চরম মানসিক নিপীড়নে আছি কেউ পাশে নেই: মিন্নি

ন্যাশনাল ডেস্ক: বরগুনায় রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় এসেছেন তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি। এ ঘটনায় শনিবার দুটি সিসিটিভি ফুটেজ গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওতে মিন্নির ভূমিকা নিয়ে কেউ কেউ বিতর্কের সৃষ্টি করেন।

মঙ্গলবার এর জবাব দিতে গিয়ে মিন্নি বলেন, ‘আমি চরম মানসিক নিপীড়নে ভুগছি। কেউ আমাদের পাশে নেই, সবাই শুধু সমালোচনায় মুখর। আমি সবার সহযোগিতা চাই।’ না জেনে কোনো মন্তব্য না করতেও অনুরোধ জানান তিনি।

ভাইরাল হওয়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, কলেজের প্রধান ফটকে রিফাতকে নিয়ে বের হন মিন্নি। পরে এদিক-ওদিক তাকিয়ে ফের রিফাতকে কলেজের ভেতর টেনে নিয়ে যেতে চান তিনি। ঠিক তখনই সন্ত্রাসীরা কলেজ গেট থেকে রিফাতকে ধরে সামনের দিকে নিয়ে যায়। তখন মিন্নিকে পেছনে স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে দেখা যায়। এর কয়েক সেকেন্ড পরেই নয়ন বন্ড ও অন্যরা যখন রিফাতকে কিল ঘুষি লাথি মারতে শুরু করে তখনই মিন্নি ঝাঁপিয়ে পড়ে স্বামীকে রক্ষার প্রাণপণ চেষ্টা করেন।

কুপিয়ে জখম করার সময় কখনও রিফাত ফরাজী, কখনও নয়ন বন্ডকে ঠেকানোর চেষ্টা করেন। কুপিয়ে রিফাতকে ফেলে যাওয়ার পর মিন্নি ব্যাগ ও জুতা তুলে রিফাতকে খুঁজতে সামনে এগিয়ে যান। কেউ কেউ প্রশ্ন তোলেন, কেন মিন্নি রিফাতকে কলেজের ভেতর নিয়ে যেতে চাইছিলেন, সন্ত্রাসীরা ধরে নিয়ে যাওয়ার সময় কেন তিনি স্বাভাবিকভাবে হাঁটছিলেন এবং শেষ পর্যায়ে রিফাতের দিকে ছুটে না গিয়ে কেন জুতো ও ব্যাগ তুলতে গিয়েছিলেন।

এসব বিষয়ে কথা বলতে মঙ্গলবার বিকালে মিন্নির বাড়িতে গেলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘তখন হয়তো সোয়া ১০টা, রিফাত (স্বামী) আমাকে বলে, আব্বু আসছেন, চলো তোমার সঙ্গে দেখা করবে। আমি ওরে বলছিলাম আমার কাজ শেষ করে বের হই। ও আপত্তি করে বলে, বাবা গেটে অপেক্ষা করছে, আমি তখন ওর সঙ্গে বের হই। গেটের বাইরে এসে এদিক-ওদিক তাকিয়ে দেখি ওর বাবা (মিন্নির শ্বশুর) কোথাওনেই। তখন আমি বলি তুমি মিথ্যে বলেছ, কলেজে চলো রুটিন নিয়ে আসি। আমি ওকে নিয়ে ভেতরে যেতে চাই।’

মিন্নি বলেন, ‘ঠিক এ মুহূর্তেই ১০-১২ জন আমাদের ঘিরে ধরে এবং রিশান ফরাজী ওর পথরোধ করে বলে, তুই আমার বাবা-মা তুলে গালি দিছিস? ও বলে, না। তখন রিফাত ফরাজী বলে আমার চোখের দিকে তাকিয়ে বল, ঠিক এ মুহূর্তে অন্য কয়েকজন বলে ওর কাছে অস্ত্র আছে এই ধর… ধর… বলে সামনে এগোতে থাকে। ঘটনার আকস্মিকতায় আমি হতভম্ব হয়ে ওদের পেছনে হাঁটতে থাকি, পরে যখন আক্রমণ করে তখন আমি প্রতিরোধের চেষ্টা করি।’

রিফাত শরীফের স্ত্রী মিন্নি আরও বলেন, আমি হেল্প চাই অনেকের কাছে, কেউ এগিয়ে আসেনি, ওরা চলে যাওয়ার পর রিফাত নিজেই হেঁটে রিকশায় ওঠে, আমার পায়ের পাতা কেটে যাওয়ায় জুতা ছাড়া হাঁটতে পারছিলাম না, তখন জুতা পায়ে দেই, এ সময় একজন আমার হাতে ব্যাগটি তুলে দেয়, পরে আমি দ্রুত গিয়ে রিফাতের রিকশায় উঠে ওকে হাসপাতালে নিয়ে যাই।’

মিন্নি বলেন, ‘আমার কাছে ফোন ছিল না, দু’জন ছেলে মোটরসাইকেলে আমাদের রিকশা ফলো করে যাচ্ছিল, আমি তাদের হেল্প চাইলে তারাও ধমক দেয়।’

এ প্রসঙ্গে মিন্নি আরও বলেন, ‘কিছু লোক আছে যারা বিষয়টি ভিন্ন দিকে নিয়ে যেতে চেষ্টা করছে। আমি সবাইকে বলব, বিয়ের মাত্র ২ মাসের মাথায় স্বামীকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা হতে দেখেছি। মানসিকভাবে আমি বিধ্বস্ত। আমার অনুরোধ, আমি তো আপনাদের মেয়ে বা বোন হতে পারতাম, আপনারা না জেনে কোনো মন্তব্য করবেন না।’

সিসিটিভি ফুটেজে মিন্নির ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ কিনা বা এ বিষয়টি পুলিশের নজরে এসেছে কিনা জানতে চাইলে বরগুনার পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন বলেন, তদন্ত একটি স্বচ্ছ ও স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এটি একটি নারকীয় রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড এবং মিন্নি এ মামলার এক নম্বর সাক্ষী। কোনো ব্যক্তিকে টার্গেট করে আমরা তদন্ত করছি না। আমাদের তদন্ত প্রক্রিয়া সব বিষয় নিয়েই এগোচ্ছে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*