মিডিয়াতে কাজ করার ব্যাপারে নিজের পরিবার থেকে কোন রকম সহযোগিতা বা উৎসাহ কখনো পাননি নুসরাত

বিজয়া লক্ষী ত্রিপুরা:

ক্রমাগত সেলিব্রিটিদের পিছুপিছু দৌড়ানোর অভ্যেস আমাদের প্রকাশনা গ্রুপের সাংবাদিকদের একদম নেই। অবশ্য আমাদের সহযোগী প্রকাশনা ইংরেজী কাগজ ব্লিটজ সেই ২০০৩ সাল থেকেই মূলত ইংরেজী ভাষাভাষী পাঠকদের টার্গেট করেই নানা আয়োজন সাজাচ্ছে ক্রমাগত। বর্তমানে বিশ্বে ব্লিটজ-এর পাঠক সংখ্যা কয়েক কোটি। গুগল নিউজ, ডব্লিউ এন নিউজ, ইয়াহু থেকে শুরু করে প্রায় সবগুলো সার্চ ইঞ্জিনে গুরুত্বের সাথে শেয়ার হচ্ছে ব্লিটজ কন্টেন্টগুলো। পাশাপাশি ভারতের বিখ্যাত হিন্দুস্তান টাইমস পত্রিকার সহযোগী প্রতিষ্ঠান এইচটি ডিজিটাল-এর মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় ৭৫০ টি পত্রিকা এবং রয়টার্স-এর মতো বড় সংবাদ সংস্থাগুলোর সাথেও আমাদের আছে কন্টেন্ট সিন্ডিকেশন চুক্তি।

আন্তর্জাতিক বিশ্বে ব্লিটজ-এর পরিচিতি ‘সর্বাধিক প্রভাবশালী পত্রিকা’ হিসেবে। পৃথিবীর সব দেশের, বিশেষ করে পশ্চিমা বিশ্বের নীতি নির্ধারকদের কাছে ব্লিটজ অপরিহার্য।

এসবকিছু সম্ভব কয়েছে যে মানুষটার কারণে, তিনি হলেন জমজমাট-এর প্রধান সম্পাদক এবং ব্লিটজ এর সম্পাদক সালাহ উদ্দিন শোয়েব চৌধুরী। তিনি এই পত্রিকাগুলোর প্রকাশকও। তাঁর জীবন নিয়ে হলিউডে চলচ্চিত্রও নির্মিত হচ্ছে। ছবিটির নাম ষ্টোরি অফ এ জেথ্রো। সাংবাদিকতা পেশার বাইরে তিনি একজন খ্যাতিমান গীতিকার, সুরশ্রষ্ঠা, সঙ্গীত পরিচালক এবং নির্মাতা। লেখক হিসেবেও তাঁর খ্যাতি আছে বিশ্বজুড়ে। এরই মাঝে তাঁর লেখা বই বিশ্বের বেশ কিছু ভাষায় অনুবাদ হয়েছে। হলিউড মেগা টিভি সিরিজের জন্যে গল্পও লিখেছেন তিনি।

বরাবরই আমাদের সবার প্রিয় সম্পাদক খানিকটা পাগলাটে ধাঁচের। পৃথিবীর সব সৃষ্টিশীল মানুষোগুলোই এমনটা হয়। এদের সব চেয়ে বড় গুন হলো, ভন্ডামি বা অহংকারের সামান্যও নেই এদের মাঝে। এদের মন যেমনই বিশাল, ঠিক তেমনই স্ফটিকের জলের মতোই পরিষ্কার।

যারা তাঁকে দীর্ঘ বহু বছর থেকে চেনেন-জানেন, তাঁরা সবাই অবাক হয়ে যান, কীভাবে এমন একজন কসমোপলিটান মানুষ, যার বন্ধুদের প্রায় সবাই বিদেশী, তিনি স্বভাবে বাউল। না, পোষাক-পরিচ্ছদে তিনি বরাবরই পরিপাটি, খানিকটা পশ্চিমা।

আমাদের প্রিয় সম্পাদক রবিবার সকালেই আমায় ডেকে বললেন, একটা সাক্ষাৎকার নিতে হবে। প্রশ্নগুলো তাঁর চাই। জানতে চাইলাম, কার সাক্ষাৎকার। তিনি নামটা বললেন। আমি অবশ্য আগে কখনও শুনিনি নামটা। এটা আমার সীমাবদ্ধতা।  প্রশ্নের উত্তরগুলো যখন এলো, তখন আমি একবার নয়, অনেকবার পড়লাম এটা। আমার দৃষ্টি বারবার আটকে যাচ্ছিলো একটা উত্তরে। যেখানে সাক্ষাৎকার প্রদানকারিণী বলেছেন, “আমি মিডিয়া তে কাজ করার জন্য আমার পরিবার থেকে কোন রকম সহযোগিতা বা উৎসাহ কোনটাই আমি কখনো পাইনি”। কষ্ট হলো তাঁর জন্যে। পরক্ষনেই ভাবলাম, আমরা তো ঠিক তেমন সামাজিক অবস্থার মাঝেই বসবাস করছি, যেখানে ধর্মীর সংকীর্ণতার কারণে কিংবা মিডিয়া সম্পর্কে স্পষ্ট জ্ঞানের অভাবে অনেকেই পরিবারের মেয়েটাকে মিডিয়াতে আসতে দেন না। তারপরও, শখ কিংবা স্বপ্নের টানে অনেকেই সব বাঁধা উপেক্ষা করেই মিডিয়াতে তাঁদের অবস্থানটা ধরে রাখেন – অনেক ত্যাগের বিনিময়ে। এজন্যে অনেকেই পরিবার থেকে সরে আসতেও বাধ্য হন। কারোকারো সংসারও ভাঙ্গে। তবু ওরা অপরাজেয় হিমালয়ের মতোই মাথা উচু করে জানান দেন – মিডিয়াতে ওদের অবস্থানের খবর।

আজ আমি যার থাকে কথা বলেছি, তাঁর পুরো নাম নুসরাত সাবরিন চৌধুরী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁকে সবাই নুসরাত নামেই চেনে। অনেক বিষয় নিয়েই কথা হলো তাঁর সাথে। নিচে এর চুম্বক অংশটুকু তুলে ধরা হলোঃ

জমজমাটঃ  পেশাগত জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে আপনার বিচরণ। অধিকাংশ জায়গাতেই সাফল্যের ছোঁয়া। এই সাফল্যের পেছনে মূল চালিকাশক্তি কি আপনার সংকল্প নাকি কঠোর পরিশ্রম?

নুসরাতঃ আমার পেশাগত জীবন শুরু হয় ২০১২ থেকে। বিভিন্ন মাল্টিন্যাশনাল প্রতিষ্ঠান এ চাকুরী জীবন ছিল ২০১৮ পর্যন্ত। তার পাশাপাশি নিজস্ব অনলাইন ব্যবসা ছিল সেই সাথে ২০১৬ থেকে অভিনয় এর সাথে জড়িত। আমার নিজস্ব ভ্রমণ গ্রুপ ও আছে যার মাধ্যমে অনেক মানুষ কে নিয়ে আমরা একসাথে ভ্রমণ করেছি। আসলে এই যে এত সব কিছু একসাথে এটা কিন্তু শুধুমাত্র সংকল্প থাকলেই সম্ভবপর হয়না। আমি ছোট থেকেই ভীষণ পরিশ্রম এ বিশ্বাস করি। এটা মানি যে লক্ষ্য টাই সবকিছু নয়। সাথে নিরলস পরিশ্রম টাই একটা মানুষ কে সাফল্য দিতে পারে। আমার সাফল্যের মূল চালিকাশক্তি আমি অবশ্যই বলব পরিশ্রম।

জমজমাটঃ মিডিয়াতেই ক্রমশ আপনার পরিচিতি ছড়িয়ে পড়ছে, যদিও এর সিংহভাগই বিভিন্ন পণ্যের অনলাইন বিপননে সাবলিল উপস্থাপনার কারণে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যারা নিয়মিত, তাদের অনেকেই আপনাকে চেনেন।ভবিষ্যতে নিজেকে কিভাবে পরিচিত করাতে চান – একজন সফল অনলাইন উপস্থাপিকা হিসেবে, নাকি মিডিয়ার অন্যান্য ক্ষেত্রেও?

নুসরাতঃ অনেক ধন্যবাদ। অনলাইন উপস্থাপনায় আসলে একেবারে হটাত করেই আসা। এক বন্ধুর অনুরোধ এ তার অনলাইন শপ এর প্রচারণার মাধ্যমেই প্রথমে এই জগতে আসা। তারপর আস্তে আস্তে অনেকেই যোগাযোগ করতে থাকেন তাদের ব্র্যান্ড এর হয়ে কাজ করার জন্য। এই কাজ করতে করতে মনে হল আমি উপস্থাপনায় যথেষ্ট সাবলীল। তারপর পেশাগত ভাবেই এই কাজ টা তে জড়িয়ে পরা। মিডিয়ার অন্যান্য ক্ষেত্রেও আমি অবশ্যই কাজ করতে চাই কিন্তু শুধু মাত্র সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম নয় , আমি উপস্থাপিকা হিসেবে নিজেকে পরিচিত করাতে চাই সব ক্ষেত্রেই।

জমজমাটঃ আপনি পেশাগত জীবনে একজন সফল বিপনন কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করছেন। এর পাশাপাশি নিজেকে মিডিয়ায় উপস্থাপনের সিদ্ধান্তটা কি শুধুই শখের বশে নাকি পেশাগত চাহিদার কারণে?

নুসরাতঃ আমি কিন্তু প্রধান বিপণন কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করার আগে অভিনয় এর মাধ্যমে মিডিয়া তে আমার যাত্রা শুরু করেছিলাম। অভিনয় টা আমার প্যাশন বলতে পারেন।  নিজেকে মিডিয়া তে উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত টা যত টা না শখের বশে তার থেকে বেশি ভালোবাসা থেকে।

জমজমাটঃ বাংলাদেশের মিডিয়ায় এখন অনেক শিক্ষিত লোকজন আসছেন। এটা কি মিডিয়ার পরিবেশ আরো উন্নত করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে?

নুসরাতঃ এটা খুব ই ভালো একটা ব্যপার। মিডিয়া এমন একটা প্লাটফর্ম যার মাধ্যমে বিভিন্ন মেসেজ সবার মধ্যে খুব সহজেই ছড়িয়ে পরে। এই  প্লাটফর্ম টা তে যারা কাজ করবেন তাদের অবশ্যই শিক্ষিত হওয়া জরুরী। শিক্ষাগত যোগ্যতা তো আছেই তার থেকেও বড় ব্যপার কিন্তু একটা মানুষ এর ভালো ফ্যমিলী ব্যাকগ্রাউনড। মূল শিক্ষা টাই তো আসে পরিবার থেকে। একটা ভালো পরিবার এর নৈতিক শিক্ষা ধারন করার পাশাপাশি যাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা আছে তারা মিডিয়া তে আসলে অনেক ভালো কিছু  দেশ ও দর্শক পাবে বলে আমার বিশ্বাস।

জমজমাটঃ আপনি নিজেকে কিভাবে দেখেন। রবীন্দ্রনাথ বা শরৎ চন্দ্রের গল্পের নায়িকানাকি দাভিঞ্চির মোনালিসা?

নুসরাতঃ  অবশ্যই রবীন্দ্রনাথ বা শরৎ চন্দ্রের গল্পের নায়িকা হিসেবে। যদি আরও নির্দিষ্ট করে বলি তবে বলব রবীন্দ্রনাথ এর শেষের কবিতার লাবণ্য হিসেবেই নিজেকে দেখি।

জমজমাটঃ মানুষের কোন বিষয়গুলো আপনার সবচেয়ে অপছন্দ?

নুসরাতঃ  অনেক বিষয়ই অপছন্দ তবে প্রথম ও প্রধান যেটা অপছন্দ তা হল হিপোক্রেসি বা ভণ্ডামি। একজন মানুষ ভেতরে যা উপরেও তাই প্রকাশ করা উচিত। ডাবল স্ট্যান্ডারড মানসিকতা আমার ভীষণ অপছন্দের। এছাড়া কমিটমেন্ট বা ওয়াদা আমার কাছে অনেক বড় একটা ব্যাপার। ওয়াদা ভঙ্গকারীকে আমি একেবারেই পছন্দ করিনা।

জমজমাটঃ সঙ্গীত পছন্দ করেনা এমন বাঙ্গালী হয়তো একেবারেই হাতে গোনা। গুনগুন করে গান করেনা এমন বাঙ্গালীও খুঁজে পাওয়া কষ্টকর। সঙ্গীত নিয়ে আপনার নিজের অভিব্যক্তিটা বলবেন? ওই গুনগুন করে গান গাওয়া থেকে একদিন সঙ্গীত শিল্পী হিসেবে শ্রোতাদের সামনে তুলে ধরার স্বপ্ন কি মনে আছে?

নুসরাতঃ  {হেসে}  আমি ছোটবেলায় গানের স্কুলে ভর্তি হয়েছিলাম কিন্তু চালিয়ে যেতে পারিনি নানা কারণে। গান শুনতে শুনতেই কিন্তু আমার বেড়ে ওঠা। পুরনো ক্লাসিক গান গুলো আমি এখন শুনি এবং নিয়মিত গাই বন্ধু দের আসরে। আমি আমার সেই যুগ এখনো ছেড়ে আসতে পারিনি। কিন্তু সংগীত শিল্পী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার আস্পর্ধা এখন হয়নি আর হবে ও না। আমি বন্ধুদের আড্ডায় গান গাওয়ার জন্যই ঠিক আছি। কিন্তু আমার এই সিদ্ধান্তে হয়তো হেরফের হতোনা কক্ষনো, যদিনা মাত্র দু-তিনদিন আগে একজন কেউ খুব আপন ভেবে আমায় বললেন, তাঁর একটা গান গাইতে হবে। আমি মানুষের আন্তরিকতার মূল্য দেই সবসময়। কোনও সৃষ্টিশীল মানুষ যখন এমন আব্দার করেন, তখন অন্তত আমার পক্ষে না বলা অসম্ভব। তাই রাজী হতেই হলো। আমার জন্যেই একটা গান তৈরী করছেন তিনি। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ভয়েস দেবো। আমার বন্ধু এবং শুভাকাংখিরা শিগিগিরি শুনবেন আমার কন্ঠে গাওয়া প্রথম গান।

জমজমাটঃ কোন ধরণের গান আপনাকে বেশী আলোড়িত করেবর্তমানে সস্তা কথা আর নকল সুরের গানগুলো নিয়ে আপনি কি বলবেন?

নুসরাতঃ ওই যে বললাম পুরনো গান গুলো থেকে আমি এখন বের হতে পারিনি। জগজিৎ সিং, অনুপ ঘোষাল, কিশোর কুমার, হেমন্ত মুখপাধ্যায়, মান্না দে এনাদের গান ই আমাকে বেশি আলোড়িত করে। তারপর সৈয়দ আব্দুল হাদী, বারী সিদ্দিকী এনাদের গান শুনেই তো আমার শৈশবে বেড়ে ওঠা। এছাড়া লালন এর গান। আমি লালন এর ভীষণ বড় ভক্ত। বর্তমানে মানুষ আসলে এত ব্যস্ত যে কোন গান শুনে এর গভীরে যাওয়ার মত ধৈর্য্য বা সময় কারোর ই নেই। এই সুযোগে সব সস্তা লিরিক্স আর নকল সুরে গান গুলো সৃষ্টি হচ্ছে। শ্রোতার জন্যই তো গান। শ্রোতা যদি কোয়ালিটিফুল গান শোনার জন্য নিজেকে তৈরি না করেন তাহলে আসলেই ভাল কোন গান আসবেনা।

জমজমাটঃ আজ থেকে দশ বছর পরনিজেকে অবস্থানে দেখতে চান?

নুসরাতঃ  আজ থেকে দশ বছর পর আমি বিশ্বের সব দেশ ভ্রমণ শেষ করতে চাই এবং সেটা বাস্তবায়ন করার জন্য যতটা পরিশ্রম করে নিজেকে সফল হিসেবে গড়ে তোলা যায় , সেই অবস্থানেই দেখতে চাই।

“জীবনে তো একবারই বাঁচা , পেতে চাওয়া যত সুখ

দুঃখের বোঝা বইতে বইতে রেখে যাওয়া হাসিমুখ”

জমজমাটঃ মিডিয়ায় কাজ করার বিষয়ে পরিবারের সহযোগীতা বা উৎসাহ পাচ্ছেন কতোটা?

নুসরাতঃ এটা আসলে দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি যে আমাদের দেশের মানুষ মিডিয়া তে যারা কাজ করেন তাদের পর্দায় দেখতে ভালবাসেন। কিন্তু তার পরিবার এর কেউ মিডিয়া তে কাজ করুক এটা তেমন কেউ ই চান না। এটার পক্ষে বিপক্ষে অনেক যুক্তি যদিও আছে। কিন্তু আমি মিডিয়া তে কাজ করার জন্য আমার পরিবার থেকে কোন রকম সহযোগিতা বা উৎসাহ কোনটাই আমি কখনো পাইনি।

জমজমাটঃ ভবিষ্যতে যদি মিডিয়ায় আরো বড় পরিসরে কাজের প্রস্তাব পান সেক্ষেত্রে আপনার সিদ্ধান্ত কি হবে?

নুসরাতঃ ভালো কোন কাজ হলে অবশ্যই করব।

জমজমাটঃ আজ থেকে এক  বছর পরআপনি থাকবেন না কিন্তু আপনার স্মৃতি থেকে যাবে এই পৃথিবীতে। ভাবতে কেমন লাগে?

নুসরাতঃ এটা আসলেই খুব অদ্ভুদ লাগে ভাবতে। জানিনা কতটা ভালো কাজ করে যেতে পারবো।  কার কতটা উপকারে আসতে পারবো তবুও সবাই চায় তার কর্মের মাধ্যমে পৃথিবীতে বেঁচে থাকতে। আমারও তাই চেষ্টা থাকবে।

“জীবনে তো একবারই বাঁচা , পেতে চাওয়া যত সুখ

দুঃখের বোঝা বইতে বইতে রেখে যাওয়া হাসিমুখ”

সুত্র:জমজমাট

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*