নুসরাত হত্যাকাণ্ড: শাহাদাতের বোরকাটি উদ্ধার করল পিবিআই

ন্যাশনাল ডেস্ক : ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির গায়ে আগুন দেওয়ার সময় এ হত্যা মামলার অন্যতম আসামি শাহাদাত হোসেন ওরফে শামীম যে বোরকা পরে ছিলেন, তা উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ শনিবার সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার পুকুর থেকে তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) দল পরিত্যক্ত বোরকাটি উদ্ধার করেছে। এ হত্যার ঘটনায় দ্বিতীয় দফায় দুই দিনের রিমান্ডে থাকা শাহাদাতকে নিয়েই এ অভিযান চালায় পুলিশ।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক মো. শাহ আলম বোরকা উদ্ধারের তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

পিবিআইয়ের পরিদর্শক মো. শাহ আলম বলেন, রিমান্ডে থাকা মামলার আসামি শাহাদাত হোসেন ওরফে শামীম ও জাবেদ হোসেনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আজ দুপুরে তাঁদের দুজনকে নিয়ে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় যায় পিবিআই। এ সময় অভিযান চালিয়ে মাদ্রাসার পুকুর থেকে শাহাদাতের পরিহিত বোরকাটি উদ্ধার করা হয়েছে। পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মনিরুজ্জামান, পরিদর্শক মো. মোনায়েম হোসেন, পরিদর্শক লুৎফুর রহমানসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরে তাদের দুজনকে ফেনীর আদালতে হাজির করা হয়।

অগ্নিদগ্ধ নুসরাত জাহান রাফি ১০ এপ্রিল রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা যান। ৬ এপ্রিল সকালে আলিম পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় যান নুসরাত। কয়েকজন তাঁকে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে করা মামলা তুলে নিতে চাপ দেন। তিনি অস্বীকৃতি জানালে তাঁর গায়ে আগুন দেওয়া হয়। এ ঘটনায় অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা, পৌর কাউন্সিলর মাকসুদ আলমসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন রাফির বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান। এর আগে ওই ছাত্রীকে নিজ কক্ষে নিয়ে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। যৌন নিপীড়নের ঘটনায় নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন। ওই মামলা তুলে নিতে অস্বীকৃতি জানানোয় নুসরাতের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। নুসরাতকে অগ্নিদগ্ধ করে হত্যার ঘটনা সারা দেশে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি করে। এ হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত আটজনসহ ২১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বোরকা পরে পাঁচজন নুসরাতের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেন। তাদের মধ্যে দুজন ছিলেন নারী।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*