অভিনব পদ্ধতিতে বাসযোগে সিরিজ ডাকাতি : নবীগঞ্জে জনতার হাতে ৭ ডাকাত আটক

by News Room

ডেস্ক রিপোর্ট : অভিনব পদ্ধতিতে বাস যোগে সিরিজ ডাকাতিকালে নবীগঞ্জে এসে জনতার হাতে ধরা পড়েছে ৭ ডাকাত। এ সময় তাদের সহযোগী আরো ৮/১০ ডাকাত পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। পরে গণধোলাই দিয়ে আটক ডাকাতদের পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে নবীগঞ্জ উপজেলার রুস্তমপুর টোলপ্লাজায়। ডাকাতি কাজে ব্যবহৃত বাসটি রুস্তমপুর টোলপ্লাজা ফাড়িতে রাখা হয়েছে।
আটককৃত ডাকাতরা হচ্ছে জামালপুর জেলার বকসীগঞ্জ উপজেলার আব্দুর রহমানের পুত্র ইব্রাহীম (২৪), রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার তাজরুল হকের পুত্র লিটন মিয়া (২৩), জেলা সদরের আনোয়ার হকের পুত্র মহিউদ্দিন (২০), চাদপুর জেলার মতলব উপজেলার সরাফত আলীর পুত্র সাদ্দাম হোসে (২৪), মেহেরপুর জেলার মুজিবনগর উপজেলার আজিজুল হকের পুত্র ফারুক মিয়া (২৮), পিরোজপুর সদর উপজেলার সেলিম খানের পুত্র রনি খান (২৬) ও সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার দক্ষিণ বলদী গ্রামের সাহেদুল ইসলাম (২৮)।
পুলিশ, ডাকাত ও প্রত্যক্ষদর্শী সুত্রে জানা যায়, আটককৃতরাসহ ১৭/১৮ জনের ডাকাতদল আনন্দ পরিবহনের একটি বাস (নং সিরাজগঞ্জ জ-১১-০০০১) রিজার্ভ করে। এরা বাসের সামনে সিলেট মাজার জিয়ারতের ব্যানার টাঙ্গিয়ে গত সোমবার সকালে ঢাকার সাভার থেকে সিলেটের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। ঢাকা থেকে সিলেট যাবার পথে স্থানে স্থানে এরা বাসে যাত্রী উঠায়। পড়ে যাত্রীদের নিকট থেকে সবকিছু হাতিয়ে নিয়ে কিছু দুর গিয়ে চলন্ত বাস থেকে যাত্রীকে রাস্তায় ফেলে দেয়। এভাবে সিরিজ ডাকাতি করতে করতে এরা সিলেট গিয়ে পৌছে। সন্ধ্যায় আবার এরা সিলেট থেকে রওয়ানা দেয়। শুরু হয় আবারো সিরিজ ডাকাতি। সিলেটের গোয়ালা বাজার থেকে ৩ যাত্রী শেরপুর আসার জন্য ওই ডাকাতদের বাসে উঠে। কিছুদুর আসার পরই তাদের নিকট থেকে ডাকাতরা সব কিছু হাতিয়ে নিয়ে কাগজপুর গ্রামের নিকট ১৯ মাইল নামক স্থানে বাস থেকে ওই যাত্রীদের ফেলে চলে আসে ডাকাতদল। এ সময় তাদের চিৎকারে লোকজন জড়ো হয়ে বিষয়টি শেরপুর টোলপ্লাজাকে অবহিত করে বাসটি আটকের জন্য বলা হয়। টোলপ্লাজায় দেয়া হয় ব্যারিকেট। কিন্তু ব্যারিকেট ভেঙ্গে চলে যায় ডাকাতবহনকারী বাসটি। এদিকে নবীগঞ্জের আউশকান্দি থেকে এক যাত্রী শায়েস্তাগঞ্জ আসার জন্য ওই বাসে উঠে। তখন রাত পৌনে ৯টা। কিছুদুর এগুনোর পরই ডাকাতদল তার নিকট থেকে সবকিছু হাতিয়ে নেয়। এ সময় ডাকাতদের সাথে ওই যাত্রীর ধস্তধস্তি শুরু হয়। এ অবস্থায় বাস চলে আসে রুস্তমপুর টোলপ্লাজায়। এ সময় ওই যাত্রী ডাকাত ডাকাত বলে চিৎকার শুরু করলে লোকজন এগিয়ে আসে। অবস্থা বেগতিক দেখে বাস থেকে নেমে ডাকাতদল রুস্তমপুর গ্রামের ভেতর দিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় ওই এলাকার শত শত লোক লাঠিসোঠা নিয়ে ডাকাতদের ধাওয়া করে উল্লেখিত ৭ ডাকাতকে আটক করতে সক্ষম হয়। বাকীরা আত্মগোপন করে। খবর পেয়ে গোপলার বাজার তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে। এদিকে জনতা আটক ডাকাতদের গণধোলাই দেয়ার সময় এক পুলিশ কনষ্টেবল বাধা দেয়। এতে জনতা বিক্ষুব্ধ হয়ে মারমুখি হয়ে উঠে। এতে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে স্থানীয় লোকজনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। খবর পেয়ে নবীগঞ্জ থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলম ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে আটক ডাকাতদের গোপলার বাজার তদন্ত কেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়। ডাকাতি কাজে ব্যবহৃত বাসটি আটক করে রুস্তমপুর টোলপ্লাজা ফাড়িতে রাখা হয়েছে।

You may also like

Leave a Comment


cheap mlb jerseyscheap nhl jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseys