আইএইচটি তে ভর্তি হতে নিরুৎসাহিত করছেন প্রতিষ্ঠান গুলোর সাবেক শিক্ষার্থীরা

টিপু সুলতান: এস.এস.সি রেজাল্ট প্রকাশের পরপরই সারা দেশে শুরু হয় ছাত্র-ছাত্রীদের নতুন প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার আমেজ। সেই সুবাধে গত ১৫মে ২০১৯ ইং রোজ বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয় ৩ বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল টেকনোলজি (আইএইচটি) ও ৪ বছর মেয়াদী ম্যাটস কোর্সের ভর্তি নোটিশ। নোটিশ প্রকাশ হওয়ার পর পরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে চলছে নানান রকম আলোচনা সমালোচনা।

সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখা যায়, যারা মেডিকেল টেকনোলজি ও ম্যাটস পাশ করে বের হয়ে গেছেন তাদের কাছ থেকে নানা রকম হতাশা জনক মন্তব্য। তারা বলছেন, এস.এস.সি পাশকৃত ভাই ও বোনেরা তোমরা দয়া করে ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল টেকনোলজি ও ম্যাটস কোর্সে ভর্তি হবে না। যারা ভর্তি হবে সব কিছু জেনেবুঝে ভর্তি হও, না জেনে নিজেদের লালিত স্বপ্ন নষ্ট করবে না। মেডিকেল টেকনোলজি ও ম্যাটস নামক কারাগারে ভর্তি হয়ে আমরাও অনেক স্বপ্ন দেখেছিলাম কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন.. এরকম আবেগ প্রবণ মন্তব্য।

এমন মন্তব্যের কারণ জানতে গেলে এই পেশায় পাশকৃত ছাত্রছাত্রী ও চাকুরিজীবীরা বলছেন, বিগত প্রায় ১১-১২ বছর থেকে স্বাস্থ্যখাতের এই গুরুত্বপূর্ণ পদ (মেডিকেল টেকনোলজি) গুলোতে সরকারী নিয়োগ বন্ধ রয়েছে। যেখানে আমদের দেশের প্রত্যেকটা মেডিকেলের মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট ও মেডিকেল এসিসট্যান্টদের গুরুত্ব অপরিসীম। দেশে বর্তমানে প্রায় ৭৫০০০ হাজার মেডিকেল টেকনোলোজিষ্ট প্রয়োজন। কিন্তু সেখানে তাদের পদ গুলো খালি হয়ে পড়ে রয়েছে। তাদের গ্রেড নিয়েও চলছে নানান সমস্যা।

যেখানে ডিপ্লোমা পলিটেকনিক ও নার্সদের দেয়া হয়েছে ১০ম গ্রেড সেখানে তাদেরকে দেওয়া হয়েছে ১১তম গ্রেড। অথচ ডিপ্লোমা পলিটেকনিক ও নার্সিং কোর্স গুলো মানবিক শাখা থেকে করার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু সরকারি প্রতিষ্ঠানে ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল টেকনোলজি ও ম্যাটস কোর্স করতে হলে অবশ্যই এসএসসিতে বিজ্ঞান বিভাগ আবশ্যক। শুধু তাই নয় বিজ্ঞান বিভাগ হতে পাশ করে ভর্তি যুদ্ধের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সেখানে পড়াশোনার সুযোগ তৈরি করে নিতে হয়। তারপরও তাদেরকে এ বিষয়ে মুল্যায়ন করা হচ্ছেনা।

এছাড়া সরকারী নিয়োগ বন্ধ সহ নানা জটিলতার কারণে পাশ করেও শিক্ষার্থীরা বেকার হয়ে পড়ছেন। এই  বিষয়ে তারা অনেকবার আন্দোলন করেও কোনো সফলতা পাননি। তাদের কাছ থেকে আরও জানা যায়, তারা অনেকদিন থেকে তাদের সমস্যা গুলো নিয়ে আদালতে মামলা করলেও এর কোনো সুষ্ঠু রায় পাচ্ছেন না। সব মিলিয়ে ভীষণ হতাশা আর উৎকন্ঠায় দিন কাটছে এই পেশায় আসা মানুষগুলোর। এজন্য তারা মূলতো ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল টেকনোলজির পাশাপাশি ম্যাটসেও মেধাবী শিক্ষার্থীদের ভর্তি হতে বিরত থাকতে বলছেন।

লেখক: সাবেক শিক্ষার্থী, ইন্সটিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি, সিলেট।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*