেরও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

সোমবার এক বিবৃতিতে টিআইবির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিগত সরকারের সাতজন মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যের অস্বাভাবিক সম্পদ বৃদ্ধির বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণের যে উদ্যোগ নিয়েছে, টিআইবি তাকে স্বাগত জানিয়েছে। একইসঙ্গে অন্য যাদের বিরুদ্ধে একই ধরনের তথ্য প্রকাশিত হয়েছে তাদেরও আইনের আওতায় আনার লক্ষ্যে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য টিআইবি দুদকের প্রতি আহ্বান জানায়। অন্যদিকে নবম সংসদের শেষ অধিবেশনে পাসকৃত দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধিত) আইন ২০১৩ এর ৩২(২) ও ৩২ক ধারা বাতিলের জোর দাবি জানিয়েছে দুর্নীতিবিরোধী  এই আন্তর্জাতিক সংগঠন।

বিবৃতিতে টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “প্রাক্তন মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের ব্যাপক সম্পদ বৃদ্ধি যদি তাদের জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয় তবে তা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং সংবিধানের ২০(২) ধারা অনুযায়ী অসাংবিধানিক। ইতিপূর্বে দুদক এ বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণে কার্যত অনীহা প্রকাশ করলেও অতিসম্প্রতি এবিষয়ে যে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে তা আশাব্যঞ্জক। তবে এক্ষেত্রে দুদককে সবধরনের করুণা, ভয় বা প্রভাবের ঊর্ধ্বে উঠে উৎকৃষ্ট পেশাদারিত্ব প্রদর্শন করতে হবে। তাই শুধু এক্ষেত্রে দুদকের উদ্যোগ সাতজনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না রেখে বরং অস্বাভাবিক সম্পদ বৃদ্ধি পেয়েছে এমন প্রত্যেককেই পর্যায়ক্রমে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। অন্যথায় কোনো যৌক্তিকতা  ও মাপকাঠি অনুসরণ করে কাউকে তদন্তের আওতাভুক্ত করা হয়েছে আবার কোন্ যুক্তিতে অন্যদের ক্ষেত্রে পদক্ষেপ গৃহীত হবে না, তা জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে।”

ড. জামান বলেন, “নবম সংসদের শেষ অধিবেশনে পাশকৃত দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধিত) আইন ২০১৩ এর ৩২(২) ও ৩২ক ধারা বলে জজ, ম্যাজিস্ট্রেট ও সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্নীতির অভিযোগের ক্ষেত্রে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণে দুদক কর্তৃক সরকারের পূর্ব অনুমতি গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যা বৈষম্যমূলক ও অসাংবিধানিক। দশম সংসদের প্রথম অধিবেশনেই আমরা এ সংশোধনী বাতিল করার দাবি জানাচ্ছি। কোনো বিশেষ শ্রেণীর নাগরিকের জন্য দুর্নীতির অপরাধের ক্ষেত্রে সরকারের পূর্বানুমতির নামে বিশেষ সুবিধা প্রদান যেমন সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক তেমনি রাষ্ট্রীয় খাতে দুর্নীতি প্রতিরোধের সরকারি অঙ্গীকারের ষড়যন্ত্রমূলক বরখেলাপের শামিল।”

তিনি আরো বলেন, “মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অন্যায়ের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স প্রদর্শন এবং দুর্নীতিকে বরদাশত করা হবে না বলে ঘোষণা দেন। প্রধানমন্ত্রীর এ অবস্থান দুদকের জন্য প্রেরণামূলক। অন্যদিকে আমরা আশা করবো যে, সরকারি ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী মহল এ অবস্থানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকবেন যা দুদকের স্বাধীন ও কার্যকরভাবে কর্তব্য পালনে বাধা সৃষ্টি করে।”

অস্বাভাবিক সম্পদ বৃদ্ধির তদন্ত সফলভাবে সম্পাদনের জন্য তিনি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বাংলাদেশ ব্যাংক ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে সমন্বয়ের আহ্বান জানান। তদন্তসাপেক্ষে দোষীদের বিচারের আওতায় আনতে ব্যর্থ হলে হলফনামার মাধ্যমে নির্বাচনের পূর্বে সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীদের সম্পদের হিসাব প্রকাশের যে বিধান করা হয়েছে এবং এরই ধারাবাহিকতায় সম্পদের তথ্য প্রকাশের যে সংস্কৃতি বাংলাদেশে তৈরি হয়েছে তার বাস্তব সুফল পাওয়া যাবে না। বরং এরূপ অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদাহরণ রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে, দুর্নীতির ব্যাপকতর বিস্তার হবে ও বিচারহীনতা বৃদ্ধি পাবে বলেও মনে করেন তিনি।

প্রসঙ্গত, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীর নির্বাচন কমিশনে প্রদত্ত হলফনামার তথ্য অনুযায়ী মন্ত্রী-সাংসদদের অনেকেই বিগত পাঁচ বছরে অস্বাভাবিক সম্পদের মালিক হওয়ার সংবাদে টিআইবি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে গত ২০ ডিসেম্বর ২০১৩  গণমাধ্যমে এক বিবৃতি পাঠিয়েছিল। একইসাথে নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট হওয়ার দোহাই দিয়ে এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের পক্ষ থেকে কোনোধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ না করার সিদ্ধান্তেও টিআইবি গভীর হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণপূর্বক এ বিষয়ে অতি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য দুদকের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছিল টিআইবি।

You may also like

Leave a Comment


cheap mlb jerseyscheap nhl jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseys