শাইখ সিরাজ কৃষি মন্ত্রী আর ইলিয়াস কাঞ্চস যদি হন যোগাযোগ মন্ত্রী তবে কেমন হয়?

জুনায়েদুর রহমান : বাংলাদেশের মানুষের সবচেয়ে বেশী অভিযোগ যেসব খাত নিয়ে তার অন্যতম কৃষি খাত আর যোগাযোগ ব্যবস্থা। কৃষক তার ধানের দাম না পেয়ে ক্ষেতের পাকা ধানে আগুন ধরিয়ে দেবার মতো ঘটনা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় কৃষি প্রধান এদেশের কৃষিখাত কতটা ভেঙ্গে পড়েছে। এছাড়া খাদ্যে ভেজাল নিত্য দিনের ঘটনা। অতীতে এদেশে যারাই কৃষি মন্ত্রী হয়েছেন তারা সবাই মোটামুটি রাজনীতি করে এই পদে বসেছেন। কৃষিখাতে তেমন অভিজ্ঞ কাউকে আমরা মন্ত্রী হিসাবে পাইনি। এক্ষেত্রে যদি শাইখ সিরাজকে কৃষি মন্ত্রী করা হয় তবে বদলে যেতে পারে দেশের কৃষিখাত, ফুটতে পারে কৃষকের মুখে হাসি। কারণ শাইখ সিজারের কৃষি ব্যবস্থা নিয়ে রয়েছে চার দশকের অভিজ্ঞতা। কৃষক, মাটি ও মানুষের সাথে তার সুগভীর সম্পর্ক। তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনে জনপ্রিয় কৃষিভিত্তিক অনুষ্ঠান মাটি ও মানুষ ও নিজস্ব মালিকানাধীন বেসরকারি টিভি চ্যানেল আইতে হৃদয়ে মাটি ও মানুষ নামক অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করে আসছেন। সে হিসাবে তার জানা আছে কৃষকের সমস্যা, কৃষির সম্ভাবনা ও সাধারণ মানুষের চাওয়া পাওয়ার কথা। তিনি কৃষি সাংবাদিকতায় অবদান রাখার জন্য ২০১৮ সালে পেয়েছেন স্বাধীনতা পুরস্কার। তাকে কৃষি মন্ত্রী করা হলে দেশ গড়ার কাজে তিনি তার অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারবেন।

অপরদিকে ইলিয়াস কাঞ্চন হলেন এদেশের ইতিহাসে এক বিরল নাম। ১৯৯৩ সালে যার স্ত্রী সড়ক দূর্ঘটনায় মারা যাবার পর যোগাযোগ ব্যবস্থাকে ঠিক করতে তিনি নেমে পড়েন ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ এর আন্দোলনে। নিরাপদ সড়কের বিরামহীন এ আন্দোলন তার আজও চলছে। সমাজসেবায় তার এমন অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার ২০১৭ সালে তাকে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদকে ভূষিত করেছে। আমি মনে করি ইলিয়াস কাঞ্চককে শুধু সম্মান জানালেই চলবে না- নিরাপদ সড়কের যে আন্দোলন তিনি করে আসছেন তার সে আন্দোলন সফল হবে যদি তাকে মন্ত্রী বানানো হয়। কারণ ইলিয়াস কাঞ্চন নিরাপদ সড়কের প্রতি দায়বদ্ধ, আমাদের কাছে পরীক্ষিত এক ভালোবাসার নাম। সড়কের কোথায় কি সমস্যা কিভাবে তা দূর করতে হবে হঠাৎ করে যোগাযোগ মন্ত্রী হয়ে যাওয়া যে কারো চেয়ে ইলিয়াস এ বিষয়ে ভালো জানেন।

প্রধানমন্ত্রী চাইলেই এ দুজনকে মন্ত্রী বানাতে পারেন। তিনি তো অনেকের হাতে ক্ষমতা তুলে দিয়েছেন, পরীক্ষিত এই মহান দুই মানুষকে একবার তিনি দায়িত্ব দিয়ে দেখতে পারেন!
লেখক : সাংবাদিক ও গল্পকার।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*