বিএনপি’র সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল না: ফখরুল

সিলেটের খবর ডেস্ক : দলের নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ নেওয়ার বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে আমরা অতীতে বলেছিলাম যে, আমরা যাবো না। সেই সিদ্ধান্ত ওই মূহুর্তে আমাদের ‌(বিএনপির) সঠিক ছিলো না।

রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে সম্মিলিত ছাত্রফোরাম আয়োজিত এক স্মরণ সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ‘ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টু’র ৪র্থ শাহাদাৎ বার্ষিকী’ উপলক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, শুধু সস্তা স্লোগান দিয়ে কথা বললে চলবে না। সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। কারণ আমাদের দুই দিকেই লড়াইটা করতে হবে। ভিতরে থেকেও কথা বলতে হবে এবং বাইরে থেকেও কথা করতে হবে। এটা সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমরা অতীতে বলেছিলাম যে, আমরা যাবো না। সেই সিদ্ধান্ত ওই মূহুর্তে আমাদের সঠিক ছিল না। এটা বলতে আমার কোন দ্বিধা নেই। লড়াইটা করতে হবে। আপনাকে সব জায়গায় থেকে লড়াই করতে হবে। সংগ্রাম করতে হবে। এজন্য পথ তৈরি করে দিতে হবে।

কারাগারের ভিতরে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের ক্ষতি ঘটলে তার দায়-দায়িত্ব সরকারকেই বহন করতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি।

মির্জা ফখরুল যদি নেতাকর্মীদের সঠিক নেতৃত্ব দের তাহলে পিন্টু’র মত অনেক নেতা তৈরি হবে- স্মরণ সভায় একথা বলে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ।

এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে মির্জা ফখরুল বলেন, নেতৃবৃন্দদেরকে বলবো, এসব কথা দলীয় ফোরামে বলবেন। বাইরে দলের বিষয়ে যত কম কথা বলবেন, তত মঙ্গলজনক হবে। তবে আমাদের দল ঐক্যবদ্ধ আছে। কোন সমস্যা নেই।

তিনি বলেন, দেশে গণতন্ত্র নেই। আর আওয়ামী লীগ গণতান্ত্রিক শক্তি নয়। আওয়ামী লীগ মুখে গণতন্ত্রের কথা বলে, কিন্তু তার উল্টোটা বিশ্বাস করে। আর আওয়ামী লীগ একমাত্র দল, যারা ৭৫ সালে সকল দল নিষিদ্ধ করে দিয়ে এবং পত্রিকাগুলো বন্ধ করে দিয়ে একদলীয় শাসন বাকশাল প্রতিষ্ঠিত করেছিল। আজ আবারো সেই দল দীর্ঘ ১০ বছর ধরে বাংলাদেশের মানুষের অধিকারগুলো হরণ করে নিয়ে এবং মানুষের ওপর নির্যাতন ও নিপীড়ন করছে এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে দিয়েছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আজ বিচার ব্যবস্থা, আইন এবং নির্বাচন কমিশনকে সম্পূর্ণ দলীয়করণ করা হয়েছে। এছাড়া গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে এবং তারা (সরকার) বলে দেন, কারা কথা বলবেন, কারা কথা বলবেন না, কোন খবর পত্রিকায় আসবে- কোনটা আসবে না। সুতরাং এখানে গণতন্ত্র কাজ করতে পারে না।

পিন্টু’র প্রতি স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, পিন্টু এমনি মারা যাননি, তাকে হত্যা করা হয়েছে। অত্যন্ত সুপরিকল্পিতাবে বিনা চিকিৎসায় হত্যা করা হয়েছে।

আয়োজক সংগঠনের আহ্বায়ক নাহিদুর ইসলাম নাহিদের সভাপতিত্বে সভায় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*