নৌ-পথে চাঁদাবাজী নিয়ে ছাতকে আ’লীগের দু’গ্রুপে বন্দুক যুদ্ধ: নিহত ১, পুলিশসহ আহত ৪০

ছাতক প্রতিনিধিঃ ছাতকে নৌ-পথে চাঁদাবাজীকে কেন্দ্র করে সরকারদলীয় দু’পক্ষের মধ্যে বন্দুক যুদ্ধে শাহাবুদ্দিন নামের এক ঠেলা চালক নিহত এবং গুলিবিদ্ধ হয়ে থানার ওসিসহ অন্তত ৪০ ব্যক্তি আহত হয়েছে। গুরুতর আহত ৬ জনকে ভর্তি করা হয়েছে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
মঙ্গলবার তারাবী নামাজ চলাকালে ছাতক-সিলেট রোডের জালালিয়া আলিম মাদ্রাসার সামনে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ মুহুর্তের মধ্যে গোটা শহরে ছড়িয়ে পড়ে। সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। শহরের আসা লোকজন ছুটাছুটি করে নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান নেয়। শহরের বাসষ্ট্যান্ড থেকে ট্রাফিক পয়েন্ট পর্যন্ত এলাকা পরিনত হয় রণক্ষেত্রে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষ ব্যাপক ইট-পাটকেল, পেট্রল বোমা নিক্ষেপসহ শতাধিক রাউন্ড গুলি বিনিময় করে। সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রন করতে পুলিশ কয়েক শ’ রাউন্ড টিআরসেল ও ফাঁকা গুলি নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষে জড়িত থাকার অভিযোগে মেয়র আবুল কালাম চৌধুরীর বড় ভাই, চাচাসহ ২৮ জনকে আটক করে পুলিশ। স্থানীয় একাধিক সত্র জানায়, নদীপথে চাঁদাবাজী নিয়ে পৌর মেয়র আবুল কালাম চৌধুরীর ছোট ভাই ব্যবসায়ী আহমদ শাখাওয়াত সেলিম চৌধুরী ও উপজেলা আওয়ামীলীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য শাহীন চৌধুরী পক্ষের মধ্যে গত এক সপ্তাহ ধরে বিরোধ চলে আসছে। এক পক্ষ অন্য পক্ষকে চাঁদাবাজ আখ্যায়িত করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ষ্ট্যাটাস দিয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়টি নিয়ে ৭-৮দিন ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছিল। মঙ্গলবার বিকেলে সুরমা নদীতে এক পক্ষ অন্য পক্ষের নৌকা থেকে জোর পূর্বক টাকা ছিনিয়ে নিলে দু’পক্ষের লোকজন সন্ধ্যা থেকেই সংঘর্ষের প্রস্তুতি নিতে থাকে। শাহীন চৌধুরীর নেতৃত্বে বাগবাড়ী মহল্লার একাংশ শহরের বাগবাড়ী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এক পক্ষ এবং অপর পক্ষ অবস্থান নেয় পৌর মেয়র আবুল কালাম চৌধুরীর বাসভবনের সামনে। থানা পুলিশ ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সংঘর্ষ না হওয়ার জন্য একাধিকবার প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। রাত ৯ টার দিকে বাগবাড়ী স্কুলে শাহীন চৌধুরী পক্ষকে নিয়ে বৈঠকে বসেন স্থানীয় মুরুব্বী। এ সময় অপর পক্ষের সিংচাপইড় ইউনিয়নের বরখাস্থকৃত চেয়ারম্যান সাহাব উদ্দিন সাহেল ও যুবলীগ নেতা খোকন মিয়া মোবাইল ফোনে গালাগালসহ কর্কশ ভাষায় সংঘর্ষের আহবান জানালে মুহুর্তের মধ্যেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে উভয় পক্ষের লোকজন এক রক্তক্ষয়ী বন্দুক যুদ্ধে লিপ্ত হয়। প্রায় ঘন্টা ব্যাপী সংঘর্ষে ঠেলা চালক শাহাব উদ্দিন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়। ছাতক থানার ওসি মোস্তফা কামাল, ওসি(তদন্ত) আমিনুল ইসলাম, এসআই সৈয়দ আব্দুল মান্নান, পুলিশ সদস্য ফাইম, সজীব ইসলাম, তফাজ্জুল হক, ইমরান, সাকির, সহ ৪০ ব্যক্তি আহত হয়। গুরুতর আহত ওসি মোস্তফা কামাল, মেয়রের বড় ভাই কামাল চৌধুরীসহ ফরহাদ চৌধুরী, আবুল খয়ের টুটুল, সোহাগ দাস, সবরুল হোসেন সাজুকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মুরাদ মিয়া চৌধুরী, শিবলু মিয়া, শাহরাজ মিয়া, আরিফুল ইসলামসহ অন্যান্যি আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা ভর্তি ও দেয়া হয়েছে। সংঘর্ষে জড়িত থাকার অভিযোগে মেয়রের বড়ভাই জামাল আহমদ চৌধুরী, কামাল চৌধুরী, চাচা ইলিয়াছ মিয়া চৌধুরীসহ পল্টু দাস, দেলোয়ার হোসেন, স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা সাদমান মাহমুদ সানি, যুবলীগ নেতা রহিম আলী, ছাত্রলীগ নেতা গিয়াস উদ্দিন, কামরুল ইসলাম শাওন ব্যবসায়ী আশরাফ রাজা চৌধুরীসহ ২৮ জনকে আটক করেছে পুলিশ। রাতে মেয়র আবুল কালাম চৌধুরীর বাসভবনে পুলিশ অভিযান চালিয়েছে বলে জানা গেছে। সহকারী পুলিশ সুপার ছাতক সার্কেল বিল্লাল আহমদ জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। ওসিসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। সংঘর্ষে জড়িত কয়েক জনকে ইতিমধ্যেই আটক করা হয়েছে। থানায় পুলিশ এসল্ট মামলা রুজু করা হয়েছে। হত্যাকান্ডের ঘটনায় অভিযোগ না পেলে পুলিশ বাদী হত্যা মামলা দায়ের করা হবে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*