অপহরণ-জঙ্গি তৎপরতায় আ.লীগ-যুবলীগ জড়িত: খালেদা

by News Room

ডেস্ক রিপোর্ট :গুম-খুন আর জঙ্গি তৎপরতায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ আর ছাত্রলীগ জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।

বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক দল জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) ২৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।

খালেদা জিয়া বলেন, আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসরেরা হত্যা-সন্ত্রাস-গুম-খুন করছে। তাই এই সরকার এসব বন্ধ করতে পারবে না। নির্দলীয় সরকারের অধীনে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হলেই এসব বন্ধ হবে।

এ সময় আবারো সরকারকে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আলোচনার দ্বার এখনো খোলা। আলোচনা করে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করার আহ্বান করছি। জনপ্রিয়তা থাকলে নির্বাচন করে জনপ্রিয়তার প্রমাণ দিন।’বক্তব্যে ময়মনসিংহের ত্রিশালে পুলিশের প্রিজনভ্যানে হামলা চালিয়ে জঙ্গি ছিনতাইয়ের সঙ্গে যুবলীগ নেতার সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগের বিষয়ে কথা বলেন খালেদা।

তিনি বলেন, ‘জঙ্গি পালিয়ে গেল, কানেকশন পাওয়া গেল যুবলীগ নেতার। প্রমাণ হয়েছে- আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ জঙ্গি-গুম-খুনের সঙ্গে জড়িত।’

সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন নামে স্বাধীন। এখানে সত্যিকারের স্বাধীনতা নেই। স্বাধীনতা থাকলে সীমান্তে মানুষ হত্যা ও ধান কেটে নেয়ার প্রতিবাদ এবং পানির ন্যায্য হিস্যার দাবি তোলা হতো। আমরা এ ব্যাপারে সোচ্চার হলেও সরকার তাতে বাধা দিচ্ছে।’

সরকারকে ক্রীতদাস আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, এই ক্রীতদাস সরকারের কথায় কেউ পাত্তা দেয় না। তাই ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে ক্রীতদাস সরকারের পতন ঘটিয়ে দরকার জনগণের সরকার আনতে হবে।খালেদা জিয়া বলেন, ‘এদেশে কোনো সরকার নেই, ক্ষমতা যারা আকড়ে ধরে আছেন তারা অবৈধ। গত ৫ জানুয়ারি ভোটকেন্দ্রে কোনো মানুষ যায়নি। ৫ শতাংশ ভোটে তারা সরকার গঠন করেছে। এছাড়া ১৫৪ জন তো বিনা ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন।’

তিনি বলেন, এসব নাটুকে অভিনয় বন্ধ করে তাড়াতাড়ি একটি নির্বাচন দিন, যে নির্বাচন সারা বিশ্বের মানুষ দেখতে চায়। যার মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন করা সম্ভব। আজকে উন্নয়নের নামে দেশে লুটপাট চলছে।

নির্বাচন কমিশন প্রসঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘এই কমিশন সরকারের আজ্ঞাবহ। তারা সরকারের আদেশ-নিষেধ ছাড়া আর কিছুই করতে পারে না। তাই তাদের উচিৎ পদত্যাগ করা।’

সরকারি চাকরি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখন দেশের সকল প্রশাসনে সরকারদলীয় ক্যাডার ছাড়া অন্য কেউ চাকরি পায় না। পদে পদে চাঁদা দিতে হয়।

দেশের চলমান অস্থীতিশীল অবস্থার কথা উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘এমন অস্থীতিশীল অবস্থা স্বাধীনতার পর আর দেখা যায়নি। সবাই একটু নিরাপত্তা চায়।’দুর্নীতি দমন কমিশনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এ কমিশন অন্ধ। এখানে সরকারি মন্ত্রী-এমপিদের হিসেব দিতে হয় না, কেবল বিরোধী দলের নেতাদেরই হিসেব দিতে হয় এবং অন্যায়ভাবে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।’

জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধানের সভাপতিত্বে এতে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, এলডিপির মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদ, ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান আবদুল লতিফ নেজামী, বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টির চেয়ারম্যান আবদুল মোবিন, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এনডিপি) চেয়ারম্যান খন্দকার গোলাম মর্তুজা, বাংলাদেশ পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান গরীবে নেওয়াজ, বাংলাদেশ ন্যাপের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গনী, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জাগপা’র সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমানসহ ১৯ দল ও জাগপার কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

You may also like

Leave a Comment


cheap mlb jerseyscheap nhl jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseyscheap jerseys